জেসমিন সাদিক
(পূর্ব প্রকাশের পর)
ছত্তার মিয়ার সনে সাক্ষাত
আম্মা এই লোক যাওয়ার পর আরও পাথর হয়ে যান। আর একটু চঞ্চলও। ভীত সন্ত্রস্ত। সোনা চাচার গমগমে হাসিও উধাও। আম্মাকে নিয়ে কি শলা পরামর্শ করেন বুঝতে পারি না। আম্মা হঠাৎ করে উজানীগাঁও যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেন। তিনি ছত্তার মিয়ার সাথে দেখা করবেন। ছত্তার মিয়াকে পাবেন কৈ? সে সুনামগঞ্জে শান্তি কমিটির মিটিং নিয়ে ব্যস্ত। পাক আর্মিদের সেবায় নিয়োজিত। আম্মা লোক লাগান, ছত্তার মিয়া বাড়ী আসলেই যেনো তিনি জানতে পারেন। দুই/তিনদিন পর খবর আসে ছত্তার মিয়া সাব উজানীগাঁয়ে এসেছেন। আম্মা একটা নৌকা যোগাড় করে আমাকে শাম্মীকে আর আবেদীন কে নিয়ে রওয়ানা হন। সঙ্গে ১৫/১৬ বৎসরের তালেব আলী চাচা। বাড়ী এসেই আম্মা বড় চাচীকে জানান তিনি ছত্তার মিয়ার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। যে ভাবেই হউক দেখা করতে হবে। বড় চাচী ভয় পান। বলেন যদি অপমান করে? বড় চাচা বাড়ী নাই, আর সে এখন কি মনে আছে তিনি বুঝতে পারছেন না। আগে এক রকম ছিলো। এখন উনার সাহস হচ্ছে না আম্মাকে পাঠাতে। আম্মা অনঢ়। দেখা করবেনই তার আর কোন গত্যন্তর নাই। আলতা ফুফুকে খবর দেয়া হয়। ছত্তার মিয়ার আপন চাচী। যার সুবাদে সে আমাদের ভাই। আলতা ফুফু আব্বার ছোট চাচাতো বোন।
বহু বৎসর আগে বিয়ে হয়েছে। ছত্তার মিয়ার একান্নপরিবার ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে আলাদা হয়েছেন। তিনি ঐ বাড়ীতে মুক্তিযুদ্ধ লাগার পর বাপের বাড়ী নিয়ে ঝগড়া ফ্যাসাদ করতেই থাকেন। তাকে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে কিনা তাও আলোচনা হয়। ফুফু এসে সব শুনে বলেন, ছত্তার মিয়ার ছোট বৌ সুনামগঞ্জে বাসায়। বড় বৌকে তিনি জিজ্ঞেস করে এসে আম্মাকে নিয়ে যাবেন সে ঘরে আসলে। দুপুরের দিকে ফুফু দৌঁড়ে আসেন, শাহানার মা তাড়াতাড়ি আয় নইলে বের হয়ে যাবে। আমাকে শাম্মীকে আবেদীনকে নিয়ে মধ্য দুপুরে আলতা ফুফুর সাথে আম্মা আমাদের এলাকার ত্রাস সাহেব ছত্তার মিয়ার সাথে সাক্ষাতের জন্য রওয়ানা হন। সাদা ছোট্ট নীল পাড় বিধবার শাড়ী গায়ে।
ছত্তার মিয়ার বাড়ী আমাদের বাড়ী থেকে বেশী দূরে নয় তার বাড়ীর পর মধ্যে একটা বড়হাটি এরপর আমাদের বাড়ী। আমরা যখন সাহেবের বাড়ী যাই তখন দুপুরের খাবার তার সামনে দেয়া হয়েছে সে খেতে বসেছে। সারা টেবিল জুড়ে হরেক পদের রান্না। পরিবেশনে তার বড় বৌ। আগেই তার বৌ এর কাছ থেকে আম্মা দেখা করতে চাইছেন সে জেনে গেছে। আব্বা মারা যাওয়ার পর এই তার প্রথম সাক্ষাৎ। খেতে খেতেই জিজ্ঞেস করে বড়লোকের বেটি আম্মা কি মনে করে তার বাড়ী গেছেন। সে মনে করেছে আমাদের বাসা সে গনিমতের মাল হিসাবে দখল করার বিষয়ে আম্মা কিছু বলবেন। তাই প্রথমে বেশ গম্ভীর সুরে কথা শুরু করে। নানা ভাই এখন কোথায়? দাদার খবর কিছু জানেন কিনা? এসব প্রশ্ন করতে থাকে। আম্মা স্বাভাবিক উত্তর দেন। তার চোখ দুটো আস্বাভাবিক লাল। গোসল করে খেতে বসেছে মনটা বোধহয় ভালো ছিলো। আম্মাকে সে সম্মানের সঙ্গেই কথা বলে। আমাদের খেতে বলে। আম্মা বলেন, এইমাত্র বাড়ী থেকে খেয়ে এসেছে এখন খাওয়া সম্ভব না। তিনি বিপদে পড়ে ছত্তার মিয়ার স্মরণাপন্ন হয়েছেন। সে হেসে হেসে বলে, “তোমার বাড়ীর জন্য দরবার করতে আইছো না কিতা গো চাচী?” আম্মার উত্তর,” না বাবা বাসা তুমি আইনে পাইছো নিছো নইলে অন্যও তো নিতো। তুমি নিছো আমি এক সময় যেতে পারবো। “ সে বলে অবশ্যই তুমি বেড়াতে গেলে আমার বাসায় উঠতে পারবা। আর কেউ নিলে কোনদিন উঠতেই পারতা না। আম্মা বলেন, এজন্য তিনি একটুও দু:খিত না। তিনি অন্য কারণে এসেছেন। এ লজ্জা থেকে রেহাই পেয়ে সে খুশী হয়ে যায় এবং মন খুলে কথা বলে। আম্মা তখন বলেন, আব্বা মারা যাওয়ার সময় চারিদিকে প্রচুর গুলাগুলি চোখের সামনে দেখে আবেদীনের একফোবিয়া হয়েছে বন্দুক রাইফেল দেখলে হিস্টরিয়ার মতো হয়ে ফিট হয়ে যায় তার জন্য সাহায্য চাইতে। সে খুব উৎস্কু হয় এবং সহানুভুতিশীল হয়ে কথা বলে। হয়তো আব্বার অপত্য স্নেহ তার মনে পড়ে। সে খুব আগ্রহ নিয়ে কি করতে হবে জানতে চায়। আম্মা বলেন, আমরা থাকাবস্থায় কোন রাজাকার যেনো গাগলী গ্রামে না যায়। বিশেষ করে তার চাচা মাস্টার সাব কে গাগলী গ্রামে যেতে নিষেধ করতে হবে। সে রাজী হয়। হয়তো স্মৃতিকাতর হয়, আর আব্বা তাকে কি রকম আদর করতেন তার বর্ননা দিতে থাকে। সুযোগ পেয়ে আম্মা বলেন, তিনি একটু স্বাধীন বাংলা বেতার শুনেন এ জন্য তার মাষ্টার চাচা গিয়ে নানান রকম ভয় দেখিয়ে এসেছেন, যা এতো দিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শোভন নয়। তখন সে আবার স্বরূপে ফিরে আসে।
বলে ‘চাচী তুমি বেআইনী কাজ করতে পারো না। সারা এলাকায় এই বেতার শুনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে আর তুমি এই নিয়ে দরবার করতে আমার কাছে আইছো ? ”
সে নানা ভাই প্রসঙ্গ, দাদা প্রসঙ্গ, বড় চাচা প্রসঙ্গ সব এক সাথে বলতে থাকে। একটু আগের স্মৃতি কাতরতা তার শেষ হয়ে যায়। আমাদের বাড়ীর সবাই তার বিপক্ষে তার মৃত্যু কামনা করে এ রকম কথা বলতে থাকে। তার বড় বৌ তাকে শান্ত করতে চেষ্টা করে। আম্মা চুপ করে বসে থাকেন অপরাধীর মতো। তার বক্তৃতা শেষ হলে আম্মা খুব আস্তে করে বলেন “আমি দেশের অবস্থা জানার জন্য এই রেডিও শুনি, আমার মনে হয় তুমিও শুনো।” সে চমকে উঠে। ঐ সময়ে তাকে এই কথা বলার সাহস কারো ছিলো না। আলতা ফুফু বোবা হয়ে যান। তার বড় বৌও। রাগতে গিয়ে সে চুপ করে যায়। একটু শান্ত হয়ে বলে, চাচী এই কথা আমার সামনে বলার সাহস কারও নাই তুমি বলে দিলে!
আম্মার উত্তর “ছেলে পেলে কে মা চাচীরা যা ইচ্ছা বলতে পারে। আমি এই সাহসে সত্য কথা তোমাকে বলছি। আমি জানি তুমি বুদ্ধিমান আমার কথা বুঝবে। তুমি এত্তেলাজারী করেছো কেউ এই রেডিও শুনবে না, কিন্তু লুকিয়ে চুরিয়ে এই এলাকায় কেউ শুনে না তা কি তুমি বিশ্বাস করো? আমি তোমাকে জানিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র শুনার জন্য পারমিশন নিতে এসেছি। এই অপরাধে কেউ আমার উপর যেনো জুলুম না করে, তার সাহায্য নিতে এসেছি দেশের অবস্থা জানা দরকার, আর আমার মনে হয় তোমরা যারা রাজনীতি করো তারা সবাই এই বেতার শুনো। ”
সে কতক্ষন চুপ করে থেকে স্বরূপে ফিরে আসে, তুমি কি মনে করো কয়টা গুলি ফুটাইয়া পাক অর্মির মতো এতো বড় শক্তিকে কয়েকটা ছেলে ছোকরা পরাজিত করবে ? ”
আম্মার উত্তর আমি কিছুই মনে করি না। কত বৎসর যে এই অবস্থা থাকবে তাও জানি না। শুধু কি হচ্ছে জানার জন্য শুনি। তখন সে, সুনামগঞ্জে কত বড় বড় নেতারা সারেন্ডার করতেছে, সারা দেশে কত নামী দামী নেতারা পাকিস্তানের জয়গান গাচ্ছে, সারাদেশে সব অফিস আদালত চলতেছে। পরিস্থিতি পাকিস্তান সরকার সামাল দিয়ে দিয়েছে, যারা ইন্ডিয়ায় গেছে তাদের কয়দিন ইন্ডিয়া পালবে? সবাইকে ফেরত আসতে হবে। বড় চাচা এখনও এসে তার কাছে সারেন্ডার করলেন না, সে পাক আর্মির সাথে মোলাকাত করিয়ে দিতো, নিজ গ্রামের মুরব্বী বলে চোখের চশমে সে আমাদের বাড়ী রেইড করতে পাঠায় নাই , আর পাঠাইয়াই বা কি করবে নিরিহ বড় চাচী আর যারা আছেন তাদের সাথে তার কোন বিবাদ নাই এজন্য পাঠায় না, বড় চাচীর মায়া সে ভুলে নাই, কিন্তু বড় চাচা কোন কোন গ্রামে ঘুরেন তার কাছে খবর আছে, তার ভালো মানুষীকে দুর্বলতা ভাবা ঠিক না। এ ধরনের লম্বা লেকচার ছাড়ে। তার শেষ কথা সাবাইকে সে মাফ করে দেবে কিন্তু রব্বানী কে যদি ধরতে পারে তখন তাকে ছাড়াবার জন্য যেনো কেউ তার কাছে না আসে।
আম্মা চুপ করে তার লম্বা লেকাচার শুনেন। আস্তে করে বলেন, রব্বানী যদি ধরা পড়ে তাহলে তোমাদের আইনে যা হয় তা হবে। মা চাচী হিসাবে তার জান বাঁচানোর জন্য চেষ্ঠা যতটুকু পারবো করবো, তুমি বিপদে পড়লে তার জন্যও তো চেষ্টা করবো মা চাচীর কাজই তো ছেলেদের বাঁচানোর চেষ্টা করা।
আম্মার এই শেষ কথায় তার লাল চোখ নীচে নেমে যায়। হয়তো নিজের বিপদের আঁচ সে করতে পারে, নাকি জানি না। চুপ থেকে বলে, তুমি আমার খুব প্রিয় চাচা বাবুরস্ত্রী। বড় লোকের বেটি। কিন্তু তোমার বাসায় গেলে আমি যে তোমাদের রক্তের সম্পর্কের ভাতিজা নই, বুঝতে দাও নাই। বাবুর সম্মানে তোমার আবদার আমি রাখলাম। তুমি একা স্বাধীন বাংলা বেতার শুনতে পারো। এইটা তো ঠিক, কেউ লুকাইয়া শুনলে আমি জানতে পারবো না। আমার জানা থাকলো তুমি শুনো। তোমার ঐ কথাটা আমার খুব মনে লাগলো গো চাচী, বিপদে পড়লে তুমি রব্বানীর মতো আমার জন্যও করবে। মনে রাইখ্যে গো মাই। একটা হাচা কথা কই, দেশের ভাও আমিও ভালা বুঝছি না, যদি তেমন বিপদ আসে আমার বাচ্চাগুলোরে তুমি দেইখ্য।
আম্মা তার কথা রেখেছিলেন, স্বাধীনতার পর ছত্তার মিয়ার দুই মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন। ছত্তার মিয়া ফেরার হলে তার বড় বৌ এর মেয়েরা তাদের মামা বাড়ীতে করুন জীবন যাপন করতো। তার বাড়ী পুড়ার সময় আমারই বয়সী তার এক মেয়েকে হাতে ধরে আমি সরিয়ে আমাদের বাড়ী নিয়ে গেছিলাম। তখন শুধু ছত্তার মিয়ার মেয়ে শুনলে তার বয়স কতো সে দোষী কিনা ভাবার কারও অবকাশ ছিলো না।
সে যাই হউক, পারমিশন পেয়ে আম্মা নিশ্চিন্তে গাগলী গ্রামে ফিরে যান। আর বাড়ীর লোকজনসহ স্বাধীন বাংলা বেতার শুনতে থাকেন। ছত্তার মিয়াও কথা রেখেছিলো. গাগলী গ্রামে আর রাজাকারদের হম্বিতম্বি হয়নি। আর তার মাস্টার চাচা! আম্মার ছত্তার মিয়ার সাথে দেখা করার খবর পেয়ে যায়। তার এতো বড় সাহস নাই যে ছত্তার মিয়া যাওে আশ্বাস দিয়েছে তার কোন ক্ষতি করার কথা ভাববে। এর সাথে আলতা ফুফুর বকাবকি ভাষণ শুনেও মুখো আর হয়নি। এই মাস্টার চাচার শেষ পরিণতি এখানে বলা অবশ্যক মনে করছি ।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ছত্তার মিয়া আমাদের বাসা ছেড়ে পলাতক হয়। তাকে বহু চেষ্টা করেও কেউ ১৯৭৫ সালে পূর্বে ট্রেস করতে পারেনি। তার বড় ছেলে ধরা পড়ে বহুদিন জেলে ছিলো। ৭৫ এর পরে ছাড়া পায়। আর তার মাস্টার চাচা তখনই ধরা পড়েছিলো। মেজর মোতালিব কিছু রাজাকারকে ধরেনদীর ঐ পাড়ে বন্দী করে ঘাস খাইয়েছিলেন, সেখানে ঐ ব্যক্তিও ছিলেন। মাস দুই তিন সম্ভবত। একদিন বিকালে আমাদের বাসায় কুজো হয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে এক লোক কে ঢুকতে দেখা য়ায়। আম্মা জানালা দিয়ে তাকিয়েছিলেন। লোকটাকে চিনতে পেরে লাফ দিয়ে উঠেন। আমাদের ডেকে বলেন, “এ্যাই তোদের বাপের ছোট বেলার বন্ধু চাচা এসেছে! আহা এতো দিন ঘাস খেয়ে এসেছে দুটো ভাত খাইয়ে দে।” বলে হাসতে থাকেন।
আম্মার হাসি যেনো শেষই হয় না। পর্দার আড়াল থেকে বলেন, ”তা হাত পা ভাঙছে কতটুকু? মাইরটা কেমন ছিলো? গুজা হয়ে গেলেন কেমনে? আহা! বেশী মারছে নাকি?” অর্থাৎ আম্মা যেনো খুশীতে আটখানা। সেই লোক কাইকুই করে কি উত্তর দেয় বুঝা যায় না। শুধু বলে রব্বানী। তার সাথে দেখা করা যাবে কিনা। দাদা বাসায় ছিলেন না। তাকে ছেড়ে দিছে তবুও বোধহয় আশ্বাস চায়। আমি ভাত খেতে দিই, লোকটা গোগ্রাসে গিলতে থাকে। তার ভাত খাওয়ার ধরন দেখে মনে হয় সত্যিই শুধু ঘাস খেয়েই বোধহয় এতোদিন ছিলো। সে যাই হোক খেয়ে সে বাড়ী চলে যায়। বহু বৎসর পর আম্মাকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম এই লোক কি করেছিলো? আম্মা হাসতে হাসতে বলেছিলেন, সে নাকি আম্মা স্বাধীন বাংলা বেতার শুনেন এই অপরাধে আম্মাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলো। তার কথা ছিলো সে আব্বার ছোট বেলার বন্ধু আম্মার জীবনকে মেনে যাবে তাই তাকে বিয়ে করতে হবে। যদি তাতে রাজী না হন , তাহলে পাক আর্মি নিয়ে আসবে আর নারায়নপুরের মহিলার মতো অবস্থা করে ছাড়বে। সাতদিন সময় বেঁধে দিয়েছিলো এরমধ্যে জানাতে হবে না হলে যা বলছে তাই হবে। আম্মার অপরাধ গুরুতর। শুধুমাত্র আব্বার বন্ধু বলে এই ব্যবস্থা সে নিচ্ছে। আর এ জন্যই আম্মা মরিয়া হয়ে গিয়েছিলেন ছত্তার মিয়ার সাথে দেখা করতে। তিনি বিশ্বাস করতেন ছত্তার মিয়া আর যাই করুক ঘটে বুদ্ধি আছে, আর উনাকে অপমান করবে না।
রাজাকাররা আর বন্দুক নিয়ে গাগলী গ্রামে না গেলেও বন্দুক ছাড়া আবার এসেছে। কারণ প্রথম দিন যখন এসেছিলো তখন সারা বাড়ী এরা চষে ফিরেছিলো, তখন পশ্চিমদিকের একঘরের মেয়ে গুলনেছা বাড়ী ছেড়ে পালাতে পাওে নাই। ছত্তার মিয়ার ভাই বাট্টি। সবাই তাকে বাট্টি মিয়া ডাকে। সে গুলনেছাকে দেখে ফেলে আর পছন্দ হয়ে যায়। গাগলীর তালুকদার বাড়ীর মেয়ে তুলে নেয়ার সাহস তার ছিলো না। সে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। অবশ্য সে অবিবাহিত ছিলো। ছত্তার সাবের ভাইয়ের জন্য পয়গাম নিয়ে আসার পর বিয়ে না দেয়ার সাহস এ লোকের ছিলো না। সবাইকে জিজ্ঞেস করলে সবাই বলে, বাবা বিয়ে করতে চাইছে দিয়ে দাও। তুলে যে নেয় নাই এই ভাগ্য। কাজেই বিয়ের সানাই বেজে যায়। আমরা যে অংশে থাকি তার চেয়ে বেশ দূরে। কারণ এরা আব্বার আপন মামাতো ভাইদের চাচার চাচার অংশের লোক। একই গুষ্টি। বাড়ীতে বিয়ে, আমরা ছোটরা দেঁড়াদৌঁড়ি করে যাই। আপার সঙ্গে কন্যার ভাব হয়ে ছিলো। ঐ বয়সী সবাই কন্যা সাজায়। ওরে বাবারে যত অলংকার দেয় তা দেখে আমরা হা! ২০/২৫ ভরির গয়নাই দেয়। আমরা বুঝি গনিমতের মাল। যাই হোক বিয়ে হয়ে যায়। বাড়ীতে অরেক গ্রুপ পাকিস্তান পন্থী মানসিকতার লোক যোগ হয়। আমরা আরও সাবধান হয়ে যাই।
(চলবে)