মোঃ রিপন শেখ
বহুলপঠিত একটি কবিতার ছন্দ “জন্মই আমার আজন্ম পাপ” আমি এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে উচ্চারণ করি জন্মই আমার আজন্ম সুখ। আমার বোধশক্তি জাগ্রত হওয়ার পর থেকেই দেখেছি আমার ধর্মপ্রাণ অসহায় পিতা সেই কাক ডাকা ভোরে অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করার জন্য বাহির হতেন এবং সারাদিন কায়িক পরিশ্রম করে সন্ধ্যায় অর্জিত উপার্জন দ্বারা পরিবারের সদস্যদের ডাল ভাত এর সংস্থান করতেন। আমার বাবা ছিলেন একজন সহজ সরল ও কাজ পাগল মানুষ। তিনি বলতেন যদি সততা ও ইচ্ছা শক্তি থাকে তবে পরিশ্রম করলে কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ হয়।
আমি মোঃ রিপন শেখ। সর্বপ্রকার বই ও ষ্টেশনারী মালের খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতা। ৮ বছর আগেও একটি বই-পুস্তক ব্যবসায়ী দোকানের কর্মচারী ছিলাম। পরবর্তীতে আমার দক্ষতা ও দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ এর আন্তরিক সহযোগিতায় এই দুই মিলে আজ আমি একজন সফল ব্যবসায়ী। আমি পশ্চাদপদ দূর্গম অঞ্চল ঝরঝরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল লতিফ শেখ এর ২য় পুত্র। আমরা ৫ ভাই ও ৫ বোন। অনেক বড় সংসার। বাবা ছিলেন বর্গাচাষী আর বড় ভাই পাথর শ্রমিকের কাজ করতেন। আমাদের এই দুঃসময়ে আমি নিজ উদ্যোগে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ১৯৯০ সালে সুনামগঞ্জ শহরে একটি বইয়ের দোকানে স্বল্প বেতনে কর্মচারী হিসাবে কর্মজীবন শুরু করি এবং এসএসসি পরীক্ষা পাস করি। বেতনের অল্প টাকা দিয়ে সংসারে সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছিল না। ২০০৭ সালে স্বল্প পূঁজি দিয়ে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বই-পুস্তকের ব্যবসা শুরু করি। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম পাঞ্জেরী লাইব্রেরী। মূলধনের অভাবে দোকানে পর্যাপ্ত মালামাল না থাকায় ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছিলাম না। হঠাৎ একদিন আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ সুনামগঞ্জ শাখার একজন বিনিয়োগ কর্মকর্তা জনাব জহিনূর মিয়া উপস্থিত হয়ে সালাম বিনিময় করার পর আমার ব্যবসার অবস্থা জানতে চাইলেন। আমি উনাকে বললাম অনেক স্বপ্ন নিয়ে দোকানটি শুরু করেছিলাম। ইচ্ছে ছিল ব্যবসায় আয় উন্নতি করে কৃষক পিতার মুখে হাসি ফুটাবো আর ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করব। কিন্তু মূলধনের অভাবে ঠিকমত ব্যবসা করতে পারছি না। আমার কথা শুনে তিনি বললেন দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে পারে। পরের দিন ঐ বিনিয়োগ কর্মকর্তা আমার দোকানে এলেন তার শাখার ২য় কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে। উনারা আমার ব্যবসার দৈনিক ক্রয় বিক্রয়ের অবস্থা বুঝে আমার সাথে কথা বলে জানালেন যে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ সব সময় সৎ ও কর্মঠ ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে জামানত বিহীন বিনিয়োগ সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে বিনিয়োগের টাকা দৈনিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। একথা শুনে আমি খুশি হলাম। ব্যবস্থাপক সাহেব আমার কাছে জানতে চাইলেন আমি কত টাকা বিনিয়োগ নিতে চাই। আমি বললাম যে- ১ লক্ষ টাকা হলে আমি আমার ব্যবসা গুছিয়ে নিতে পারব এবং ব্যাংক থেকে আমি ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ পেলাম। এ যাবৎ আমি ১২ বার বিনিযোগ নিয়েছি এবং নির্ধারিত কিস্তি নিয়মিত ভাবে পরিশোধ করেছি। বর্তমানে আমার চলমান বিনিয়োগটি ১০.০০ লক্ষ টাকায় উন্নীত হয়েছে। বিনিয়োগের টাকা সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে সংসারের অভাব অনটন কাটিয়ে উঠেছি। দুই ভাইকে বিদেশে পাঠিয়েছি, ৫ বোন কে আল্লাহর রহমতে স্বচ্ছল পরিবারে বিয়ে দিয়েছি এবং শহরে মাথা গুজার জন্য একটি বসত ভিট ক্রয় করেছি। বর্তমানে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের তুলনায় মালামালও যথেষ্ট। প্রায় ৪ বছর আগে বাবা মারা গেছেন। বাবাকে হজ্জ করাতে পারিনি তবে আগামীতে সুবিধাজনক সময়ে মাকে হজ্জ করতে পাঠাবো ইন্শাআল্লাহ্। বর্তমানে আমি সুনামগঞ্জ শহরের একজন সফল ব্যবসায়ী। আল্লাহতালার অশেষ মেহেরবানী এবং ডিএমসিবি এর আর্থিক সহযোগিতায় আমার লালিত স্বপ্ন আজ বাস্তবায়ন হয়েছে। দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ এর কাছ থেকে অন্যান্য সৎ ব্যবসায়ীরা সহজ শর্তে বিনিয়োগ গ্রহণ করে নিজে লাভবান হন এবং দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
অনুলিখনঃ নৃপেশ তালুকদার নানু (ব্যাংকার) বিজ্ঞাপন