- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

এক বেড়িবাঁধে তিন উপকার পাবে এলাকাবাসী

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নবীনগর এলাকায় সুরমা নদীর তীরে থাকা লোকজন প্রায় প্রতি বছর বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের শিকার হন। নদীতে ঢল আসলেই তীর উপচে তীব্র পানির ¯্রােতন আঘাত হানে মানুষের ঘরবাড়ি, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনায়। এ কারণে ক্ষতি হয় পাশের কুরবাননগর ইউনিয়নের ধরারগাঁও ও আশপাশের কয়েকটি বিলের বোরো ফসলের। এজন্য সুরমা নদীর ধারারগাঁও খেয়াঘাটের দক্ষিণ দিকে আগে বেড়িবাঁধের কাজ হয়েছে। কিন্ত উত্তর দিকে থাকা পুরোনো বেড়িবাঁধটি সংস্কার না হওয়ায় সেদিকের মানুষের সমস্যা রয়ে যায়।
খেয়াঘাটের উত্তরপাশে থাকা পার্ক ও আশপাশের এলাকা নদীভাঙন থেকে রক্ষায় কয়েক বছর আগে জলবায়ু তহবিলের মাধ্যমে কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তখন পার্কের ভিতরে পড়ে যায় পুরোনো বেড়িবাঁধ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বাঁধের উচ্চতা কমে যায়। এতে পাহাড়ি ঢল আসলেই এই বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে ফসল, সড়ক ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়। কিন্তু এলাকাবাসীর বার বার দাবি জানিয়ে আসলেও সেটি সংস্কার হয়নি।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এবার তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই বাঁধের সংস্কার কাজ হচ্ছে। মাটি ফেলে বাড়ানো হচ্ছে বাধের উচ্চতা। এবার এই বাঁধের কাজ হওয়ায় এলাকার বোরো ফসল রক্ষার পাশাপাশি পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কবল থেকে মানুষের ঘরাবাড়ি ও সড়ক রক্ষা পাবে।
এলাকাবাসী বলছেন, এই বাঁধটি ফসল রক্ষায় পুরাপুরি ভুমিকা রাখবে। গত দুই বছর এদিকে বন্যার পানি প্রবেশ করে হাওর ও গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবার এই বেরীবাঁধের কারণে রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি ও ফসলী জমি রক্ষা পাবে বলে জানান স্থানীয়রা।
গত বছর এই বেরীবাঁধ ধারারগাঁও রইছ উদ্দিনের বাড়ি হতে নবীনগর এলাকায় সুমন ‘স’ মিল পর্যন্ত নির্মাণ হলেও ধারারগাঁও খেয়াঘাট ও পার্ক এলাকায় বেরীবাঁধ নির্মাণ হয় নি। বন্যায় বছর বছর ক্ষয় হওয়ায় বাঁধের উপর দিয়ে এবং খেয়াঘাটের পাকা সড়কে পানি প্রবেশ করে নবীনগরের মেইন সড়ক, ধারারগাঁও ও খাইমতর গ্রামের পাকা সড়কের, ঘর-বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবার পার্কের পুরাতন সড়কের উপর এবং খেয়াঘাটে যাত্রী ও গাড়ি চলাচলের সুবিধা রেখে বেরীবাঁধ নির্মাণ হয়েছে। বন্যার পানির সকল প্রবেশ পথ বন্ধ হওয়ায় ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও হাওরের ফসল রক্ষা পাবে এমন মন্তব্য স্থানীয় একাধিক কৃষকের।
ধারারগাঁওয়ের বাসিন্দা কৃষক শফিক আহমদ, সাকির হোসেন, মতিউর রহমান, জুনাব আলীসহ অনেকে জানান, ধারারগাঁও, খেয়াঘাট, পার্ক এলাকা এবং নবীনগর সুরমা নদীর তীরের পুরো এলাকায় এবার বেরীবাঁধ নির্মাণ হওয়ায় গ্রামের পাশে ছনুয়া বিল, উড়াই বিল, বদি বিল, পোহাইলেরপাড়, বাওন বিল, লম্বাজাই ও দেখার হাওরের ফসল রক্ষা পাবে। একই সাথে ফসল রক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে মানুষ চলাচলের সুবিধা তৈরি হয়েছে।
গত বছর পার্ক এলাকা ও খেয়াঘাটের পাকা সড়ক দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি ও হাওরের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ধারারগাঁও গ্রামের কৃষক হারুনুর রশিদ জানান, পার্ক ও খেয়াঘাট এলাকায় বেরীবাঁধ হওয়ায় বন্যার পানি প্রবেশ করবে না। ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও ফসল রক্ষা পাবে।
কৃষক শহীদুল ইসলাম জানান, পার্কের উত্তর দিকে নদীর তীর এলাকায় নদী ভাঙন থাকায় বেরীবাঁধ নির্মাণ না করে পার্কের দক্ষিণ দিকে বেরীবাঁধ নির্মাণ হয়েছে। বন্যায় বেরীবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশংকা কম।
ধারারগাঁও খেয়াঘাটের ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন জানান, গত বছর এই বেরীবাঁধ না থাকায় আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।


ব্যবসায়ী নুর আলী জানান, এবার এই বেরী বাঁধ হওয়ায় বন্যার করাল গ্রাস থেকে বাঁচবো আমরা ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী ফয়েজ মিয়া জানান, খেয়াঘাট এলাকা অনেকটা নিচু থাকায় প্রতি বছর পানি ঢুকে এলাকার ক্ষতি হতো। এবার বেরীবাঁধ হওয়ায় পানি ঢুকবে না।
কুরবাননগর ইউনিয়নের ১৫ নম্বর পিআইসি’র সদস্য সচিব সৈয়দ আহমদ জানান, এবারের বেরীবাঁধ ভালোমানের মাটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সহজে ভাঙবে না।
কুরবাননগর ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম বলেন, গত তিন বছর ধারারগাঁও পার্ক এবং খেয়াঘাট এলাকায় বেরীবাঁধ না দেয়ায় পানি ঢুকে ফসলি জমি ও রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এবার স্থানীয় কৃষকদের মতামতের ভিত্তিতে ভালমানের মাটি দিয়ে বেরীবাঁধ নির্মাণ হয়েছে।
কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল বরকত বলেন, বেরীবাঁধ নির্মাণ হয়েছে মানুষ চলাচলের পাশাপাশি কৃষকের ফসল রক্ষার জন্য। গত বছর বন্যায় এই এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবার এই বেরীবাঁধ ফসল রক্ষায় ভুমিকা রাখবে। তাছাড়া যাতায়াত সড়ক হিসাবে ব্যবহার হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন, কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিবছর রেজুলেশনের মাধ্যমে এই বেরীবাঁধ নির্মাণের জন্য কৃষকদের দাবি নিয়ে আসেন। কিন্তু আমরা দেই নি। এবার যখন পার্কের এবং খেয়াঘাটের উন্মুক্ত জায়গা দিয়ে পানি প্রবেশ করে মানুষের ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও ফসলী জমির ক্ষতির বিষয় উল্লেখ করে রেজুলেশন দেয়া হয়েছে, তখন সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে বেরীবাঁধ নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই বেরীবাঁধ নির্মাণে এলাকাবাসীর দাবি ছিল। এই বাঁধে তিন উপকার পাবেন এলাকাবাসী।

  • [১]