- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

এখন খড় সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষকেরা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে কৃষকরা এখন খড় সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। বৈশাখের ধান তোলা প্রায় শেষ পর্যায়ে। অধিকাংশ কৃষক ধান কেটে, শুকিয়ে বস্তা বা টালাই ভর্তি করে রাখলেও এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছেন খড় তোলার কাজে। গোÑখাদ্য হিসেবে সংগ্রহ করা এই সব খড় শুকানোর কাজে প্রায় সময় রাস্তায় বা রাস্তার ধারে দেখা যায় অনেক কৃষককেই। দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আঞ্চলিক মহাসড়ক, পাগলা থেকে জগন্নাথপুর হয়ে রাণীগঞ্জ সড়কসহ ‘ভিলেজ রোড’ বা গ্রামীণ রাস্তায় অহরহ দেখা মিলছে খড় শুকানো এসব কৃষকদের। কয়েক বছর পর ধান ঘরে তুলায় বেজায় খুশি কৃষকরা। এবার ধানের পর গরুর জন্যও খড় তুলছেন তারা।
কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ধান তুলার পর তাদের আরেকটি লক্ষ থাকে তারা গরুর খাদ্য কিভাবে সংগ্রহ করবেন। যদি ধান ভালো ভাবে তোলতে পারেন তবে গরুর খাদ্যও ভালো ভাবে তোলা যায়। তবে মাঝে মাঝে বৃষ্টির জন্য একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তারা। এ ক’দিন টানা আবহাওয়া ভালো হওয়ায় এবার তারা ধান সম্পূর্ণ তোলতে সক্ষম হয়েছেন। এখন তারা গরুর খাদ্য সংগ্রহ করার জন্য ধান ঝাড়ানো খড়ের অংশটুকুকে ভালো করে শুকিয়ে নিচ্ছেন। যেনো আগামী বর্ষার মৌসুমে গরুর খাদ্য’র জন্য দুশ্চিন্তায় পড়তে না হয়। কৃষকরা জানান, এমনও দিন গিয়েছে বর্ষার মৌসুমে শুকনো খাবারের অভাবে আমাদের পালিত গরুর মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।
পশ্চিম পাগলার ইনাতনগর গ্রামের আনর আলী, রিয়াজুল হক ও আবদুস সত্তার নামের তিনজন কৃষক এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘খুব শান্তিতে ধান তুলেছি। মাঝখানে বৃষ্টির জন্য ধানে চারা গজালেও এখন আর সেটা নেই। আমরা শান্তিতেই আছি। আমাদের মাথায় এখন চিন্তা আমাদের গরুর খাদ্য কিভাবে সংরক্ষণ করবো। সামনের বর্ষায় এই খাদ্য না যোগার থাকলে আমাদের গরু বাঁচিয়ে রাখতে কষ্ট হবে।’
শিমুলবাঁক ইউনিয়নের শিমুলবাঁক গ্রামের কৃষক আশিক মিয়া ও নোয়াখালীর জামলাবাজ গ্রামের ফরিদ আহমদ বলেন, ‘গরুর খাদ্য’র কতটুকু দরকার আমরা তখনই বুঝি যখন গো-খাদ্যের অভাব পড়ে। তাই আগে থেকেই এই প্রয়োজনীয় জিনিসটি আমরা সংগ্রহ করে রাখি।’

  • [১]