পাগলাবাজার প্রতিনিধি
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব পাগলায় খুদিরাই পয়েন্টের ওএমএসের চাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে রইচ মিয়া নামের একজনকে আটক করেছে চিকারকান্দি এলাকাবাসী। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করলে পুলিশ ওএমএসের চাল বিক্রির কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিকারকান্দি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাকে গ্রেফতার না করে ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমিন মিয়া তারা বলেন- আমাদের সকলের সামনে রইচ মিয়া স্বীকার করেছে সে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন মিয়ার কাছ থেকে চাল এনে চিকারকান্দি গ্রামের মৃত ঈমান আলীর ছেলে জামাল উদ্দিনের কাছে ২০০০ টাকা দরে ২ বস্তা চাল বিক্রি করেছে। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কি হতে পারে ?
স্থানীয়রা জানান, ২শ জনকে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তারা দিচ্ছে না। ৭০-৮০ জনকে চাল দিয়ে চাল শেষ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করছে। অতিরিক্ত যে চালগুলো তারা কারচুপি করে রাখে তা বেশি দামে বাজারে রইচ মিয়াদের কাছে বিক্রি করে দেয়। তাদের কয়েকজন কালোবাজারী আছে, যারা এ চাল গোপনে ক্রেতার বাড়ি পৌঁছে দেন। সবার সামনে রইচ মিয়া স্বীকার করেছে ওএমএসের চাল সে বিক্রি করেছে। কিন্তু যার বাড়িতে চাল বিক্রি করেছে তার কাছে বস্তা না পাওয়ায় দারোগা সাহেব তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। বস্তা পাবেন কোথায়? তারা তো বস্তা বদলে চাল বিক্রি করে। পুলিশ ও সাংবাদিক আসার আগে অভিযুক্ত শাহীন মিয়াও চিকারকান্দি বাজারে ছিলো, তাদের আসার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে পালিয়েছে।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক মিয়া এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। শাহীন মিয়া চাল কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত জানিয়ে তিনি বলেন, শাহীন মিয়া যখন চাল এনে বাজারের একটি দোকানে রাখে তখন আমি ও ওয়ার্ড মেম্বারের কাছে ক্ষমা চায়। সে বলে আর এসব করবে না। আমরা সরকারী চাল ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে একটি শালিস বসার কথা বলি। পরে পুলিশ এসে তদন্ত করে। সবার সামনে স্বীকার করার পরও সরকারী বস্তা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়।
আওয়ামী লীগ নেতা মমিন মিয়া বলেন, সবার সামনে স্বীকার করার পরও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেন নি। আমরা অনুরোধ করার পরও তারা নিরব ছিলো। সরকার আমাদের জন্য অনেক কিছু করছে। কিন্তু কিছু অসাধু মানুষ সরকারের সব অর্জন বিনষ্ট করছে।
চিকারকান্দি গ্রামের ফজলু মিয়া, ইসলাম উদ্দিন বলেন- দলীয় প্রভাব খাটিয়ে চাল কারচুপি করায় হয়। সাধারণ মানুষ চাল কিনতে পান না, আর তারা চুরি করে চাল বিক্রি করে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। চাল কিনতে গেলে বলে চাল নাই। ১৫ টাকা দরে চাল কিনার সময় তো ধাক্কা দিয়ে লাইন থেকে সরিয়ে দিতো। ৭০-৮০ জনকে দিয়ে বলে চাল নাই। এদের বিচার হওয়া দরকার।
এ ব্যাপারে ডিলার ছুনু মিয়া বলেন, আমি এসবের কিচ্ছু জানি না। আমার গোদামের চাল ঠিক আছে। সকালে উপজেলার খাদ্য অধিদপ্তরের লোক এসে আমার সব কাগজপত্র দেখে গেছেন। কোনো সমস্যা নাই।
অভিযুক্ত শাহীন মিয়া তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, প্রতিপক্ষ অনেক কিছুই বলবে। এসব মিথ্যা।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার খাদ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন- এখনো কোনো প্রমাণ পাইনি। খবর পেয়ে আজ (বুধবার) সকালে লোক পাঠিয়েছি। কোনো সমস্যা নাই। প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবো।