বিশেষ প্রতিনিধি
কড়া লকডাউনে বেকার হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জের শ্রমজীবীরা। বিশেষ করে পরিবহন শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, দোকান কর্মচারী, ক্ষৌরকার ও ফুটপাতের দোকানীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। গত প্রায় দেড় বছরে যখনই লকডাউন হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি, রাজনীতিবিদ-জনপ্রতিনিধিরা সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন মানুষের পাশে। এবার এমন সহায়তা কম। রাজনীতিবিদরাও সক্রিয় কম। জনপ্রতিনিধিদেরও সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে কম দেখা যাচ্ছে, হৃদয়বানরাও সহায়তার হাত বাড়াতে পারছেন না। এই অবস্থায় অনেকটা বেকায়দায় কর্মহীনরা। জনপ্রতিনিধিরা অবশ্য বলেছেন, ঈদের আগে সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন তারা।
সুনামগঞ্জে করোনা সক্রমণ বাড়ছে। সর্বাত্মক লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছোট ছোট দোকানীরা। সোমবার সদর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ৩০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সহায়তা প্রত্যাশির সংখ্যা আরও বেশি। পৌর এলাকায় মহল্লায় মহল্লায় রয়েছেন কর্মহীন মানুষ। বেকার পরিবহন শ্রমিক আছেন গ্রামীণ জনপদেও।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশিদ দাবি করলেন, জেলা ব্যাপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা মানুষের পাশেই রয়েছেন। জনসাধারণের মাঝে মাস্ক-স্যানিটাইজার বিতরণ করছেন তারা। ঈদের আগে কর্মহীন দরিদ্র মানুষকে খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বললেন, আমি মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছি খোঁজ খবর নিচ্ছি। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় খাদ্য সহায়তা দিতে পারছি না। মঙ্গলবার দুপুরে সরকারি ৪৬ টন চাল বরাদ্দের চিঠি পেয়েছি। নগদ টাকার কোন বরাদ্দ এখনো পাই নি। ঈদের আগে ৪৬২১ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল সহায়তা দিতে পারবো।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বললেন, লকডাউনে কর্মহীনদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর ও তাহিরপুর উপজেলায় খাদ্য সহায়তা বিতরণ হয়েছে। জেলা প্রশাসক তাতে উপস্থিত ছিলেন। আমরা সহায়তা প্রত্যাশিদের বলে দিচ্ছি, কেউ যেন ক্ষুধার কষ্টে না থাকেন ৩৩৩ তে ফোন দেবার কথা বলে দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছি, ওখানে ফোন দিলেই খাদ্য পৌঁছে যাবে খাদ্য সহায়তা প্রত্যাশীর কাছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন দাবি করলেন, আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মাস্ক-স্যানিটাইজার বিতরণ অব্যাহত আছে। মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নেতা কর্মীরা সহায়তা প্রত্যাশীদের ৩৩৩ তে ফোন দিলেই সহায়তা পাওয়া যাবে জানিয়ে দিচ্ছেন।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট বললেন, কর্মহীন সহায়তা প্রত্যাশীদের খাদ্য সহায়তা দেবার কোন বরাদ্দ পাই নি। এরপরও ব্যক্তিগত উদ্যোগে করার চেষ্টা করছি। ঈদের আগে মানুষকে সাধ্যমত সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করবো।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিরোধী দলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ বললেন, কর্মহীনদের জন্য উপজেলা ও পৌরসভায় সরকারি খাদ্য সহায়তা এবং নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবেও দলীয় নেতা কর্মীদের মাধ্যমে সামাজিক দুরত্ব মেনে বিচ্ছিন্নভাবে আমরা খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি।