- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ওএমএসের ৬ টন চাল হজম করলেন তিনি

বিশেষ প্রতিনিধি
ওএমএসের চাল বিক্রির জন্য স্ব স্ব ইউনিয়নের ডিলার ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে ডিলারেরই খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করার কথা। কিন্তু ধর্মপাশা ঘটেছে ঠিক তার বিপরীত। ধর্মপাশা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ডিলারকে না জানিয়ে চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে খাদ্যগুদাম থেকে ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে তা আত্মসাত করেছেন। ফলে ওই তিনটি ইউনিয়নের জনগণ খোলাবাজার থেকে দুই দিন চাল কিনতে পারেননি।
অকাল বন্যায় ও ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের ফলে হাওরাঞ্চলে ফসলডুবির পর খাদ্য চাহিদা মেটাতে ধর্মপাশা উপজেলার দশটি ইউনিয়নের ১১টি পয়েন্টে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া মধ্যনগর ইউনিয়নের ডিলার শাখাওয়াত হোসেন, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ডিলার রাজু আহম্মেদ আয়নল ও বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ডিলার আব্দুর রাজ্জাককে না জানিয়ে চলতি মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলনের জন্য চালানের মাধ্যমে ৮১ হাজার টাকা জমা দেন। পরে তিনি সেই চাল উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। ফলে ওই তিনটি ইউনিয়নের ডিলাররা ১৪ ও ১৫ তারিখের চাল বিক্রি করতে পারেননি।
তিন জন ডিলাররের মধ্যে একজন ডিলার নাম প্রকাশ
 না করার শর্তে বলেন, ‘খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা ১৩ তারিখে ব্যাংকে টাকা জমা না দেয়ার জন্য তাদের জানায়। পরে তিনি (কর্মকর্তা) নিজেই টাকা জমা দিয়ে ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেন। তাই ১৪ ও ১৫ তারিখ তারা (ডিলাররা) চাল বিক্রি করতে পারেননি। এ নিয়ে এলাকবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মুঠোফোনে এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি এখন বংশীকুন্ডায় চাল বিতরণে আছি। উপজেলা সদরে এসে পরে কথা হবে।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, ‘এ ব্যাপারে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। দুয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।’

  • [১]