স্টাফ রিপোর্টার
দেখতে দেখতে কেটে গেল আট বছর। এখনও বিষাদের ছায়া সরেনি গজারি বনের ভেতরে নুহাশপল্লী থেকে শুরু করে হুমায়ূনভক্ত কোটি কোটি পাঠক-দর্শকের হৃদয় থেকে। নুহাশপল্লীর সবুজ মাঠ, দীঘি লীলাবতীর জল, ঔষধি বাগান, ছাতিম গাছের ছায়া, লেখার টেবিল, দেয়ালে টানানো প্রিয় ফটোগ্রাফি, বুকশেলফে সাজানো শত শত বই কিংবা প্রান্তরজুড়ে রাজহাঁসের দল- সবই আছে সেই আগের মতোই। শুধু নেই প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ। ২০১২ সালের আজকের এই দিনে দুরারোগ্য ক্যান্সারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নন্দিত এই কথাশিল্পী। এরপর ২৪ জুন নুহাশপল্লীর লিচুতলায় সমাহিত করা হয় এ দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এ লেখককে।
আজ হুমায়ূনতীর্থ নুহাশপল্লীতে নামবে ভক্ত-অনুরাগী ও সাধারণ দর্শনার্থীর ঢল। উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটালেও হুমায়ূন আহমেদের শুরু কবিতা দিয়ে। এর পর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখেছেন প্রতিভা ও সাফল্যের স্বাক্ষর। তিনি বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনকও বটে।
হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম কাজল। বাবা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। খ্যাতিমান লেখক, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্য লেখক।
১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই হুমায়ূন আহমেদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তার লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প, কবি, লীলাবতী, গৌরীপুর জংশন, এইসব দিনরাত্রি। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেটুপুত্র কমলা ইত্যাদি। টিভি নাট্যকার হিসেবেও তিনি ছিলেন জনপ্রিয়। আশির দশকের মাঝামাঝি তার প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ তাকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
১৯৭৩ সালে গুলতেকিন খানের সঙ্গে বিয়ে হয় হুমায়ূন আহমেদের। এই দম্পতির চার ছেলে-মেয়ে। তিন মেয়ে নোভা, শীলা ও বিপাশা আহমেদ এবং ছেলে নুহাশ হুমায়ূন। দীর্ঘ ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২০০৩ সালে তিনি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত হুমায়ূন।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন। মৃত্যুর আট বছর পরেও হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এখনও তাঁর বই বিক্রির শীর্ষে অবস্থান করেন তিনি।