- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

কমানো যাচ্ছে না জনসমাগম

পুলক রাজ
দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। করোনা সংক্রমণের এই পরিস্থিতি বাংলাদেশেও ভয় জাগাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন যে হারে বাড়ছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরাও। তারা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরে থাকার বিকল্প নেই। এটা কঠোরভাবে মানতেই হবে। করোনা রোধে সরকারও সাধারণ ছুটি পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ঘরে থাকা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে প্রশাসন থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কমানো যাচ্ছে না জনসমাগম। প্রচারণা, অনুরোধ এমনকি জরিমানাতেও কাজ হচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন থেকে অপরিকল্পিত এবং বিশৃঙ্খল ত্রাণ বিতরণকালেও মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। এদিকে রবিবার সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরে শুরু হয়েছে খোলাবাজারে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি। এখানেও রয়েছে প্রচণ্ড ভিড়। কাচাবাজার ব্যাংক ও নিত্যপণ্যের দোকানেও দেখা যায় মানুষের সমাগম। একই অবস্থা বাজার, শহরের পাড়া, মহল্লা, অলি-গলি ও পয়েন্টে। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলছে স্বাস্থ্য বিভাগও। অনেকের আবার মুখে নেই মাস্ক। রিকশা, মটর সাইকেলে ২ জন ৩ জনকে অনেক সময় এক সাথে চলাফেরা করতে দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে দেখলে মানুষ সড়ক ফাঁকা করে চলে যায়। কিন্তু পুলিশ-সেনাবাহিনী চলে চলে গেলে আবার জটলা পাকিয়ে আড্ডাবাজি থেকে শুরু করে। রিকশা চালক, বালু-ইট-পাথর শ্রমিক সহ দিনমজুর শ্রেণির মানুষগুলো নিয়ম মেনে চলার ধারে কাছেও নেই।
রিকশা চালক কদর উদ্দিন বলেন, রিকশা না চালাইলে না খাইয়া মরতো হইবো। বাঁচতে গেলে আমার রিকশা চালানো লাগবো। আমি তো আর বইয়া বইয়া সংসার চালাইতাম পারতাম না।
মো. মাইনুদ্দিন বলেন, নভেল করোনা ভাইরাস পৃথিবীতে এখন মহামারি আকার ধারণ করছে। মৃত্যুর মিছিলে শতকরা হারে প্রথমে আছে ইতালি, এরপরের অবস্থান মানে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। তারপর যে হারে বাজার, দোকান, ব্যাংকে মানুষের ভিড় দেখছি, সেটা আমাদের জন্য খুবই ভয়ংকর ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই আসুন আমরা প্রযোজন ছাড়া ঘর থেকে না বের হয়ে নিজেকে নিরাপদ রাখি, পরিবারকে রাখি।
নিজে আগে সচেতন হই, অন্যকে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে দায়িত্ব পালন করি।
জেলা মহিলা পরিষদ সভাপতি গৌরী ভট্টাচার্য বলেন, নিয়ম মানুন। ঘরে থাকুন করোনা মুক্ত বিশ্ব করুন। যে স্থানে বেশি জনসমাগম হয় সেসব এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে তা সকলকে মানতে হবে।

  • [১]