- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

এস.সি. বালিকা বিদ্যালয়ে শহীদ আবুল হোসেনের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হোক

তৎকালীন আনসার সদস্য আবুল হোসেন সুনামগঞ্জের প্রথম শহীদ। ২৭ মার্চ পাক হানাদার বাহিনির একটি দল সুনামগঞ্জ এসে সার্কিট হাউসে (বর্তমান পুরাতন সার্কিট হাউস) অবস্থান নেয়। ২৮ মার্চ মুক্তিকামী হাজারো জনতা হানাদার বাহিনির এই দলটিকে চতুর্দিকে ঘিরে ফেলে সশস্ত্রভাবে। সশস্ত্র দলের একটি অংশ অবস্থান নেয় সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে। তখন বিদ্যালয় এবং সার্কিট হাউসের মাঝখানে আর কোন স্থাপনা  ছিল না। আবুল হোসেন বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে উত্তরমুখী জানালার কাছে অবস্থান নিয়ে সার্কিট হাউস লক্ষ করে ফায়ারিং করতে থাকেন। একসময় হঠাৎ করে জানালাঅব্ধি তিনি মুখ তুলে ফেলেছিলেন। সতর্ক পাক হানাদার বাহিনির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে যান তিনি। সরাসরি আবুল হোসেনকে টার্গেট করে গুলি ছুঁড়ে পাক বাহিনির কোন এক সদস্য। গুলিটি আবুল হোসেন মাথা ভেদ করে। তিনি লুটিয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের মেঝেতেই। প্রাণদান করেন দেশমাতৃকার স্বাধীনতার সোপানতলে। আশ্চর্য হলো সুনামগঞ্জের প্রথম শহীদ যে স্থানে আত্মদান করেছিলেন সেই স্থানটি এখন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয় নি। এখানে নেই কোন স্মৃতিচিহ্ন। অথচ ঐতিহাসিক মর্যাদা ও স্বাধীনতার চেতনাকে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য; সব দিক দিয়েই জায়গাটি চিহ্নিত হওয়া ছিল জরুরি। শহরের পিটিআই বধ্যভূমির মূল স্থানটি অচিহ্নিত রয়ে গেছে আজোবধি। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, পিটিআইর যে স্থানে বধ্যভূমি ছিল সেই স্থানটিতে নির্মাণ করা হয়েছে একটি আবাসিক ভবন। জেলার অপরাপর বৈধ্যভূমি বা গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ স্থানের অধিকাংশই এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে অনির্ণেয় অবস্থায়। এরকম অবস্থা হলো যুদ্ধের ইতিহাস, আমাদের বীর বাঙালিদের বীরত্বগাঁথা লুকিয়ে রাখার এক ধরনের অপকৌশল। স্বাধীনতার চার বছর পর দেশটির রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা আসলেন তারা পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আড়াল, অস্বীকার করার এক ধরনের সচেতন প্রয়াসে লিপ্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন এরকম শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল। সুতরাং ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বলয়ের নিস্পৃহতা বহুলাংশে দায়ী। এখন স্বাধীনতার চেতনাকে হৃদ্ধ ও সংহত করার লক্ষে কাজ শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বলেছেন, সুনামগঞ্জের যেখানে যত বধ্যভূমি আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন প্রেক্ষাপটে আমরা আশাবাদী হতে পারি সুনামগঞ্জের প্রথম শহীদ আবুল হোসেন নিহত হওয়ার স্থানটি সংরক্ষিত হবে।
সতীশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটু আন্তরিক হলেই এ কাজটি সম্পন্ন করা যায় অনায়াসে। এজন্য খুব বেশি টাকা খরচের দরকার পড়ে না। যে কক্ষটিকে আবুল হোসেন শহীদ হয়েছিলেন সেই কক্ষটিকে চিহ্নিত করে ওটিকে শহীদ আবুল হোসেন কক্ষ নামকরণ করে জাদুঘরের মতো তৈরি করা যেতে পারে। এই জাদুঘরে আবুল হোসেন এর পরিচিতিসূচক নানা উপকরণসহ বিদ্যালয়ের সুদীর্ঘ ৭৫ বছরের গৌরবময় ইতিহাসের কিছু নিদর্শণ সংরক্ষণ করা যাবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতি বছরের ২৮ মার্চ, যে দিনটিতে আবুল হোসেন শহীদ হয়েছিলেন, সেই দিনে তাঁকে স্মরণের আয়োজন করতে পারেন। এগুলো করতে বিশেষ কোন টাকার প্রয়োজন হয় না। বিদ্যালয়ের যে স্বাভাবিক কাজকর্ম তার ভিতরে থেকেই এগুলো করা যায়। আমরা আশা করব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবনে সক্ষম হবেন।

  • [১]