- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

কনসালটেন্ট ও টেকনোলজিস্ট না থাকায় সদর হাসপাতালের এক্স-রে রুম তালাবদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার
‘কনসালটেন্ট রেডিওলজি পদ শূন্য ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওলজি) পদ শূন্য থাকায় এক্স-রে করা সম্ভব হইবে না।’ এভাবেই সুনামগঞ্জ  সদর হাসপাতালের এক্স-রে রুমে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে এক্স-রে বন্ধ থাকার নির্দেশনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এক্স-রে রুমে গত দেড় মাস যাবৎ তালা ঝুলছে।
জেলার প্রধান এই হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগটি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। এক্স-রে রুমের দরজা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বাহির থেকে এক্সরে করতে হচ্ছে সবাইকে। বাহির থেকে এক্সরে করতে নানা ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন রোগীরা।
সদর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ   হলেও এক্সরে বিভাগের কনসালটেন্ট রেডিওলজি ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের শূন্য পদে পদায়ন না হওয়ায় রোগীদের এক্সরে সেবা দেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ  সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম।
বুধবার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর হাসপাতালের এক্সরে বিভাগের কনসালটেন্ট রেডিওলজি ডা. আলমগীর আহমদ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অবসর নিয়েছেন। এরপরই জুন মাসে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিও বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এর পর থেকেই সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক্সরে বিভাগের দরজা বন্ধ করে দেন।  
সদর উপজেলার গাগলি  থেকে আসা বুরহান উদ্দিন বলেন,‘ভাতিজাকে নিয়ে  আসছিলাম হাসপাতালে। তার পায়ে আঘাত লেগেছে। ডাক্তার বলেছেন এক্স-রে করতে হবে। তিনি আমাকে এক্স-রে  বিভাগের ৪ নং কক্ষে পাঠিয়ে দিছেন। কিন্তু গিয়ে দেখি রুমের দরজায় তালা লাগানো। কাউকে না পেয়ে আমি আবার ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি বলেন, এক্সরে মেশিন নষ্ট ,বাহির থেকে এক্সরে করে নিয়ে আসতে হবে। ’
পৌরসভার বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রউফ বলেন,‘ শালীর জামাইকে নিয়ে আসছি চিকিৎসা করতে। তার বুকে সমস্যা। এক্স রে করতে হবে। শুনেছি এক্সরে বিভাগে ডাক্তার নাই। আমি অশিক্ষিত মানুষ কোথায় গিয়ে এক্স রে  করাবো বুঝতে পারছি না।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন,‘এক্সরে বিভাগের কনসালটেন্ট রেডিওলজি ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শূন্য পদে নিয়োগ না হওয়ায় মাসের উপরে হবে এক্সরে বিভাগ বন্ধ রয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার নতুন একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আসছেন।
সিভিল সার্জন ডা.আব্দুল হাকিম বলেন,‘ এক্স-রে বিভাগের ডাক্তার অবসরে চলে গেছেন। একই সাথে মেডিকেল টেকনোলজিস্টও বদলী হয়ে যাওয়ায় এক্সরে বিভাগ বন্ধ ছিল। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একজন টেকনোলজিস্ট এনেছি। আজ বৃহস্পতিবার থেকে সদর হাসপাতালে এক্সরে করা সম্ভব হবে।

  • [১]