জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার ৪র্থ সম্মেলন শুক্রবার বিকেল ৪টায় সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির ২ নম্বর বার লাইব্রেরি হলে অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায় এর সভাপতিত্বে ৪র্থ সম্মেলন উদ্বোধন করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ডা. এম জাহাঙ্গীর হোসাইন।
সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. এম এ করিমসহ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আত্মদানকারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুবরণকারীদের প্রতি শোক প্রস্তাব গ্রহণ ও দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রজত বিশ্বাস, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিক ও সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক রতœাংকুর দাস, সিলেট জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস মহামারীতে বিপর্যস্ত, জনগণ দিশেহারা হয়ে পড়ছে, এরকম বিপর্যস্ত সময়ের মধ্যেও ধনী গরীবের বৈষম্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের শ্রমিক- শ্রমজীবি,ছাত্র- কৃষক মেহনতী জনগণ আজ স্বৈরাচারী শাসন শোষণে অসহায়। চাল-ডাল, তেল,পিয়াজ, চিনি, শাক-সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কষাঘাতে জর্জরিত। জনগণের উপর ডিজেল-কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে। সরকার এক লাফে ডিজেল-কেরোসিনের মূল্য লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর পর এখন আবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে। দফায় দফায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণ যখন দিশাহারা তখন সরকার উন্নয়নের যে গালভরা বুলি আওড়াচ্ছে তা মূলত সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির সর্বোচ্চ মুনাফার লক্ষ্যে সড়ক, রেল, নৌপথসহ অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ আর সর্বোচ্চ লুটপাট ছাড়া আর কিছুই নয়। জনগণের জীবন-জীবিকার সকল প্রয়োজনীয় বিষয় রাষ্ট্রীয় ও দলীয় ব্যবসায়ীদের অবাধ লুটপাট ও লাগামহীন বাণিজ্যক্ষেত্রে পরিণত করেছে।
আলোচনা সভায় অতিথিবৃন্দ বলেন, সমগ্র পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় এক গভীর ও সামগ্রিক সংকট, দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বৃহত্তম ও গভীরতম অর্থনৈতিক সংকট ও মন্দা আঁকাবাঁকা গতিপথে ১৪তম বছরে পড়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে মহামন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে চলমান অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত রূপে সামনে এসেছে। পুঁজি ও শক্তির অনুপাতে বাজার ও প্রভাববলয় পুনর্বন্টনকে কেন্দ্র করে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, মুদ্রাযুদ্ধ, স্থানীয় ও আঞ্চলিক যুদ্ধ বিস্তৃত হয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি করে চলছে। এরই ফলশ্রুতিতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে ন্যাটো জোটের সাথে ইউক্রেন সংকটকে ইস্যু করে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়ার যুদ্ধ উত্তেজনার পাশাপাশি তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী হওয়ার লক্ষ্যে অগ্রসরমান পুঁজিবাদী চীনের সাথেও মার্কিনের সামগ্রিক যুদ্ধ প্রস্তুতি চলছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে জাতীয় ক্ষেত্রে। তার প্রতিফলন ঘটছে মার্কিনের পক্ষ থেকে কোয়াড জোটে বাংলাদেশকে যোগদানের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে চীনের পক্ষ থেকে কোয়াডে বাংলাদেশকে যোগদান না করার হুশিয়ারি উচ্চারণ; মার্কিনের ‘গণতন্ত্র সম্মেলনে’ বাংলাদেশ আমন্ত্রণ না জানানো এবং র্যাব ও র্যাবের সাবেক ডিজিসহ ৭ কর্মকর্তার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রদানের মধ্য দিয়ে। সাম্রাজ্যবাদীদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। ক্ষমতা বহির্ভূত অন্যান্য দালাল রাজনৈতিক দলগুলো প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করে জনগণের স্বার্থকে আড়াল করে নিছক ক্ষমতার প্রশ্নে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশের বর্তমান অবস্থায় প্রয়োজন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সকল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য এবং স্বৈরাচার ও স্বৈরতন্ত্র উচ্ছেদে শ্রমিক-কৃষক ।েেক্যর ভিতিএত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠিত করা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি