আলোচনা সমালোচনার বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়টি জেলার মাধ্যমিক স্তরের নারী শিক্ষার জন্য যথেষ্ট সুনামের অধিকারী ছিলো। এখনও সে সুনাম বিদ্যালয়টি বয়ে চলেছে। তবে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত প্রধান প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিদ্যালয়টি আগের সুনাম শতভাগ ধরে রাখতে পারছে না। বিশেষ করে এসএসসি’র ফলাফলের ক্ষেত্রে আগের অবস্থা থেকে ক্রমশ বিদ্যালয়টি নি¤œদিকে ধাবিত হচ্ছে বলে পরিবেশিত তথ্য থেকে বেশ বুঝা যায়। সদ্য প্রকাশিত এসএসসি’র ফলাফলে বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর অকৃতকার্য হওয়াটি এর অন্যতম। যদিও প্রধান শিক্ষক বলেছেন, গত বন্যার কারণে এবারের ফলাফলে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটেছে তবুও এই বক্তব্যকে একমাত্র সত্য বলে আমাদের মনে হয় না। কারণ সংবাদে পরিবেশিত তথ্য থেকে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাসগুলো সঠিকভাবে করানো হয় না। নিয়মিত ক্লাসের পরিবর্তে কোচিং করানোকেই অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। স্বাভাবিক ক্লাসের সময়েও কোচিং করানোর তথ্য আছে। প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশেষ করে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বেশ জোরালোভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে একজনের জন্য একাধিক ফরম ক্রয়ের ব্যবস্থা বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অতীতে ছাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত সেশন ফিস আদায়ের তথ্যও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এছাড়া বিদ্যালয় অভ্যন্তরে গবাদি পশু পালনের তথ্যও শোনা যায়। অর্থাৎ সবকিছু মিলিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি যে এখন আর ভালো নেই তা সকলেই বেশ ভালো অনুধাবন করতে পারছেন। একটি সফল বিদ্যালয়ের এমন অবস্থায় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক মাত্রই ব্যথিত।
বিদ্যালয়টি ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ভর্তির জন্য মাউশি’র নির্দেশনা অনুযায়ী কেন অনলাইন ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হতে পারল না? অনেক বিদ্যালয়ই তো অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যথেষ্ট সময় রেখেই যেখানে মাউশি অনলাইন কার্যক্রমে সংযুক্ত হওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের যাবতীয় তথ্য চেয়েছিলো তখন সেই তথ্য দিতে না পারা অথবা দিলেও অনলাইন প্রক্রিয়ায় নিজেদের অন্তর্ভূক্ত করার ব্যর্থতা বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা নিঃসন্দেহে। এতে কেউ যদি ধারণা করে, অনলাইনে গেলে তারা অতিরিক্ত ফরম বিক্রি করে বাণিজ্য করতে পারবেন না; তাহলে কি দোষ দেয়া যাবে? জেলার একটি সরকারি বড় বিদ্যালয় যদি ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার সাথে মানানসই কাজে ব্যর্থ হয় তাহলে এর দায় কার?
কোনো প্রতিষ্ঠানের সফলতার প্রধান নিয়ামক হলেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রশাসনিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি। আলোচ্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়নে আন্তরিক হলে এই বিদ্যালয়ের সবকিছুই সন্তোষজনক ও অভিযোগমুক্ত থাকত। কারণ শহরের অগ্রসর ও মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরাই এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সচেতন থাকেন সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়ে। আমরা চাই বিদ্যালয়টি আগের সুনাম ফিরে পাক। বিদ্যালয় অভ্যন্তরে যেসব অনিয়ম ঘটছে সেগুলো দূর হোক। বিদ্যালয় প্রধানকে কথার পরিবর্তে কাজে বেশি পারদর্শিতা দেখাতে হবে। শিক্ষা দান করাই যার কাজ তিনি যদি নিজের ফেসবুক ওয়ালে শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরের বিষয়বস্তু নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন তাহলে বিদ্যালয়ের মনোযোগে ঘাটতি পড়বে এটা ম্বাভাবিক ব্যাপার।
মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন ও অভিযোগমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অধিকতর তৎপরতা দেখাতে হবে। আমরা আশা করব নারী শিক্ষার অন্যতম প্রধান এই বিদ্যাপীঠটি আমাদের সন্তানদের কেবল সুশিক্ষায়ই শিক্ষিত করে তুলবে না বরং সুনাগরিক হিসাবেও গড়ে তুলবে।