- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

এগারো বছরের মেয়ের চোখে মুক্তিযুদ্ধ

জেসমিন সাদিক
(পূর্ব প্রকাশের পর)
আমার নানার রক্ত শ্রম গেছে এই বাসা তৈরীতে। সেখানে দাঁড়িয়ে অন্যদের নানান প্রশ্ন কেন এসেছি? কোথায় উঠেছি? কয়দিন থাকবো? আমি অতিষ্ঠ হয়ে যাই, শুধু ফ্যালফ্যাল চোখে নিজেদের জিনিস কিছু আছে কিনা খুঁজতে চেষ্টা করি। আম্মার খাট-পালঙ্ক, আলমারী সবই আছে, তারা নিজের বলে ব্যবহার করছে। কিন্তু অন্য কোন জিনিস নাই। কোন ট্রাঙ্ক নাই, আমাদের ফেলে যাওয়া কাপড় চোপড় নাই। আমাদের আলনায় তাদের শাড়ী সাজানো। আলমারীতে শাড়ী। আব্বার কালো আলমারী ভরা বই ছিলো, আছে কিনা জানি না। আব্বার সেক্রেটারী টেবিলটা জায়গায়ই আছে। সেখানে তাদের পড়ার বই। আমার আব্বার বসার কাঠের চেয়ারটা যেটা বারন্দায় পাতা থাকতো তা ঘরের ভেতর। আমি শুধু দু’চোখ ভরে দেখি। ছত্তার মিয়া দিবা নিদ্রায় ছিলো মনে হয়। আমাকে পোর্টিকোতে বসিয়ে জেরা করা হচ্ছিলো। ছত্তার মিয়া উঠে আসে, আর আমাকে দেখে উল্লসিত হয়। সদ্য অতীতে আম্মার সাথে মোলাকাতে আমি ছিলাম। হয়তো তার দাওয়াত দেয়ার কথা মনে পড়ে। আর বলে বসে “এই জছমিন তুই এই বাসায় থাক আর কোথাও যেতে হবে না।” আমি না না করি। খালাম্মার বাসায় উঠেছি উনারা চিন্তা করবেন জানাই। কিন্তু সে ধমক দেয়। তার ধমকে আমি ডরাই। আদর করতেছে না থাকলে যদি ক্ষতি করে। সে তার বৌ, মেয়েকে আমাকে যত্ন করতে বলে। আব্বা তাকে এই বাসায় আসলে কত আদর করতেন তার ফিরিস্তি দেয়। আমি গলে যাই। আসলে নিজ বাসায় থাকার লোভ আমাকে উৎসাহিত করে। আমি আবার বাবলুদের বাসায় গিয়ে খালাম্মাকে বলে দুইটা জামা নিয়ে চলে আসি। খালাম্মা বাধা দেন আমি তখন বলি আমার টাকা তুলা হয়ে গেছে, এখন বাড়ী যেতে হলে এদের সনে যেতে পারবো। কালই আমি বাড়ী চলে যাবো। যাই হউক খালাম্মাকে রাজী করিয়ে নিজ বাসায় থাকার লালসায় চলে আসি।
নিজ বাসায় পরবাসী ও পাঞ্জাবী দর্শন
বাসায় থাকার লোভে চলে তো আসলাম, কিন্তু এসে বুঝলাম কি ভুল করেছি। এই বাসা যে এখন আমাদের নাই তা জেনেও এভাবে আসা আমার উচিত হয় নি তা সেই রাত্রিতেই বুঝতে পারি। আমি মনে মনে আমাদের ফেলে যাওয়া জিনিসপত্র খুঁজতে থাকি। ছত্তার মিয়ার মেয়ে বকুলকে জিজ্ঞেস করি তারা যখন আসে তখন বাসার জিনিসপত্র ফেলে দিয়েছে কিনা? সে তাচ্ছিল্য ভরে জানায়, পাঞ্জাবীরা এই বাসা পুড়ে ফেলতে চাচ্ছিলো তার বাপ এই বাসা নিবে বলে বাঁচিয়েছে। পাঞ্জাবীরা বাসা লুট করেছে, আমাদের টেলিভিশন নিয়ে গেছে, তার বাপ নিজের জন্য রাখতে চাইছিলো দেয় নাই। অন্য মানুষেরা কিছু নিছে আর যা ছেড়াফাড়া ছিলো বাংলা ঘরে রেখে দিছে। এখন যা আছে সব তাদের। ফার্নিচারগুলো যে আমাদের তা বুঝেও আমি কিছু বলি না। বাংলা ঘরে গিয়ে আমি স্মৃতি হাতরাই। আমার বাবার স্যুট টেনে দু’টুকরো করা। দু’তিনটা স্যুট। আমি পরম মমতায় তার ঘ্রাণ নিই। আম্মার শখের ট্রাঙ্ক এক জায়গায় ফেলা। ট্রাঙ্ক ভরা শাড়ী ছিলো, কিচ্ছু নেই। আমি সারা বিকেল ভরে সেই ট্রাঙ্কে আব্বার ছেঁড়া কাটা স্যুট প্যান্ট ভরি। সিতারার ছেড়া জামা। আমাদের টুকটাক জিনিস। দু’টো তোষক। যা বাচ্চাদের প্রশ্রাবের দাগ লেগে লেগে ছিঁড়ে গেছিলো, তা এক কোনে ফেলা। অর্থাৎ সারা বাংলাঘর জুড়ে তছনছ করে রাখা আমাদের কিছু জিনিস। আব্বার প্রিয় বইগুলো দু’টুকরো করে ছেঁড়া, যেনো প্রচন্ড আক্রোশে কেউ এগুলো ছিঁড়ে রেখেছে। অনেক জঞ্জাল সরিয়ে আমি পেয়ে যাই আমার খুব প্রিয় পুতুলের ঘর। জুতার বাস্কে সাজিয়ে রেখেছিলাম। আমি অঝোর ধারায় কাঁদি আর দেখি। সারা শরীর ধুলো ময়লায় ছয়লাব করে ঘরে ফিরে আসি। বকুল স্লেষের স্বরে বলে রাজার ভান্ডার দেখে এসেছো তো? আমি জবাব দিই না। বিড়ালটা আমার পিছু ছাড়ে না। বকুলরা বলে এই বিড়াল বড় নিমক হারাম। তাদের ঘরে গিয়ে তাদের ফেলা খাবার খেয়ে বাংলা ঘরে গিয়ে বসে থাকে। তাদের কাছেও যায় না। আর আমি আসাতে কাছ ছাড়ছে না। আমি মনে মনে বলি পশুরা নিমকহারাম হয় না। মানুষ হয়। প্রাণ বাঁচানোর জন্য সে হয়তো তাদের খাবার খায়। কিন্তু আমি চিন্তা করে পাই না এরা এই বাসায় আসার আগে এই বিড়াল কি খেয়ে বাঁচলো। বাসা ছেড়ে যে যায় নাই তাতো বুঝা যাচ্ছে। সবচেয়ে বিস্ময় আমার জন্য অপেক্ষা করে রাত্রে। এরা আমাকে মাটিতে থাকার জন্য দেয়। আমাদের পালঙ্কে বকুল তার মা বোন ছোট ভাই ঘুমাচ্ছে আর আমাকে মাটিতে পাটি কাঁথা বিছিয়ে ঘুমাতে বলে। সঙ্গে তার বাপের চাচাতো বোন মনোয়ারা বুই। আমি চুপচাপ বসে থাকি। কেনো আসলাম ভাবি। ছত্তার মিয়া যদি রাগ করে, না থাকলে তার জন্য আমি থাকতে এসেছিলাম। কারণ তার কথা না শুনলে সে খ্যাপে যেতে পারে। এখন খুব অপমান লাগছে। কি আর করা। কোন মতে রাতটা পার করতে পারলে বাঁচি। কিন্তু এর মাঝেই আমার বড় ঝগড়া হয়ে যায়, ছত্তার মিয়ার ছেলে বশিরের সাথে। এরা সবাই আমাকে ফুফু ডাকে। সম্পর্কে আমি ফুফু হই। রাত্রে তারা তাদের ঐশ্বর্য্য দেখাতে বসে। অনেক গয়না বের করে দেখাতে থাকে। এইটা বশীরের বৌ এর জন্য এইগুলো অমুকের তমুকের যার কোন প্রয়োজন ছিলো না। আমি মাটিতে বসে বসে তাদের আহ্লাদিপনা দেখি। এমনিতে আমাদের পালঙ্কে শুয়ে আমাকে ঐশ্বর্য্য দেখাচ্ছে আর বড় বড় গল্প দিচ্ছে আমার আর সহ্য হয় না। আমি আস্তে করে বলে ফেলি এইগুলো গনিমতের মাল না? বশীর বসা ছিলো। লাফ মেরে উঠে বলে কি বল্লে গো উকিলের ঝি! তুমি কইতা চাও লুটের মাল। আমরার জিনিস নাই না কিতা? আমি বলি নারে বাবা দেখানোর ধরন দেখে বলছি। খুব পুরানো হেভি জিনিস তো। সে তখন আমাদের সারা গুষ্টিকে তারা কত দয়া করতেছে। দাদা যে অপরাধ করেছেন তার জন্য আমাদের বাড়ীর সবার পর পারে থাকার কথা, তার বাপের দয়ায় বেঁচে আছেন, সে সব গান শুরু করে। আমার রাগ উঠে যায়। আমি বলি তোর বাপ বলেছে বলে আমি আসছি। নইলে আসতাম না। আমি জানি এ বাসা তোদের। কুটুম বলে এসেছি আর সারা গুষ্টি তুলে তুই আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারিস না। তার মা তাকে থামায়। সে বেইমানদের বাসায় জায়গা দেয়া উচিত হয় নাই বলে রোষ দেখিয়ে অন্য ঘরে শুতে চলে যায়। আমি রাতটুকু শেষ হওয়ার প্রহরগুনি। রাত্রে ছত্তার মিয়া বাসায় ছিলো না। সকালে আমি বাসার সামনে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াই। চিন্তা করতে থাকি কিভাবে বাড়ী যাবো। সকাল নয়টা হবে। আমার চেহারা কি ছিলো আল্লাহ জানেন। এক রিস্কায় করে দুইজন পাক সেনা কোত্থেকে জানি থালার সমান বড় বড় পরোটা নিয়ে যাচ্ছিলো। এক টুকরী ভরা। আমি সুনামগঞ্জে আসা অব্দি একজন পাক আর্মিও দেখি নাই। রাস্তা ঘাটে কেবল রাজাকাদেরই দেখেছি। তারা আবার আমার পরিচিত। এই যেমন আমাদের বাসায় কাজের বুয়ার দামান্দ আলাদনের বাপ, আব্দুর নুর ভাই, আগে রিস্কা চালাতো রাজু। এরা সব কাজের লোক ছিলো। তাদের কাধে বন্দুক দিয়ে রাজাকার সাজিয়ে রাস্তায় টহল দেয়াচ্ছে বা তারা হাঁটাহাঁটি করে নিজেদের পাওয়ারের জানান দিচ্ছে। অনেকে আমাকে ভালো মন্দ জিজ্ঞেসও করেছে। কিন্তু সত্যিকারের পাক সেনা এই ৩/৪ দিনে দেখা হয় নাই। আমি অবাক বিস্ময়ে পাক সেনা দেখতে থাকি। রিস্কা আমার সামনে আসলে এক সেনা নেমে এসে বলে খুকী রুটি লেলও। আমি হতভম্ব হয়ে যাই। গরম দুটো রুটি আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে ওরা চলে যায়। আমার মনে হয় আমি ফকিরন্নি। নিশ্চয় আমার চেহারায় ফকিন্নির কোন চিহ্ন ফুটে উঠেছিলো তাই ওরা এমন করেছে। আমি রুটি দুটো নিয়ে বাসায় চলে আসি। বকুলরা জিজ্ঞেস করে কে দিয়েছে? আমি বলি পাক আর্মি। তারা হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ে। বলে তোমারে নিশ্চয় ফকির মনে করেছে। আমিও তাই মনে করি। তারা আমার হাত থেকে রুটি নিয়ে ভাগ করে খাওয়া শুরা করে। আমাকে জিজ্ঞেস করে খাবো কিনা। আমি না করি। লজ্জায় অপমানে আমার দু’চোখ বেয়ে খালি পানি চলে আসে। বশীর ঘুম থেকে উঠেই আমাকে ঠেস দিয়ে বলে, “কি তা গো উকিলের ঝি মনে মনে তো আমরার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করছো। এইবার উজানীগাঁও যাও! আমার বাপ তোমারে এখানে থাকতে দিছে বলে কিচ্ছু করছি না। কিন্তু উজানীগাঁও ঢোকা লাগতো না। তোমারে যদি বাংকারে না ঢুকাইছি আমার নাম বশীর না। আমাদেরকে গনিমতের গপশোনাও!” এবার আমি সত্যি সত্যি ভয় পাই। তার হিংস্র তার গল্প এলাকায় চাউর আছে। আমি কিভাবে যাবো সে চিন্তায় মনে মনে অস্থিও হই। এ সময় ছত্তার মিয়া তার লাল দু’চোখ নিয়ে বাসায় আসে। আমাকে খাইছি কি না খারাপ লাগছে কিনা জিজ্ঞেস করে। আমি আস্তে আস্তে বলি ভাই আমি আম্মার কাছে যাবো। আমার কাজ শেষ হয়ে গেছে। সে বলে না আরও দুই চার দিন থাক। পাকিস্তানের লোকজন যে খারাপ না বুঝে যা আর তোর মারে গিয়া বলবি। তার মাঝে কৃতজ্ঞতা বোধ আর চশম আছে। যা তার ছেলের মাঝে নাই। আমি অসহায় হয়ে পড়ি। আমাকে মাটিতে থাকতে দেয়া হয়েছে, আর বশীর আমাকে কি বলেছে তা বলা সম্ভবনা আমি বুঝি। তবে আল্লাহ সহায়। এক ঘন্টার মাঝেই মিরাকল ঘটে। বাসার সামনে একটা জীপ থামে। ছত্তার মিয়া হন্তদন্ত হয়ে বিগলিত হেসে বের হয়। যিনি ঢুকেন তাকে দেখে আমার জানে পানি আসে। আমি দৌঁড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরি। তিনি আর কেউ নন মিসবাউদ্দেজা আহমেদ রেজা মামা।
রেজা মামা আম্মার খালাতো ভাই, তার মা আমার নানীর চাচাতো বোন। আম্মার একদিনের ছোট। কিন্তু বড় গলায় আম্মাকে আপা ডাকেন আর ঈদে চান্দে এসে সালাম করে বলতেন একদিনের বড় হইয়া যে পাওয়ার দেখাইলায় গো বইনদের সালাম করি। প্রায়ই আমাদের বাসায় আসতেন আর আব্বার সঙ্গে লাগালাগি করতেন। তিনি আমাকে দেখে চমকে উঠেন আর জড়িয়ে ধলে আবেগাপ্লুত হয়ে যান। কোত্থেকে এসছি? কেনো এসেছি? এখানে কিভাবে এলাম? আম্মা এখন কোথায়? ইানান প্রশ্নবানে আমাকে জর্জরিত করে তুলেন। আমি শুধু ফুঁপিয়ে কাঁদতেই থাকি। ছত্তার মিয়াই বিগলিত হয়ে উত্তর দিতে থাকে যে, আমি খুব ভালো ছাত্রী বৃত্তির টাকা তুলতে এসেছি। সে আমাকে এখানে থাকতে বলেছে হাজার হউক আমাদের বাসাইতো ছিলো। আর আব্বা তাকে ভালোবাসতেন ঋণ শোধের ব্যাপার আছে। তিনি হু হা করে শুনেন। আমাকে বলেন, তুমি কি আমার সাথে যাবে। আমি কাঁদতে কাঁদতে বলি আমি আম্মার কাছে যাবো। আম্মা এখন কোথায় আছেন জানতে চাইলে, ছত্তার মিয়াই উত্তর দেয়, আম্মা গাগলী গ্রামে আছেন। সে খবরা খবর রাখছে। কোন অসুবিধা হবে না। মামা তখন তাকে বলেন উনার যেনো কোন অসুবিধা না হয় খেয়াল রাখতে। সে আরও বিগলিত হয়ে বলে তিনি আমার চাচী আমি তাকে সম্মান করি। আমার এলাকায় তার কোন অসুবিধা হবে না আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। বশীর খাটে বসে সব শুনছিলো। আমিও খুব খুশী বশীরকে দেখাতে পারলাম আমাকে রক্ষা করার লোক আছে। তিনি বলেন তিনি জীপ নিয়ে বের হয়েছেন সিলেট যাবেন। কি কাজ ছত্তার মিয়াকে বুঝাতে এসেছেন। আমাকে বলেন তুমি আমার সঙ্গে চলো। জয়কলসে নামিয়ে দিলে বাড়ী যেতে পারবে তো? আমি বলি পারবো। ছত্তার মিয়া বলে রাস্তায় আমার লোক আছে তারাই নিয়ে যেতে পারবে। থাকবে না যখন তখন যাক। আমি দৌঁড়ে আমার পুটলীটা নিয়ে আসি। মনোয়ারা বুইও আমার সঙ্গী হয়। বাংলাঘরে পড়ে থাকে কাল সারা বিকেলে গুছানো আমার পিতার ছেড়া স্যুট প্যান্ট আর মায়ার বিড়ালটা। জান বাঁচানো ফরজ। বশীরের হাত থেকে বাঁচা আরও বড় ফরজ।
এই বশীরের শেষটুকু বলার লোভ সামলাতে পারছি না। স্বাধীনতার দুই মাস পড়ে মনে হয় ছত্তার মিয়ার বাড়ী পুড়ার পর সারা এলাকা যখন সবাই ছত্তার মিয়া আর তার ছেলেকে হন্যে হয়ে খুঁজছে, তখন এক সন্ধ্যায় মাথায় কম্বল পেঁচিয়ে একলোক দৌঁড়ে আমাদের বাসায় ঢুকে পড়ে। আম্মা কে? কে? বলে চিৎকার করে উঠেন। সে এসেই আম্মার পায়ে লুটিয়ে পড়ে। কারেন্ট ছিলো না, আম্মা চিৎকার দিতে যেয়ে থেমে যান। সে কম্বলের নীচ থেকে মুখ তুলে বলে, দাদী গো আমারে বাঁচাও! সে আর কেউ নয় বশীর। আম্মা বলেন, তোমারে বাঁচানোর ক্ষমতা আমার নাই। এখনই রব্বানী আসবে, তার সঙ্গে লোকজন থাকে। তোরে পাইলে কেটে ফেলবে। এখনই পালা। সে বলে, আমি দুই দিন কিছু খাই নাই আমারে একটু খাবার দিবা? আম্মা আমাকে বলেন, এরে খাওয়াইয়া বিদায় কর। আমি এখানে বসছি, রব্বানী আসলে ঐ দিকে যেতে দিবো না। আমি তাকে পাকের ঘরে নিয়ে খেতে দিই। আর বলি কিরে বশীর তোর বাংকার গেলো কৈ? আম্মাকে এসে বলি এরে ধরাইয়া দিই। আম্মা আমাকে ধমক দেন। খাওয়াইয়া, আমিই তাকে জামতলার দিকে বের করে দিই। আম্মাকে বলি কেনো ওকে ধরিয়ে দিলেন না। আম্মা বলেন, সে আমার কাছে আশ্রয় চাইছে, হিংস্র পশুও আশ্রয় চাইলে তাকে রক্ষা করা ধর্ম। আর তার বাপের ঋণ শোধ করলাম। পরে সে সিলেটে ধরা পড়ে। বহুদিন জেলে ছিলো।
(চলবে)

  • [১]