বিজয় রায়, ছাতক
ছাতকের নোয়ারাই-বাংলাবাজার-বাঁশতলা ও নোয়ারাই-নরসিংপুর সড়ক ছাতক-দোয়ারা উপজেলার অন্তত ৩টি ইউনিয়নের মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সড়কগুলো শুকনো মৌসুমে ডাস্ট ও বর্ষায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে সড়ক দু’টি সংস্কারের জোরালো দাবি করে আসছেন ৩ ইউনিয়নের ভুক্তভোগী মানুষ। কিন্তু সড়ক সংস্কার কাজের এলাবাসীর দাবি সংশ্লিষ্টদের কর্ণপাত করাতে না পারায় অবহেলা ও অনাদরে পড়ে আছে নোয়ারাই-বাংলাবাজার-বাঁশতলা ও নোয়ারাই-নরসিংপুর সড়ক। মুক্তিযুদ্ধের ৫নং সাব-সেক্টর ও স্বাধীনতা যুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর হিসেবে ঐতিহাসিক স্থান হকনগরকে পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার কার্যক্রম চললেও যাতায়াতের একমাত্র সড়ক নোয়ারাই-বাঁশতলা সড়কটি মেরামতে সংশ্লিষ্টদের কোন আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যে কারণে নরসিংপুর ও বাংলাবাজার ইউনিয়কে একটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল বলে ভাবতে শুরু করেছেন এসব এলাকার মানুষ।
প্রায় ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নোয়ারাই-বাংলাবাজার-বাঁশতলা ও প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ নোয়ারাই-নরসিংপুর এবং প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বালিউরা-চৌমুনীবাজার সড়ক বর্ষা এলেই পরিণত হয় মরণ ফাঁদে। প্রতিটি সড়কই ভাঙ্গা-চুরা ও বড়-বড় গর্তে ভরপুর। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে সড়ক গুলো হয়ে উঠে ভয়াবহ। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এসব সড়কে। ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সীমান্ত ঘেঁষা ছাতকের নোয়ারাই, দোয়রা উপজেলা বাংলাবাজার ইউনিয়ন ও নরসিংপুর ইউনিয়নের দেড়শতাধিক গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান সড়ক নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে ৩টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে আসছে এ সড়ক দিয়ে। ভুক্তভোগিরা নিয়মিত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমলে নিচ্ছেন না। ফলে খানাখন্দে ভরপুর সড়ক দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছে ভুক্তভোগী শ’শ’ মানুষ। সড়কটি ভাঙ্গা-চুরার কারণে যানবাহন ভাড়াও অধিক হারে গুনতে হয়েছে যাত্রীদের। দিনেরবেলা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাত্রী সাধারণ যাতায়াত করলেও সন্ধ্যার পর বাংলাবাজার ও নরসিংপুর যাওয়ার মতো কোন যানবাহন পাওয়া অনেকটা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এসব সড়ক দিয়ে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে অটোটেম্পু, ফোরষ্ট্রোক, পাওয়ার টিলার ও মোটরসাইকেল। ভারী যানবাহন চলাচল না করলেও সড়কের বেহাল দশা ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চায় এ অঞ্চলের মানুষ। নোয়ারাই থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত প্রায় ১৪কিলোমিটার সড়কে রয়েছে ২২টি ব্রীজ-কালভার্ড। প্রত্যেকটি ব্রীজ-কালভার্ডের উভয় পাশের এপ্রোচ দেবে যাওয়ায় যানবাহন উঠা-নামার সময় মারাত্মক বেগ পেতে হয় চালকদের। একদিকে লিচুর গ্রাম নামে খ্যাত মানিকপুরসহ আশপাশের ৭-৮টি গ্রামের মানুষ মাত্র ৪ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরনের দাবি তুলে আসছে কয়েক বছর ধরে। যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হয়ায় প্রতি বছর লিচুর ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব গ্রামের লিচু চাষিরা।
নরসিংপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মনোয়ার হোসন মনর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা কোন রাষ্ট্র ও জনপ্রতিনিধির নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। যে কারণে তাদের দুঃখের কথা শোনারও কেউ নেই। শুধু ভোট দেয়ার অধিকার থাকলেও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগের কোন অধিকার নেই তাদের।
বাংলাবাজার এলাকার পত্রিকা হকার ২২ বছর বয়সী সাহেদ মিয়া জানান, শিশু অবস্থা থেকেই নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়ক এ অবস্থায়ই দেখে আসছি। প্রতিদিন জীবনের ঝূঁকি নিয়ে ছাতক থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করে বাংলাবাজার এলাকার পাঠকদের হাতে তুলে দিচ্ছি। সড়কের বেহাল দশার কথা একাধিকবার পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও কেউ বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।
টেম্পু চালক নিজাম উদ্দিন ও ফোরষ্ট্রোক চালক লালুশাহ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করছেন। রাস্তার বেহাল দশার কারণে গাড়ীও ঘনঘন মেরামত করতে হয়। সংসারের ভরন-পোষনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে গাড়ী চালাছেন তারা।
নোয়ারাই ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আব্দুল খালেক রাজা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়কটি সংস্কার না হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাকর। অতীতে দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণেই এলাকাবাসী দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়কের নোয়ারাই অংশের সংস্কার কাজ তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন বলে জানান।
উপজেলা প্রকৌশলী সমরেন্দ্র দাস তালুকদার জানান, নোয়ারাই-বালিউড়া পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে দরপত্র আহবান করা হবে। বর্ষা মৌসুমের শেষের দিকে কাজ শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।