- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

এক সড়কের কাজে এত নাটকীয়তা কেন?

১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য দুই দফায় প্রায় ৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়ার পরও সড়কের কাজ শেষ হয়নি। নানা টালবাহানা চলছে এই সড়কের সংস্কার নিয়ে ২০১৫ সনের মে মাস থেকে অদ্যাবধি। সড়কটির নাম সৈয়দপুর-নয়াবন্দর-কাঠালখাই-গোয়ালাবাজার সড়ক। জগন্নাথপুর উপজেলায় এই সড়কের অবস্থান। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সংস্কারের জন্য প্রথম দফায় ২০১৫ সনের মে মাসে ৪ কোটি ২০ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কাজ শেষ করার মেয়াদ ছিল ওই সনের ২৫ জুন। সড়কের ৩৫ ভাগ কাজ করার পর ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। বারবার ঠিকাদারকে বলেও যখন কাজ করানো যাচ্ছিল না তখন এলজিইডি ঠিকাদারের সাথে চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই অবস্থায় ঠিকাদার চলে গেলেন হাইকোর্টে। মেয়াদ বাড়ালেন কাজ শেষ করার। আদালত ২০১৭ সনের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিলেন। এরপর ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। কিন্তু কাজের ৫৬ শতাংশ শেষ করে আবারও কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। ততদিনে ঠিকাদার প্রায় ২ কোটি টাকা বিল তুলে নিয়েছেন। ঠিকাদার আবারও সময় বাড়ানোর আবেদন করেন হাইকোর্টে। সে দফায় আদালত ২০১৭ সনের ৩০ মে পর্যন্ত সময় বাড়ান। কিন্তু আদালত সময় বাড়ালেও ঠিকাদার আর কাজ শেষ করার কোনো উদ্যোগ নেননি। ততদিনে বিল তুলে নেয়া ২ কোটি টাকায় সংস্কার হওয়া সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। এদিকে কাজ শেষ না করায় আদালতের নতুন নির্দেশে ঠিকাদারের সাথে চুক্তি বাতিল করা হয়। আবার সড়কের সংস্কার কাজের নতুন প্রাক্কলন করে ৪ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা ব্যয় সীমায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। চলতি সনের ৩০ নভেম্বর নতুন ঠিকাদারের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, নতুন ঠিকাদারও কাজের মাত্র ৪০ ভাগ শেষ করেছেন। তিনিও চলতি বিল বাবদ ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। এখন সড়কের কাজ বন্ধ। নির্ধারিত ৩০ নভেম্বর শেষ হতে আর মাত্র ৫ দিন বাকি। এই সময়ে কাজ শেষ করার কোনো প্রশ্নই উঠে না। আদৌ সড়কে ঠিকাদার কাজ আর করবেন কিনা সেটিও অস্পষ্ট। এদিকে সড়কের সংস্কার কাজ নিয়ে ২০১৫ সন থেকে এই পর্যন্ত নানা নাটকীয়তা ও ঘটনার ঘনঘটা ঘটার ফাঁকতালে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও মানুষজনের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। গতকাল এই সড়ক নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। উপরের তথ্যগুলো ওই প্রতিবেদন থেকে আহরিত।
ছয় মাসের মধ্যে যে সড়কের কাজ শেষ করার কথা ৪ বছরেও সেই কাজ শেষ করতে না পারা আমাদের সরকারি কর্মসম্পাদনের মানগত প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এখানে ঠিকাদারের দুর্বলতা, গাফিলতি, বিচ্যুতি যেমন আছে তেমনি রয়েছে এলজিইডি’র তদারকি দুর্বলতা। ঠিকাদাররা ঠিকই চলতি বিলের নামে টাকা তোলে নিয়েছেন। কিন্তু খন্ডিত কাজ করায় এই কাজ আর কোনো কাজে লাগেনি। এছাড়া ঠিকাদাররা বারবার কর্মসম্পাদনে ব্যর্থতা দেখিয়ে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিলের মামুলি বিষয় ছাড়া কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হতে দেখা যায়নি। ঠিকাদার কিছু কাজ শেষ করে কেন কাজ শেষ করছেন না? এই প্রশ্নের উত্তর জানা যায় না। হয় ঠিকাদার হিসাব করে দেখেছেন, বাকি কাজ শেষ করা তার জন্য লাভজনক হবে না। তাই তিনি সুবিধামত কাজ করে বিল তোলে চম্পট দিয়েছেন। এই জায়গায়ই ঠিকাদারের দায়-দায়িত্ব নিরুপিত হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করলাম ঠিকাদারকে কাজ শেষ করতে বাধ্য করানো যায়নি। স্পষ্টতই বুঝা গেছে, এলজিইডির চাইতে ঠিকাদারই অধিকতর ক্ষমতাবান।
আমরা আশা করব বর্ণিত সড়কে কাজ শেষ না হওয়ার পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

  • [১]