২০০৯ সালে দেশে এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম কয়েক দফা কমলেও দেশে গণশুনানি করে দাম পুনঃনির্ধারণ করা হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে সিলিন্ডারের দাম পুনঃনির্ধারণের চেয়ে গত ৩১ জুলাই বিইআরসিতে আবেদন করে গ্রাহকদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাব’। সময় গড়িয়ে গেলেও আবেদনটি নিষ্পত্তি করেনি বিইআরসি। এজন্য ক্যাব আদালতে রিট করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও এলপি (সিলিন্ডার) গ্যাসের দাম কেন পুনঃনির্ধারণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আমরা মনে করি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপি গ্যাসের দাম পুনঃনির্ধারণ করা দরকার।
প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। এলপি গ্যাস শুধু গৃহস্থালিতে নয়-অটোমোবাইল, ক্ষুদ্র শিল্পের জ্বালানি এবং কেমিক্যাল ও প্রসেস ইন্ডাস্ট্রির কাঁচামাল হিসেবেও এলপিজি ব্যবহূত হয়। অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানা এলপি গ্যাসে চলছে। যানবাহনেও এলপি গ্যাসের ব্যবহার শুরু হয়েছে। অন্যদিকে দেশে লোকসংখ্যা বাড়ছে। মানুষের আবাসিক চাহিদা মেটানোর জন্য নতুন নতুন আবাসস্থল গড়ে উঠলেও এসব আবাসিক ভবনে, বিশেষ করে ঢাকাসহ কিছু বড় শহরে সরকার পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ দিচ্ছে না। নতুন গড়ে ওঠা এসব আবাসিক স্থাপনার মানুষকে এলপি গ্যাসই ব্যবহার করতে হবে।
শহর-গ্রাম নির্বিশেষে দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ এখন এলপি গ্যাস ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এলপি গ্যাস প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করা। বছর দুয়েক ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে এলপি গ্যাসের দামও কমেছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বাজারে এলপি গ্যাসের দাম কমেনি। এজন্য অন্য অনেক কারণের মধ্যে সরবরাহের অপ্রতুলতা অন্যতম প্রধান কারণ। সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়নি। বরং এই অংশগ্রহণকে প্রকারান্তরে নিরুৎ্সাহিত করা হয়েছে। এর ফলে এলপি বাজারে কোনো প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি এবং ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়েছে। এটাও ঠিক, গত কয়েক বছরে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগী প্রতিষ্ঠানকে এলপি গ্যাস বাজারজাত করার জন্য লাইসেন্স দিয়েছে। কিন্তু এদের বেশিরভাগই উৎপাদানে আসতে পারেনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একদিকে উদ্যোক্তা নির্ধারণ সঠিক হয়নি, অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় যারা আগে থেকে বাজার দখল করে আছে, তারা অতিরিক্ত মুনাফা করছে। আর সাধারণ ভোক্তারা তার খেসারত দিচ্ছে।
সরকার ২০১৮ সালের মধ্যে আবাসিক জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশ এলপি গ্যাস দিয়ে মেটানোর চিন্তা করছে। কিন্তু এ লক্ষ্যে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে চোখে পড়ে না। নীতিমালার অভাবে অনেক উদ্যোক্তাই এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন না। সরকারের অবিলম্বে এলপি গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য মূল্য সংশোধনের ব্যবস্থাসহ নীতিমালা ঘোষণা করা দরকার। আমরা চাই জ্বালানি খাতে, বিশেষত আবাসিক জ্বালানি খাতে সরবরাহ বাড়ানো নিশ্চিত করা হোক। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করেই ভোক্তার স্বার্থরক্ষা করা সম্ভব হবে।