স্টাফ রিপোর্টার
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত হন সুনামগঞ্জ পৌরসভার তৎকালীন তিন বারের চেয়ারম্যান, মরমি কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র কবি মমিনুল মউজদীন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে মমিনুল মউজদীন স্মৃতি পরিষদ।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নিকট মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। এতে মমিনুল মউজদীন, তাঁর স্ত্রী তাহেরা চৌধুরী ও ছোট ছেলে কহলিল জিবরান ও গাড়িচালক কবির মিয়া ঘটনাস্থলে নিহত হন। গুরুতর আহত হয়েছিলেন মমিনুল মউজদীনের বড় ছেলে ফিদেল নাহিয়ান। সিঙ্গাপুরে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় এক টানা তিন বার চেয়ারম্যান থাকাকালে মমিনুল মউজদীন ছিলেন দলনিরপেক্ষ জনপ্রতিনিধিত্বের প্রবর্তক একজন রাজনীতিবিদ। প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের নিয়ে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল ‘গণঐক্য’ নামের সর্বদলীয় এক রাজনৈতিক মোর্চা। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, মাদকবিরোধী সামজিক আন্দোলনসহ সৃজনশীল নানা কর্মযজ্ঞে দেশে ও বিদেশে তিনি এক নামে পরিচিত ছিলেন।
পৌর চেয়ারম্যান থাকাকালে মমিনুল মউজদীন প্রায় দেড় দশক জোছনা রাতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সব স্ট্্িরট লাইটের বাতি নিভিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতেন। তাঁর এই উদ্যোগটি তখন দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। এ জন্য তিনি জোছনাবাদী কবি-জনপ্রতিনিধি বলে আখ্যায়িত হয়েছিলেন। ‘এ শহর ছেড়ে পালাব কোথায়’ ও ‘হৃদয় ভাঙার শব্দ’ নামে দুটো কাব্যগ্রন্থ রয়েছে তাঁর।