- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ওএমএস’র চাল বিক্রি বন্ধ- দরিদ্র লোকজন খালি হাতে বাড়ি ফিরছে

স্টাফ রিপোর্টার
সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টা। ওএমএস চাল বিক্রির ডিলার পয়েন্ট সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা নতুন বাজারে চাল কেনার অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়ান উত্তর কামলাবাজা গ্রামের শিপ্রা দেবনাথ। লাইনের পেছনে দাঁড়ান লম্বাবাঁক গ্রামের মরিয়ম বেগম, উত্তর কামলাবাজ গ্রামের রোকেয়া বেগম, মিনারা বেগমসহ আরো অনেকেই। তাঁদের সাথে আশপাশের গ্রামের আরো ১০-১২ মহিলা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন।
তারা জানেন না ওএমএস চাল বিক্রি বন্ধ। সবাই আশায় ছিলেন ডিলার দোকান খোললে  ১৫ টাকা কেজি দরে চাল কিনবেন। ডিলারের দোকানে ওএমএসের চাল না থাকার বিষয়টি না জানায় সবাই      
ব্যাগ হাতে অপেক্ষা করছিলেন চাল কেনার জন্য।
দরিদ্র নারীদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি উপজেলা উদীচীর সভাপতি আকবর হোসেনের নজরে আসায় তিনি এগিয়ে গিয়ে ডিলারের দোকানে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধের বিষয়টি জানান। উপস্থিত সবাইকে অনুরোধ করেন বাড়ি ফিরে যেতে। এর পর উপস্থিত সবাই খালি হাতে বাড়ি ফিরেন।
আকবর হোসেন জানান, আমাদের ধারনা চাল সংকটের কারণে ওএমএস-এর চাল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা দাবি জানাই ফসলহারাদের জন্য দ্রুত এই কার্যক্রম চালু করা হোক।
জামালগঞ্জ সরকারি খাদ্য গোদামের ওসি এলএসডি অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘ সরকারি সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা মোতাবেক গত ৩০ জুন থেকে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। কেন বন্ধ রয়েছে জানতে চাইলে বলেন,‘ এটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ ভাল জানবেন।’
এদিকে হঠাৎ করে কোন ঘোষণা ছাড়াই দরিদ্রদের মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) এর চাল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষ। গত ১ জুলাই থেকে সুনামগঞ্জের ১১০টি ডিলার পয়েন্টে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ওএমএসের চাল বিক্রি পুনরায় চালু করার জন্য গত ২ জুলাই রোববার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে গতকাল সোমবার বিকাল পর্যন্ত কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। কবে আবার ওএমএস চাল বিক্রির কার্যক্রম চালু হবে তা নিশ্চিত করতে বলতে পারেননি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা।
জানা যায়, হাওরের বোরো ফসলহানির পর গত ৬ এপ্রিল সুনামগঞ্জের ৪২ টি ডিলার পয়েন্টে ৪২ ডিলার প্রতিদিন ১ মে. টন চাল ও ১ মে. টন আটা (প্রত্যেককে ৫ কেজি করে ২০০ জনের মাঝে) বিক্রি করতেন। পরে ২৭ এপিল আটা বন্ধ করে ২ মে. টন করে চাল বিক্রি শুরু করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাল্লায় ভিজিএফের ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ওএমএস ডিলার বৃদ্ধি করে ১১০ জন করেন। এরপর থেকে ১১০ ডিলার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন ১ মে.টন করে চাল বিক্রি করতেন। প্রতি ১ মে. টন চাল ৫ কেজি করে ২০০ জন হিসাবে (১১০ মে.টন ) জেলার ২২ হাজার পরিবার প্রতিদিন ৫ কেজি করে চাল কেনার সুযোগ পেত। কিন্তু গত ১জুলাই থেকে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফসলহারা ২২ হাজার পরিবার বিপাকে পড়েছেন।  
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা বলেন,‘ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশেই সুনামগঞ্জসহ সারা দেশেই ওএমএসের চাল বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত ৩০ জুন বিষয়টি জেলার সকল ডিলারদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ডিলারদেরকে অনুরোধ করা হয়েছে বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান- মেম্বারদের মাধ্যমে স্থানীয়দের জানাতে। সুনামগঞ্জে দ্রুত এই কার্যক্রম আবাও চালু করার জন্য আমরা চিঠি লিখেছি। তবে সোমবার পর্যন্ত কোন চিঠি পাইনি আমরা।’ গোদামে চাল সংকটের কারণে ওএমএসের চাল বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ সংকট কিছুটা রয়েছে। আমরা আশা করি বিদেশ থেকে চাল আমদানীর পর আবারও চাল বিক্রি শুরু হবে।’

  • [১]