সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই শহরের সরকারি এসসি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে পুনরায় ২০২২ সনের জন্য সেশন ফিস আদায় করার খবরটি দুর্ভাগ্যজনক। বিষয়টি আতংকজনকও এ কারণে যে, শহরের অন্য আরেকটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের (জুবিলী উচ্চবিদ্যালয়) প্রধান শিক্ষক বলেছেন, ‘তারা যেহেতু ফি আদায় করছেন, আমাদেরও হয়ত আদায় করতে হবে’। অর্থাৎ সংক্রামক ব্যাধির মত এটি সংক্রমণশীল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে আশার কথা হল, শহরের অন্য আরেকটি প্রধান উচ্চবিদ্যালয় এইচএমপি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক এই ধরনের কোন ফি আদায় করছেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন। প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ২০২২ সনের এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি মাসের পরিবর্তে করোনা পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে গেছে। মূলত এই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় কার্যক্রম ২০২১ সনেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু মহামারীজনিত অপ্রত্যাশিত কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় যেমন তাদের শ্রেণি কার্যক্রম শেষ হয়নি তেমনি মূল পরীক্ষাও পিছিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের কোন হাত ছিল না। এসএসসি পরীক্ষা পিছানোর কারণে তাদের সেশনের মেয়াদ বেড়ে গেছে এমন অজুহাতে এসসি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এখন শিক্ষার্থীপিছু ১৮৭২ টাকা করে সেশন ফিস আদায় করছে, যা একেবারেই অনভিপ্রেত এবং অবৈধ। বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ার কারণে সরকারি প্রজ্ঞাপনের বাইরে তাদের বাড়তি কিছু করার থাকে না। কিন্তু প্রধান শিক্ষক কার্যত একক সিদ্ধান্তে এই বাড়তি ফিস আদায় করছেন। একই শিক্ষার্থীরা ২০২১ সনেও সেশন ফিস পরিশোধ করেছেন। যেখানে তাদের ১২ মাসের বেতনসহ টিফিন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি; সকল খাতেই অর্থ আদায় করা হয়েছে। কিন্তু ২০২১ সনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। বিদ্যালয়ে ওই বছর যেমন কোন অনুষ্ঠানাদি হয়নি তেমন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে টিফিনের খরচও হয়নি। গত বছরের আদায় করা যে টাকা খরচ হয়নি সেই টাকা প্রধানশিক্ষক কী করেছেন তার উত্তর তিনি দেননি।
শহরের নাভিমূলে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে সেশন ফিসের নামে শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপে ফেলে দেয়ার ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের আমলে নেয়া উচিৎ। আমরা জানি করোনা অভিঘাতে আমাদের দেশের বহু মানুষের জীবন ও জীবিকায় সংকট তৈরি হয়েছে। যে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে তাদের অভিভাবকরাও এর বাইরে নন। অনেক অভিভাবকই সেশন ফিসের টাকা পরিশোধে হিমসিম খাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা হয়রানির ভয়ে মুখ খুলতে রাজী হয় না। নিরবে ঘটছে এমন ঘটনা। প্রধান শিক্ষক একটি অদ্ভুত কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার সেশন ফিস না নেয়ার কথা বলেনি। যদি এরকম নির্দেশ সরকার দেন তাহলে টাকা ফেরৎ দেয়া হবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের মুখ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কারও কাম্য হতে পারে না। সরকারি কর্মচারি হিসাবে সরকারি নির্দেশনার বাইরে যেয়ে তিনি যে আর্থিক অনিয়ম শুরু করেছেন সেটি নিরপরাধ কর্মকা- নয়। গতবারের সেশন ফিসের সময় যেসব খাতে টাকা খরচ হয়নি সেখান থেকেই তিনি এবারের বাড়তি খরচ (সত্যিই যদি কিছু হওয়ার মত থাকে) তিনি অনায়াসে মিটাতে পারতেন। তা না করে তিনি পরে ফেরত দিয়ে দেবার মত হাস্যস্কর কথা বলেছেন।
যাহোক, এসসি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে আদায়কৃত সেশন ফির যাবতীয় টাকা শিক্ষার্থীদের ফেরৎ দেয়া হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। অন্য কোন বিদ্যালয় যাতে এই অনৈতিক উদাহরণ অনুসরণ না করে সেজন্য আমরা অনুরোধ জানাই। মনে রাখতে হবে করোনার অভিঘাত কাটিয়ে উঠতে পুরো দেশ একযোগে কাজ করছে। সেখানে একটি বিদ্যালয়ে এমন অনৈতিক কর্মকা- সেই কর্মযজ্ঞের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ এবং অমানবিক।