সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনীন্দ্র কিশোর চৌধুরী ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে কাজের নি¤œমান দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তদারককারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্থের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই সড়কের কাজের মান যাচাইয়ের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। কারিগরি কমিটির তদন্তে কাজের নি¤œমান প্রমাণিত হলে ঠিকাদারকে দিয়ে নতুন করে পুরো কাজ করিয়ে নেয়া হবে এবং ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। উল্লেখ্য এই সড়কের কাজে নি¤œমানের বিষয়ে স্থানীয়দের প্রবল আপত্তি উঠায় এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সোমবার এই পরিদর্শন করেছেন। সড়কের কাজের অবস্থা দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যে ব্যবস্থা নিয়েছেন সেটি সরকারি উন্নয়ন কাজে জবাবদিহিতার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এর ফলে সরকারি অর্থ বরাদ্দে যেসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়ে থাকে সেখানে একধরনের বার্তা পৌঁছে যাবে যার অর্থ হবেÑ এরকম অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ফলশ্রুতিতে সরকারি বরাদ্দের সিংহভাগ লুটেপুটে খাওয়ার যে সংস্কৃতি আমাদের ঠিকাদারী জগতে গড়ে উঠেছে সেটিও কিছুটা স্থিমিত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে পরিষ্কার কথা হলো, এভাবে ঢাকা থেকে এসে কাজের মান বজায় রাখা কখনও সম্ভব নয়। যদি না স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সচেতন ও দায়িত্বশীল হন তাহলে আমরা যে মান বজায় রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করি তা কোনভাবেই অর্জিত হবে না। দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কের কাজের নি¤œমানের বিষয়টি কারিগরি জ্ঞানহীন স্থানীয় সাধারণ মানুষও বুঝতে পারলেন আর কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন তদারকি প্রকৌশলীগণ বুঝতে পারলেন না, এমন অসহনীয় অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে আগে। পত্রিকায় প্রকাশ হলেই কিংবা কোন বিষয়ে জনমত প্রবল হলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই ওই জায়গা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। জনগণের করের টাকায় দেশে যে সরকারি প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তাদের আসল কাজই হলো জনস্বার্থ সংরক্ষণ করা। এর অর্থ হলো ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে যখনই কাজে মান বজায় রাখার ব্যাপারে ঠিকাদার শিথিল হয়েছিলেন তখনই দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীগণের জনস্বার্থ সংরক্ষণের দায়বোধ নিয়ে ঠিকাদারকে সঠিক মান বজায় রেখে কাজ করাতে বাধ্য করানো। কিন্তু এ অবস্থাটি হয়ে উঠে না। কেন হয় না সেটি সকলেই ভাল বুঝেন। এই তেলে-জলে মিশার অবস্থা যতদিন অবসান না ঘটবে ততদিন আমাদের সরকারি কাজের মান বজায় রাখা দুঃসাধ্য বটে।
তারপরেও ধন্যবাদ সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়কে। তাঁরা যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন, এজন্য। এটিকে আমরা প্রতীকী হিসেবে দেখতে চাই। মনে করতে চাই এই প্রতীকী ব্যবস্থাটিই সাধারণ ব্যবস্থায় রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাবে। একটি সড়কের জন্য বরাদ্দ প্রাপ্তি থেকে কাজ শেষ করা পর্যন্ত বেশ জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এতসব ধাপ ডিঙিয়ে যদি পর্বতের মুষিক প্রসবের মতো ফলাফল হয় তাহলে দুঃখের অন্ত থাকবে না। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের অনুরোধ, এই সড়কের নি¤œমানের কাজের বিষয়টি যাতে কোনভাবেই ধামাচাপা না পড়ে এবং এ ধরনের তদারকি যেন অপরাপর ক্ষেত্রগুলোতেও সম্প্রসারিত হয়।