- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ওসির সামনেই হাতকড়া পরিয়ে ক্ষমা চাওয়ানো হয় আফজালকে

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশার ওসি দেলোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমান বিক্ষুব্ধ হেফাজত সমর্থকসহ বিক্ষুব্ধদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয় ঢাবি শিক্ষার্থী আফজালকে। এসময় আফজালকে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করে পুলিশ। অবশ্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসআই ও এএসআই এ ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খানের হাতে এসআই জহিরুল ইসলামের নির্দেশে হাতকড়া পরিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এএসআই আনোয়ার হোসেন। কিন্তু জহিরুল ইসলাম দাবি করেছেন আফজালের হাতে হাতকড়া পরানোর জন্য এএসআই আনোয়ার হোসেনকে কোনো নির্দেশনা দেননি তিনি।
আফজাল খানকে জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে যখন অবরুদ্ধ করা হয় তখন খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানার এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেন সেখানে পৌঁছান। এ সময় এএসআই আনোয়ার হোসেন আফজাল খানের সাথে কার্যালয়ের ভেতরে এবং এসআই জহিরুল ইসলাম বাইরে অবস্থান করেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে ধর্মপাশা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আফজাল খানকে দলীয় কার্যালয় থেকে বের করে আনেন। এএসআই আনোয়ার হোসেন তাঁর (আফজাল) হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন এবং ওসি দেলোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমান বিক্ষুব্ধ জনতার মুখোমুখি দাঁড় করানো হয় আফজালকে।
এ সময় আফজালকে বিক্ষুদ্ধ জনতার কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওইদিন (বুধবার) রাতেই এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেনকে ক্লোজড করা হয়েছে। পরেরদিন বৃহস্পতিবার ওসি দেলোয়ার হোসেনকেও প্রত্যাহার করা হয়।
ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাবির সমাজ কল্যাণ বিভাগের মাস্টার্স ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ও ঢাবি ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-সম্পাদক আফজাল খানকে জয়শ্রী বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম আলমের ছেলে আল মুজাহিদ লাঞ্ছিত করে তাকে কিল ঘুষি মারে। এ সময় মুজাহিদের বাবা আবুল হাসেম আলম সেখানে উপস্থিত হয়ে আফজালকে জোরপূর্বক স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখে।
পরে মুজাহিদ ও তার বাবা আফজালের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার গুজব ছড়িয়ে স্থানীয় মাদ্রাসাসহ তার অনুসারীদের ফোন দেয়। এতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাসহ অনেকেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়ে আফজালের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘন্টা দুয়েক পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আফজালকে উদ্ধার করে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে উপস্থিত সকলের সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে।
বুধবার বিকেলে আবুল হাসেম আলমকে দল থেকে বহিস্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় আফজাল খান বুধবার বিকেলে আল মুজাহিদসহ ২৯ জনকে আসামি করে ধর্মপাশা থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। এ মামলায় বৃহস্পতিবার রাতেই আবুল হাসেম আলম ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শিক্ষার্থী আফজাল খান বলেন, ‘আমাকে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে এএসআই আনোয়ার হোসেন হাতকড়া পরায়। বাইরে এসে ক্ষমা চাওয়ার পর দেখি ওসি এখানে (ঘটনাস্থলে) উপস্থিত রয়েছেন। ’
এএসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা এসআই জহিরুল ইসলামের নির্দেশে আমি হাতকড়া লাগিয়েছি। সিনিয়রে নির্দেশতো মানতেই হয়।’
এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এএসআই আনোয়ারকে কার্যালয়ের ভেতরে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু হাতকড়া পরানোর জন্য আমি নির্দেশনা দেইনি। ওসি স্যার ঘটনাস্থলে আসার পর আনোয়ার হোসেন আফজাল খানকে হাতকড়া পরিয়ে বাইরে নিয়ে আসে। পরে ওসি স্যারের উপস্থিতিতেই আফজাল খানকে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। ঘটনাস্থলে সিনিয়র কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলে দায় দায়িত্ব তাঁর উপরই বর্তায়।’
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বললেন, ধর্মপাশার ওসি দেলোয়ার হোসেনসহ ৩ জনকে এই ঘটনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদেরকে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। এই বিষয়ে মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

  • [১]