- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

এনজিও ঋণে দিশেহারা তাহিরপুরের মানুষ

এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ মাটিয়ান হাওরসহ ছোট বড় বিভিন্ন হাওর গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে পানি এসে অসময়ে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা এখন এনজিও ঋণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এনজিও ঋণ কিভাবে শোধ করবেন সে চিন্তায় অস্থির তারা।  
উপজেলার তেলীগাও গ্রামের শীলা রানী পাল বলেন, রাত পোহালেই এনজিও কর্মীরা দরজাই এসে কড়া নাড়েন সাপ্তাহিক কিস্তির জন্য। যতক্ষণ টাকা পরিশোধ না করা হয় ততক্ষণ এনজিও কর্মীরা বাড়ী থেকে যেতে চান না। এ নিয়ে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঋগ্রহীতাদের সাথে এনজিও’র কিস্তি আদায়কারীদের ঝামেলা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া, দিন খারাপ, বৃষ্টিপাত অসময়ে হাওর তলিয়ে বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কিছুতেই কর্ণপাত করছেনা এনজিও কর্মীরা।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য হাসান মিয়া ও সুধাংশু দাস বললেন, হাওরাঞ্চলের মানুষ ঋণ দিতে ইচ্ছুক, তবে এই বিপদে ঋণগ্রহীতাদের একটু সময় দেয়া প্রয়োজন। কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, এখন পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে      
দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে এনজিও মাঠকর্মীরা নাম প্রকাশ না করে বলছেন অফিস থেকে তাদের কোন ছাড় দেয়া হচ্ছে না বরং সন্ধা হলেই ম্যানেজার তাদেও উপর কিস্তির টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন, না হয় মাসিক বেতন থেকে টাকা কেটে রেখে দেন। তাই নিরুপাই হয়েই তাদের এই দুঃসময়ে ঋণগ্রহিতার কাছে এসে কিস্তির টাকা নিতে হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ হাওরাঞ্চলের কৃষকরা এনজিও ঋণে আটকা পরে এখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। হাওরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ দুই দশক ধরে বিভিন্ন এনজিও ঋণের রমরমা ব্যবসায় দরিদ্র সহজ সরল মানুষগুলো ঋণের জালে জড়িয়ে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এ উপজেলায় ব্রাক, আশা, সিএনআরএস, সানক্রেডসহ বেশ কয়েকটি এনজিও সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার কথা বলে গ্রামের মহিলাদের ঋণের জালে আটকিয়ে রেখেছে। এ সুযোগে এসব এনজিও প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।  
জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছির সবুল বলেন, হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ভাগ্য উন্নয়নের নামে ঋণ নিয়ে দিনদিন ভাগ্য বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে হাওরঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন এনজিওর কিস্তির পরিশোধের চাপে ঋণগ্রহিতারা এখন দিশেহারা।
বানিয়াগাও গ্রামের কৃষক সুজন মিয়া জানান, এনজিওকর্মীদের চাপে এই দুঃসময়ে অনেক ঋণগ্রহিতা কিস্তির টাকা যোগাড় করতে অনেকেই শেষ সম্বল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ কেউ পানির দরে গরু, ছাগল, বসত ঘরের টিন বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করছেন।
এনজিও প্রতিষ্ঠানের এক ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করে জানান, উপরের চাপ সহ্য করতে না পেরে গ্রাহকদের মাঝে বিতরণকৃত ঋণের কিস্তির টাকা জোগাড় করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ঋণগ্রহীতারাও এসময়ে কিস্তির টাকা যোগাড় করতে হিমসিম খাচ্ছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, এবিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে কয়েক সপ্তাহের জন্য কিস্তির টাকা স্থগিত রাখার জন্য বলা হবে এবং যারা কিস্তির টাকা দিতে ইচ্ছুক তাদের কাছে থেকে নেয়া যাবে, তবে এই দুঃসময়ে চাপ সৃষ্টি করে কিস্তির টাকা আদায় করা যাবে না।

  • [১]