এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফিস গ্রহণ করা নিয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষা, ভর্তি ও সেশন পরিবর্তনের সময় স্কুল কলেজগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত ফিস গ্রহণের বিষয়টি এখন অপেন সিক্রেট। সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এই বেপরোয়া ফিস গ্রহণের নামে শিক্ষার্থীদের উপর আর্থিক নিপীড়নটি কোন অবস্থাতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারিভাবে নিবন্ধিত। শিক্ষকদের বেতনের প্রায় শতভাগ সরকার পরিশোধ করেন। শিক্ষকদের উৎসবভাতাসহ পেনসনকালীন আনুতোষিক সুবিধাও সরকার দিয়ে থাকেন। ভবন নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। এছাড়া আরও নানা উপায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি সহায়তা আসে। এতসব সহায়তা দেয়া সত্বেও ফিস গ্রহণের বিষয়টি কেন সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না তা কোন অবস্থাতেই আমাদের বোধের ভিতরে ঢুকে না। শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্যকর অবস্থার এটি একটি কুৎসিৎ চিত্র। এসএসসি পরীক্ষার জন্য বোর্ড নির্ধারিত ফিসের পরিমাণ এক হাজার ৮৭০ টাকা। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, বোর্ড নির্ধারিত এই ফিসের পরিবর্তে বিভিন্ন বিদ্যালয় ২৭৬০ টাকা থেকে ৩৮০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অর্থাৎ বোর্ড যে পরিমাণ ফিস নির্ধারণ করেছে, বিভিন্ন বিদ্যালয় এর দ্বিগুণেরও বেশি টাকা নিচ্ছেন। অতিরিক্ত ফিস নেয়ার জন্য শিক্ষকরা পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস অর্থাৎ কোচিং এর বিষয়টিকে সামনে আনছেন। এই কোচিংকে শিক্ষকরা বাধ্যতামূলক নয় বলে দাবি করলেও জানা গেছে এটি মোটামোটি বাধ্যতামূলকই। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র অভিভাবকদের জন্য এত বিশাল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করা অনেক ক্ষেত্রে দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে।
সকলের জানা যে, এবার জেলার শতভাগ বোরো ফসল বিনষ্ট হয়েছে। জেলার গ্রামাঞ্চলে সাংঘাতিক অভাব বিরাজমান। সরকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের খাদ্যসহায়তাসহ নানা ধরনের সহায়তা জুগিয়ে যাচ্ছেন। এবারের ফসল হানির প্রেক্ষাপটে সকল মহলের একটি সাধারণ দাবি ছিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাসিক বেতন ও বিভিন্ন ফিস মওকুফের। কিন্তু দাবিটি যে অরণ্যে রোদন ছিল, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের বিষয় এর জ্বলজ্ব্যন্ত প্রমাণ। ফিসের টাকা জোগার করতে ব্যর্থ হয়ে বহু শিক্ষার্থী মূল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হবে, এটি সহজেই অনুমেয়। আবার সুদে বা ধানি লগ্নি নিয়ে আরেক বিরাটসংখ্যক অভিভাবকশ্রেণি ঋণের জাঁতাকলে পিষ্ট হবে, এও অনুমেয়। এরকম অবস্থায় ফিস গ্রহণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে সরকারকে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণে এগিয়ে আসা অতীব জরুরি। সরকার কি এই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন?
শুধু দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নয়। জেলার প্রতিটি অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একই চিত্র পাওয়া যাবে। তাই সমস্যাটির সমাধান কামনা করতে হবে সার্বিকভাবে। নীতিমালার বাইরে এক টাকাও যাতে অতিরিক্ত গ্রহণ না করা হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কোন ছাত্র-ছাত্রী বিশেষ ক্লাস বা কোচিং করতে চাইলে সেটি কারও উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। শিক্ষকদের জাতি গড়ার কারিগর বলা হয়। তাঁরা সামর্থ্যহীন শিক্ষার্থীকে কোন বিনিময় ছাড়াই সহায়তা করবেন, একজন আদর্শ শিক্ষকের এমনই চরিত্র হওয়া উচিৎ।