- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

এন্টিবায়োটিক ঔষধের অপব্যবহার রোধ করতে হবে

মানবদেহে এন্টিবায়োটিক ঔষধের রেজিস্টেন্স ক্ষমতা প্রতিহত করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর একটি তথ্য বিবরণী জারি করেছে। তথ্য বিবরণীতে এজন্য কিছু করণীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের পরামর্শগুলো নতুন কিছু নয়, এগুলো ড্রাগ উৎপাদন ও বিপণন সংক্রান্ত বিধি-বিধানে পূর্ব থেকেই উল্লেখ আছে। কিন্তু এ হলো কাজির গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই এর মতো অবস্থা। বিধি-বিধানগুলো কাগজের মলাটের বাধা পেরিয়ে আর কখনও কোথাও কার্যকর হয়ে উঠেনি। সম্প্রতি বাংলাদেশে বিভিন্ন সমীক্ষায় যে উদ্বেগজনক তথ্যটি বেরিয়ে এসেছে তা হলো, মানবদেহ ব্যাপকভাবে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ কিছু কিছু এন্টিবায়োটিক ঔষধ মানুষের শরীরে জীবাণু প্রতিরোধে কাজ করে না। এরফলে জিবাণুবাহিত রোগ-বালাই জটিল আকার ধারণ করে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ এই ভয়াবহ অবস্থা রোধকল্পে আমাদের দেশে ঔষধ প্রশাসনের সাথে জড়িত কর্তৃপক্ষের তেমন কোন মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশে পাড়ার স্টেশনারি দোকানেও আজকাল কিছু কমন এন্টিবায়োটিক বিক্রি হওয়ার খবর শোনা যায়। ফার্মেসিগুলো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই রোগের বর্ণনা শুনে ইচ্ছামতো এন্টিবায়োটিক বিক্রি করছে। ফলে এন্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার দিন দিন বাড়ছেই। এরকম অবস্থায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যে তথ্য বিবরণী জারি করেছেন তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত না করা হলে সামনের দিনে আরও বিপর্যয়কর অবস্থা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু কথা হলো এখন বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর নিজেদের জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তৃতির সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে এনে দায় সাড়তে চাইবেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এটি তাদের এখতিয়ারভূক্ত কাজ নয় বলে এড়িয়ে যেতে চাইবেন। সকলেই যখন এরকম উন্নাসিক হয়ে উঠেন তখন আইনের প্রয়োগ যে স্বাভাবিকভাবেই রুদ্ধ হয়ে পড়ে তা একটি অবধারিত বাস্তবতা।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক জারিকৃত তথ্যবিবরণীতে যেসব পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে সেগুলো হলোÑ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এন্টিবায়োটিক সেবন ও বিক্রি না করা, পূর্ণকোর্স ঔষধ সেবন, কোন কারণে বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ, ফার্মেসিগুলোতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এন্টিবায়োটিক ঔষধ সংরক্ষণ, ফার্মেসিগুলোতে এন্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রির রেজিস্টার সংরক্ষণ, ক্যাশমেমো সরবারাহ, মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি না করা ইত্যাদি। আমরা জানি, উপরের সবগুলো পরামর্শই জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি বিষয়। কিন্তু এই জরুরি বিষয়গুলো প্রতিনিয়তই উপেক্ষিত হতে দেখে আসছি আমরা। মাত্রই কয়েকদিন আগে দেশের বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে এন্টিবায়োটিক ঔষধ উৎপাদন বন্ধ করতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ এদের উৎপাদিত এন্টিবায়োটিক মানসম্মত নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। যেখানে এন্টিবায়োটিকের উৎপাদন পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়নি সেখানে এর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও বিধিসম্মত বিপণন ব্যবস্থার করুণ অবস্থা সহজেই অনুমেয়। তবে মেঘ দেখে ভয় পেলে চলবে না। সমস্যা আর অব্যবস্থাপনার জঞ্জাল আমাদেরকেই সাফ করতে হবে।
আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষ আর্থিক অক্ষমতার জন্য রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে ফিস দিয়ে পরামর্শ গ্রহণ না করে ফার্মেসি থেকে রোগের বর্ণনা দিয়ে ঔষধ সেবন করেন। তাই এন্টিবায়োটিকের অপ-ব্যবহার রোধকল্পে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে সরকারিভাবে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের বিষয়টিকে সর্বত্র সুলভ ও সহজপ্রাপ্য করে তুলতে হবে। অন্তত এমবিবিএস ডিগ্রিধারী পর্যন্ত প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে দিতে হবে। মেডিক্যাল পাস করার সাথে সাথে সকল চিকিৎসকের চাকুরির ব্যবস্থা করতে হবে। ফার্মেসিগুলোতে পরিদর্শন বাড়াতে হবে। এভাবে ধীরে ধীরে একটা সময়ে হয়ত আমরা এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিশ্বজনিন মান অর্জন করতে সক্ষম হব।

  • [১]