ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের সুরমা নদীতে পাথর ক্রাসিং ও লোডিংয়ের কাজে ব্যবহার করা ভ্রাম্যমাণ ওয়াসিং মেশিনের কারণে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি নদীতে ডাস্ট পড়ে নদীর তলদেশ ক্রমশঃ ভরাট হয়ে নদী হারাচ্ছে নাব্যতা। একাধিক ওয়াসিং মেশিন ব্যবহারে পানি দূষিত হওয়ায় নদীতে মাছের বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।
সুরমা নদীর পাড়ে বসবাসরত গ্রামের লোকজন নদীর পানির উপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল হওয়া এসব গ্রাম্য লোকজন ওয়াসিং মেশিনের কারণে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। দৈনন্দিন জীবনে নদীর পানিতে গোসল করাসহ গ্রামের লোকজন বিভিন্নভাবে গৃহস্থালী কাজেও ব্যবহার করছে নদীর পানি। যন্ত্রদানব ওয়াশিং মেশিনের কারণে সুরমা নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
প্রভাবশালীরা বাড়তি আয়ের জন্য এসব যন্ত্রদানব অবৈধ ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সাহস পাচ্ছে না। এমেই নদীর পানি দূষিত হওয়ায় নদীতে গোসল করা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ। সুরমা নদীর তীরবর্তী ক্রাসার ও ভ্রাম্যমাণ ওয়াসিং মেশিন বন্ধে গত ২১ জানুয়ারি ইউএনও বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন চরেরবন্দ মহলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের পক্ষে মৃত সুলেমান আলীর পুত্র আমির আহমদ।
এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার(ভুমি) শেখ হাফিজুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। জানা যায়, শহরের তাতিকোনা থেকে পুরাতন কাষ্টম এলাকা পর্যন্ত ২০-২৫টি ওয়াসিং মেশিন দিয়ে দিবা-রাত্রি পাথর ক্রাসিং, লোডিংয়ের ও ওয়াশিংয়ের কাজ করছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ি। তবে দিনের চেয়ে রাতেই ওয়াসিং মেশিন বেশী ব্যবহার হয়ে থাকে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এসব মেশিন ব্যবহারের কোন বৈধতা নেই বলে ভুক্তভোগি অনেকেই দাবী জানিয়েছেন।
নোয়ারাই ও তাতীকোনা থেকে মন্ডলীভোগ পর্যন্ত কয়েকটি মহল্লার সাধারণ মানুষ এবং ছাতকে আসা শত শত বার্জ-কার্গো, ভলগেট-ইঞ্জিন চালিত নৌকায় থাকা লোকজন নদীর পানি দৈনন্দিন কাজে নিয়মিত ব্যবহার করে থাকেন। নদীর পানি সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হওয়ার আগেই ভ্রাম্যমাণ ওয়াসিং মেশিন বন্ধ করা না গেলে নদীর পানির উপর নির্ভশীল কয়েক হাজার মানুষ পড়বে চরম বিপাকে।
গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ছাতক বহুমুখী মডেল হাইস্কুলে ছাতক লাইমষ্টোন ইম্পোর্টাস এন্ড সাপ্লায়ার গ্রুপের সভায় সভাপতির বক্তব্যে অন্যান্য দাবীর মধ্যে প্রধান অতিথি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের কাছে ছাতকের সুরমা নদীতে ওয়াশিং মেশিন বন্ধের দাবী জানানো হয়।
স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর নওশাদ মিয়া ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাসুক মিয়া জানান, ওয়াসিং মেশিন ব্যবহার না করার জন্য বারবার বলেও কোন লাভ হয় নি। কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থের কারণে নদী কেন্দ্রিক হাজারো মানুষ পড়েছে বিপাকে।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ হাফিজুর রহমান জানান, নদীর নাব্যতা ও পরিবেশ রক্ষা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবেশ দূষণে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।