- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

একের ভিতর আট দিরাইয়ে প্রাইমারি শিক্ষার হাল!

টিপু সুলতান, দিরাই
মনিটরিংয়ের কারণে হাওর এলাকা দিরাইয়ে প্রাইমারি শিক্ষায় বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। সুষ্ঠুভাবে স্কুল পরিচালিত হচ্ছে কি-না সেই কাজ মনিটরিং করে থাকেন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তারা (এটিও)। অথচ এখানে ৮ জন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার স্থলে আছেন মাত্র একজন। তাকে ১৫৯ টি স্কুলের তদারকি কাজ একাই করতে হচ্ছে। তবে কাগজ-কলমে আরেকজন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা থাকলেও দীর্ঘ ৫ মাস যাবত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক প্রাইমারি শিক্ষা অধিদপ্তরের  
 পরিচালকের কাছ থেকে চিকিৎসাজনিত কারণ দেখিয়ে ছুটি নেন। এর পর থেকে অদ্যাবধি কর্মস্থলে ফেরেন নি। লোকবলের অভাবে ৮ জন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার কাজ করতে হচ্ছে, একমাত্র সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার রায়কে। যার ফলে অনেক শিক্ষকরা বর্ষা মৌসুমের অজুহাত দেখিয়ে যেমন দেরীতে স্কুলে আসছেন, তেমনি সময়-সীমার অনেক আগেই স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছেন ছুটির ঘন্টা বাজিয়ে। এতে করে শিক্ষার্থী’র উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। যা অভিভাবকদের অনেকটা হতাশ করছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রতি রঞ্জন দাশ বলেন, সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকলে যেমনটা হয় এখানে তেমনটাই হচ্ছে।  কারণ বিদ্যালয়গুলো যদি পরিদর্শন করা না হয় তাহলে সময়সূচী অনুযায়ী তা চলে না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বরদিন্দু দাশ বলেন, সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় দাপ্তরিক কাজে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।
উপ-পরিচালকের মাধ্যমে লোকবলের বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে  দাবি করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হযরত আলী বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে যেসব সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তাকে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় বদলী করা হয় তাদের অনেকেই সেখানে থাকতে চান না। ৪/৫ মাসের মধ্যেই তদবির করে অন্যত্র চলে যান। তিনি জানান, সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক মেডিকেল লিভে আছেন এবং দু’মাস অন্তর অন্তর ডাক্তারী সনদের মাধ্যমে তিনি তার অসুস্থতার কথা আমাদের অবগত করছেন।

  • [১]