আকরাম উদ্দিন
শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে টাঙ্গাইলের কাঁঠাল। এই কাঁঠাল সুঘ্রাণ ও সুস্বাদু বলে দাবি বিক্রেতাদের। কাঁঠাল বিক্রির ভরা মওসুম পুরো জুন মাস। বিক্রি চলবে জুলাই মাস পর্যন্ত। এবার কাঁঠালের উৎপাদন গত বছরের চেয়ে অনেকটা কম। তাই কাঁঠালের দাম তুলনামূলক বেশি বলে জানান একাধিক পাইকারী বিক্রেতা।
সুনামগঞ্জ শহরে স্থানীয় কাঁঠাল, নরসিংদীর ও বেলাবরী কাঁঠাল আমদানী হয়নি। এই জন্য শহরের মানুষ ভালমানের কাঁঠাল কিনতে পারেননি বলে জানান একাধিক ক্রেতা। শহরের পুরাতন জজ কোর্ট এলাকায় রয়েছে দুইটি পাইকারী কাঠাঁলের দোকান। কাজীর পয়েন্টে রয়েছে একটি। খুচরা বিক্রি হচ্ছে বালুর মাঠ এলাকায় এবং ট্রাফিক পয়েন্টের বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ীরাও প্রতিদিন বিক্রি করছেন দুই একটি করে কাঁঠাল। এই কাঁঠাল তাদের নিজস্ব গাছের বলে দাবি করেন। আবার বাইরের কাঁঠাল ফেরি দিয়ে বিক্রি করেন অনেক খুচরা ব্যবসায়ী। কোনো কোনো সবজি ব্যবসায়ী কৌশলে বাইরের কাঁঠাল কিনে এনে বিক্রি করেন নিজের গাছের কাঁঠাল বলে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এবার বাজারে বড় আকারের কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩শ’ টাকা করে। সর্বনি¤œ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে। এর চেয়ে নিচের দামের কাঁঠাল তেমন ভাল নয়।
শহরতলীর গ্রাম পূর্ব ইব্রাহীমপুরের সাজাউর রহমান বলেন, এক সবজি বিক্রেতা প্রতিদিন অন্তত ২টি করে কাঁঠাল নিয়ে বসে। পাশে থাকে সবজিও। জিজ্ঞেস করলে জানায় তার নিজের গাঁছের কাঁঠাল। খুবই সুস্বাদু ও নিরাপদ। মানুষও বিশ্বাস করে নেয়। একদিন সকালে দেখি ওই লোক পুরান কোর্ট থেকে কাঁঠাল কিনে এনে সবজির পাশে রেখেছে। আমি জিজ্ঞেস করতেই বলে নিজের গাছের কাঁঠাল।
ক্রেতা জুলহাস মিয়া বলেন, বাইরের জেলার বেলাবরী কাঁঠাল এবার বাজারে নেই। বেলাবরী কাঁঠাল খুবই স্বাদ। খুসায় ও সুঘ্রাণে সেরা। বাজারে কাঁঠালের দাম গত বছরের তুলনায় এবার অনেকটা বেশি।
পাইকারী বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, অন্যান্য বছর জেলার বাইরে থেকে প্রতিদিন ৪-৫ গাড়ি কাঁঠাল আমদানী করা হতো। এবার উৎপাদন কম থাকায় কাঁঠাল আনতে পারিনি। দাম পড়ে বেশি। সুনামগঞ্জ শহরে অন্যান্য বছর পাইকারী বিক্রেতা ছিল ৭-৮ জন। এবার মাত্র তিনজন। অন্যরা খুচরা ব্যবসায়ী নিজে কিনে এনে ২-১ টি করে বিক্রি করেন সবজির দোকানে রেখে।