স্টাফ রিপোর্টার
এবারের শীতে সাধারণ মানুষ বিপাকে। যেসব দিনমজুর শ্রেণীর মানুষ, তারাই কষ্টে আছেন শীতের প্রকোপে। সাংসারিক চাহিদা মেটাতে রাত পোহালেই ক্ষেতে-খামারে, হাওর-নদীতে, বালু-পাথর উত্তোলনে অথবা নানা কষ্টের পেশায় জড়িয়ে পরতে হয় তাদের। এমন দিনমজুরদের শীতের মওসুমে কষ্টের শেষ থাকে না। বালু-পাথর উত্তোলনের পেশায় হাজারো শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন। তাদের সংসারের জীবন-জীবীকা চলে অত্যন্ত কষ্টে।
সোমবার দিনের বেলায় ধারারগাঁও সুরমা নদীর বেড়িবাঁধের পাশে একদল শ্রমিক বন-পাতা দিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যায়। তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, শতাধিক বালু-পাথর শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করেন। অত্যন্ত দরিদ্র হলেও কাজ করে খেতে চান তারা। প্রতি জনে ৩-৪ শত টাকা করে দৈনিক উপার্জন করেন। কিন্তু শীতের মওসুমে অনেকে শীতবস্ত্র পায়, তারা কর্মক্ষেত্রে থাকায় পান না। তারা কারো কাছে কোনো সহায়তা চেয়েও যখন পাননি, তখন তারা নিজে পরিশ্রম করে চলতে ভাল পান বলে জানান।
এভাবে সুরমার উত্তরপাড় মইনপুর, সদরগড়, ডলুরা প্রভৃতি এলাকায় পাথর শ্রমিকেরা কাজ করে জীবন-জীবীকা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পাথর শ্রমিক আইয়ুব আলী বলেন, ৫ জনের সংসার চালাতে সারা বছর পাথরের কাজ করতে হয়। সরকারী বা বেসরকারী সাহায্যের জন্য চেষ্টা করলে, যখন পাবো না, তখন অনাহারে মরতে হবে। তাই নিজেরা কাজ করে উপার্জন করি।
বাগিছা খাতুন বলেন, শরীর-গতর ভাল থাকলে সারা বছরই পাথরের কাজ করি। শীতে কোনো সময় কম্বল পাইনি। এক কম্বলের জন্য সারাদিন বসে থাকতে হবে। এতে আমার সারাদিনের রোজগার নষ্ট হবে।
সহিদ মিয়া বলেন, আল্লাহ আমাদের সহায় থাকায় আমরা সুস্থ থেকে জীবন জীবীকা চালাচ্ছি। শীত-গরম সব মওসুমে পাথরের কাজ করে চলেছি। সময় নেই কম্বলের খবর লওয়ার। কেউ এনে দিতেও চায় না।
মহরম আলী বলেন, আমরা দিনমজুর মানুষ। কে আমাদের খবর নিবে। বিভিন্ন সময়ে সরকার অনেক কিছু দেয়, কিন্তু আমরা এর খবরও পাই না।