স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে তাণ।ডবের ঘটনার এজাহারভুক্ত ১৮ আসামি জামিন পেয়েছেন। এরমধ্যে ১৬ আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়েছেন এবং দুই আসামি কারাগারে ছিলেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পাল তাদের জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন। অন্যদিকে, এই ঘটনায় দায়ের করা আরেক মামলার আসামী ঝুমন দাসের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেছেন আদালত। জেলা ও দায়রাজজ ওয়াহিদুজ্জামান সিকদার জামিন না মঞ্জুরের আদেশ দেন।
জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থকরা গত ১৭ মার্চ হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করে নোয়াগাঁও গ্রামের ৮৮ বাড়িতে। এসময় গ্রামের ৫ টি মন্দিরও ভাংচুর করে তারা। নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামনুল হককে কটাক্ষ করে কথিত স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় ওই দিন সকাল ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে এই তা-ব চালানো হয়। এ ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে।
দুটি মামলার বাদী পুলিশ, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলার বাদী শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম, ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলার বাদীও শাল্লা থানার এস আই আব্দুল করিম, গ্রামবাসীর পক্ষে দায়ের করা মামলার বাদী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল, আরেক মামলার বাদী ঝুমন দাসের মা নিভা রানী দাশ। নিভা রানী দাশ আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন।
এই চার মামলায় এই পর্যন্ত স্বেচ্ছায় হাজির হওয়াসহ ৯৪ জন আইনের আওতায় এসেছেন। এরমধ্যে ১৬ জন আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে আইন প্রয়োগকারী একাধিক সংস্থার দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন।
১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে অনেকে স্বীকার করেছেন দা, রামদা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ওই গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের উপর হামলা চালিয়েছিলেন তারা।
বৃহস্পতিবার ১৬ জন আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হন এবং আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন প্রার্থনা করেন। একই সময়ে জেল হাজতে থাকা দুই আসামির পক্ষেও তাদের আইনজীবী জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত ১৮ জন আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। এরা সকলেই এজাহার নামীয় আসামি।
কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. সেলিম নেওয়াজ জানান, নোয়াগাঁওয়ের ঘটনায় এজাহার নামিয় ১৮ আসামি জামিন পেয়েছেন। এরমধ্যে স্বেচ্ছায় আদালতের কাছে ১৬ জন আত্মসমর্পন করেন এবং জেল হাজতে ছিলেন দুই জন। জামিন প্রাপ্তরা হলেন, ইবাব মিয়া, সাচ্ছাদুল, সাইফুল, রমজান, ফকর উদ্দিন প্রকাশ ফফরুন মিয়া, ইনাত আলী, মির্জা হোসেন, নেহার আলী, ইয়ালিস মিয়া, সবুজ মিয়া, খাজুল মিয়া, ইয়াসিন মিয়া, কবির মিয়া, রাজন মিয়া, এনাম মিয়া ও কেরামত আলী, কাশেম, রাকিব, সুজন, ইয়াকুব আলী, আকামত, এরশাদ প্রকাশ ইশাদ এবং রফিকুল ইসলাম।
এদিকে, এই ঘটনার আগে ফেসবুকে স্ট্যটাস দানকারী ঝুমন দাশেরও বৃহস্পতিবার জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী দেবাংশ শেখর দাশ। জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান সিকদার ঝুমনের জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করেন।
অ্যাডভোকেট দেবাংশু শেখর দাস বলেন, এর আগে দুই বার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম কান্ত সিনহা ও বেলায়েত হোসেনের আদালতে ঝুমন দাসের জামিনের আবেদন করেন তিনি। ওখানে জামিন না পেয়ে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান সিকদারের আদালতে বৃহস্পতিবার জামিন প্রার্থনা করেন। গত ১৮ মে জামিন শুনানীর চেষ্টা করলে আদালত স্থগিত করেন। আজ বৃহস্পতিবার আদালত জামিন না মঞ্জুর করেন। এবার উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।