- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

এ্যাম্বুলেন্স আছে ড্রাইভার নেই, সুবিধা বঞ্চিত হাওরবাসী

গোলাম সরোয়ার লিটন
তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের তরং গ্রামের বাসিন্দা শামসুল আলম আখঞ্জী। সোমবার বিকালে দুর্গম হাওর নদী পেরিয়ে অসুস্থ চাচা কে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আসেন। চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা চাচাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে ওসমানী মেডিকেলের দূরত্ব ১শত কিলোমিটার প্রায়। কিন্তু চালক না থাকায় তিনি এ্যাম্বুলেন্স সুবিধা নিতে পারেননি। এতে করে আশি বছর বয়সের মুমুর্ষ চাচাকে নিয়ে বিপাকে পড়েন ভাতিজা শামসুল আলম। কারণ উপজেলাজুরে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে আর কোন এ্যাম্বুলেন্স নেই। পরে এই শত কিলোমিটার পথ যেতে তিনি একটি সিএনজি ব্যবহার করেছেন। উপজেলাবাসী এই করোনা দুর্যোগের সময় দ্রুত একজন এ্যাম্বুলেন্স চালক দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার অভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগ অনেক খারাপ ও ঝুঁকিপুর্ণ। দ্রুত যাতায়াতে প্রধান মাধ্যম হেমন্তে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল আর বর্ষায় বিভিন্ন ধরণের নৌযান।
উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সুত্র জানায়, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে একটি আধুনিক এ্যাম্বুলেন্স প্রদান করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এতে করে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বৃহদাংশের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হয়। কারণ এর মাধ্যমে সমগ্র তাহিরপুর উপজেলা এবং ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও বিশম্ভরপুর উপজেলার একাংশের লোকজন স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনে এই এ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু লোকজন তাদের প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করতে গিয়ে জানতে পারেন চালক নেই, তাই চলছেনা এ্যাম্বুলেন্স।
আবার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কোন জীপগাড়ি না থাকলেও এজন্য একজন চালক আছেন। জীপগাড়ির চালক বর্তমানে প্রেষণে সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। যদিও চালকের বেতন ভাতা তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকেই হচ্ছে।
স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের ইউএইচও জানান, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪৭ জনের করোনা ভাইরাসের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জনের করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়া গেছে। সবগুলোই নেগেটিভ। আর ৭ জনের পরীক্ষার ফলাফল আগামিকাল (মঙ্গলবার) হাতে আসবে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে এ সকল পরীক্ষা হয়। এ মুহুর্তে এ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখা একান্ত প্রয়োজন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই এ্যাম্বুলেন্সটিতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা রযেছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এটি কাজে লাগবে।
শামসুল আলম আখঞ্জী বলেন, আমি একজন গণমাধ্যম কর্মী। কিন্তু আমার জানা ছিলনা চারমাস আগে বহুল কাঙ্খিত এ্যাম্বুলেন্সটি স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আসলেও এর জন্য কোন চালক নেই।
তাহিরপুর উপজেলা ‘খেলাঘর’ আসরের সাধারণ সম্পাদক মাকছুম মিয়া বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি হিসাবে এ্যাম্বুলেন্স আসলেও চালক না থাকায় এটি একদিনও ব্যবহার হয়নি। চালক থাকলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ এর সুবিধা পাবে।
তাহিরপুরের বাসিন্দা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক নাজমুস শাকিব অভি বলেন, হাওরবেষ্টিত উপজেলা তাহিরপুর। লোকজন দুর্গম হাওরপাড়ি দিয়ে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আসে। এই করোনা দুর্যোগে আমরা দ্রুত এ্যাম্বুলেন্সটির জন্য চালক চাই।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ইকবাল হোসেন বলেন, আমি আজও (সোমবার) চালক দেওয়ার জন্য উর্ধ¦তন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত পাঠিয়েছি। উপজেলা সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি উত্থাপন করেছি। আশা করছি দ্রুতই চালক পাব।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, চালকের অভাবে আধুনিক এ্যাম্বুলেন্সটি অচল হয়ে আছে। শীঘ্রই এর জন্য একটি চালক নিয়োগের ব্যবস্থা করব।

  • [১]