- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

করোনা উপেক্ষা করে গঙ্গা স্নান ও ওরস

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
করোনার বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে যাদুকাটায় গঙ্গা স্নান ও শাহ আরেফিনের আস্থানায় ওরস মোবারক পালিত হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণে গতবারের ন্যায় এ বছরও পণাতীর্থ পুণ্যস্নান বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। এরপরও এসেছেন অনেক পূণ্যার্থী। আজ ৯ এপ্রিল ভোর ৫.৫৭ থেকে ৬.৩৬ পর্য়ন্ত চলে এ পুণ্যস্নান। প্রতি বছর চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর রাজারগাঁও সংলগ্ন স্থানে এ পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে রাজারগাঁও এর নিকটবর্তী লাউড়েরগড় এলাকায় শাহ আরেফিনের ওরস হয়ে থাকে। করোনা নিয়ন্ত্রণে বিগত বছরের মতো এ বছরেও এই দুইটি অনুষ্ঠানকেই বন্ধ ঘোষণা করেছিল জেলা প্রশাসন।
জানা যায়, ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে পণাতীর্থের সূচনা করেন অদ্বৈত আচার্য প্রভু। লোকে তাঁকে গৌরআনা ঠাকুর বলে জানে। অদ্বৈত আচার্য (কমলাক্ষ) তাঁর মায়ের ইচ্ছে পূরণে পণ করে এ তীর্থের সূচনা করেন। ওই সময় সপ্ততীর্থ – গঙ্গা, সিন্ধু, সরস্বতী, কাবেরী, নর্মদে, যমুনা ও গদাবরী সপ্ততীর্থ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন প্রতি চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে তাঁদের আগমণ ঘটবে যাদুকাটা নদীর এ স্থানে।
অদ্বৈত আচার্য প্রভুর জন্মস্থান তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর তীরে নবগ্রামে। তবে নবগ্রাম যাদুকাটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু আগেই। বর্তমানে অদ্বৈত আচার্য প্রভুর মন্দির গড়ে উঠেছে নবগ্রাম সংলগ্ন রাজারগাওঁ এ। বছরে একবার অনুষ্ঠিত এ পণাতীর্থে সপ্ততীর্থের আগমণ ঘটে বলেই এটিকে সেরা তীর্থ হিসাবে অবহিত করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আজো চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীর এই সময়ে যাদুকাটা নদীতে বেড়ে যায় জলের ধারা। এই পুণ্যস্থানে দেশ ও বিদেশের লক্ষাধিক লোকের আগমণ ঘটে। সবাই এই পুণ্য সলিলার পূতঃবারিতে স্নান করে ধন্য হোন। নিজেকে করেন কুলুষমুক্ত। ভক্তরা এখানে তর্পণও করেন।
এদিকে লাউড়েরগড়ে অনুষ্ঠিত হয় হযরত শাহজালালের (র.) সঙ্গী হযরত শাহ আরেফিনের (র.) বার্ষিক ওরস মোবারক। প্রকৃত পক্ষে হযরত শাহ আরেফিনের (র.) মোকাম সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ে অবস্থিত হলেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসলমান নর-নারী ওরস মোবারকে আসেন এবং দূর থেকে মোকাম জিয়ারত করেন। দু’উৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকার হিন্দু -মুসলমানদের মধ্যে এক মহা মিলনমেলা দেখা যায়। ৩৬০ আউলিয়াদের মধ্যে হযরত শাহ আরেফিন (র.) হলেন একজন। শাহ আরেফিন (র.) অনেকের কাছে জিন্দাপীর হিসেবে পরিচতি। সুদূর অতীতকাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি বছর পণাতীর্থ মেলার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অগুণিত বাউল ফকির, সাধক, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আসেন হযরত শাহ আরেফিন (র.) এর স্মৃতি বিজড়িত স্থান দেখার জন্য। প্রতি বছর ওরস মোবারককে কেন্দ্র করে লক্ষাধিক ভক্ত আশেকানের সমাগম ঘটে এবং প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ওরস মোবারক। সাধারণ দর্শনার্থীরা আসেন শাহ আরেফিনের স্মৃতি বিজড়িত বাংলাদেশ আস্তানায় এবং সেখান থেকেই একবার চোখ দিয়ে পরখ করে নেন অদূরে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ে অবস্থিত শাহ আরেফিনের আস্তানার স্মৃতি চিহ্ন দিকে। কেউ আসেন মানত নিয়ে আবার কেউ দোয়া নেন কেউ বা মোকাম জিয়ারত করে চলে যান।
শাহ আরেফিন (র.) এর আস্থানার সাধারণ সম্পাদক আলম সাব্বির বলেন, করোনার বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে যাদুকাটায় গঙ্গাস্নান ও শাহ আরেফিনের আস্থানায় ওরস মোবারকে আসছেন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা।
তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন, পুলিশ চেষ্টা করছে। কিন্তু অনেকেই নানা পথে যাদুকাটার তীরে এসেছে। আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি অধিকাংশকেই ।

  • [১]