- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ? প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়াতে হবে

২০২০ সনের ৮ মার্চ দেশে প্র ম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এক বছর গত হয়েছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুহার কমতে থাকায় জনমনে বেশ স্বস্তি ফিরে এসেছিলো। এই স্বস্তিদায়ক মনোভাব আরও বেড়ে গিয়েছিলো ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রায় শুরুর দিকেই প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কারণে বাংলাদেশে ভাকসিন আমদানি করতে পারায়। কিন্তু ঠিক এক বছরের মাথায় এসে এখন করোনা ভাইরাসে দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যুহার আবারও বেড়ে যাচ্ছে। করোনা নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক অনুমানই শেষ পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না। বলা হয়েছিলো এই ভাইরাস শীতে অনুকূল পরিবেশ পায় বলে শীতকালেই এর প্রকোপ বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা। গতবছরও শীতের শেষে বসন্তের মাঝামাঝি বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব হয়েছিলো। এবারও আবার বসন্তের সেই একই সময়ে করোনার আক্রমণ বেড়ে গেছে। তাই বলা যেতে পারে, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের যে ভ্যারিয়েন্টটি কার্যকর হয়ে উঠেছে সেটি গরম সহিষ্ণু। সুতরাং সামনের গ্রীস্মকালটি কী ভয়াবহ চরিত্র নিয়ে এই ভাইরাসটি প্রলয়ংকরী হয়ে উঠে তা নিয়ে জনমনে শংকা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।
অন্যদিকে ভ্যাকসিন নিয়েও শেষ কথা বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কারণ এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ কেবল বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে। এর কার্যকারিতার প্রমাণ পেতে অন্তত একটি বছর অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী কোনো কার্যকর ঔষধ আবিষ্কারেরও খবর নেই। তাই করোনা প্রতিরোধে ব্যক্তি সচেতনতার অন্য কোনো বিকল্প নেই। এই কথাটিই বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে বারবার বলা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশের জনগণের চালচলন দেখলে বুঝার উপায় নেই যে, এই সচেতনতা যথেষ্ট পরিমাণ তৈরি হয়েছে। বরং করোনা পূর্ববর্তী অবস্থার মতো সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে গেছে, একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা ছাড়া। ৩০ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার যে ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছিল, সম্ভবত এখন সেটি আর হচ্ছে না। আμান্ত হার বাড়তে থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলে দেওয়া সমীচীনও হবে না। সুতরাং করোনার কথিত দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় এখন থেকে অতিশয় সতর্কতা অবলম্বন ব্যতীত এই মহামারীর হাত থেকে বাঁচার উপায় নেই বলেই আমরা মনে করি। একদিকে যেমন জনগণকে ভ্যাকসিন গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হতে হবে পাশাপাশি যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস আবার শুরু করতে হবে। সেই তোতা পাখির মতো একই কথা বারবার আওড়াতে হবেÑ বার বার হাত ধোওয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, মাস্ক পরিধান করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাবেশ ঘটে এমন অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা, কাশি ও থু থু ফেলার শিষ্টাচার বজায় রাখা ইত্যাদি ইত্যাদি। মানুষের হাতে এই অভ্যাসগুলো ছাড়া এখন পর্যন্ত করোনা মোকাবিলার আর কোনো জাদুমন্ত্র নেই। লকডাউন হয়তো আর আসবে না। তবে মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য হয় সে বিষয়ে সরকার ও সরকারি প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। পিঠে বেঁধেছি কুলো আর কানে দিয়েছি তুলো, এমন ঢিলেঢালা মনোভাব দেখানোর সুযোগ নেই। ঘাড়ের উপর ভয়ংকর একটা কিছু ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন মনে করতে হবে সকলকে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও প্রস্তুতি নিতে হবে। গতবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে ভঙ্গুর ও দুর্নীতিপ্রবণ অবস্থা আমরা দেখেছিলাম এবার সেরকম দেখতে চাই না। এক বছরে অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়েছে। আমরা চাই সঞ্চিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করোনা মোকাবিলায় একটি দক্ষ স্বাস্থ্যকাঠামো এবার গড়ে উঠুক। সুনামগঞ্জ জেলা হাসপাতালকে করোনার চিকিৎসা-সেবার জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা আমাদের আরেকটি দাবি। জেলা সদর হাসপাতালের যে পুরনো অংশকে করোনা ইউনিট ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোসহ উপযুক্ত সংখ্যক চিকিৎসক এখন থেকেই প্রস্তুত রাখা হোক। মাঝারি ঝুঁকি সম্পন্ন রোগীদের জেলার বাইরে যাতে পাঠাতে না হয় তা নিশ্চিত করাটা প্রাথমিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

  • [১]