- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

করোনা পরিস্থিতিতে হোটেল শ্রমিকেরা বেকার

স্টাফ রিপোর্টার
করোনা পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়েছেন হাজারো হোটেল শ্রমিক ও রন্ধন শিল্পী। প্রায় আড়াই মাস ধরে পরিবারের ভরণপোষণ দিতে সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেকে। ইতোমধ্যে অসংখ্য পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু তাদের সহায়তায় কোনো সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেনি বলে জানান তারা। এই কারণে শ্রমিকেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায়।
সুনামগঞ্জ শহরে শতাধিক হোটেল রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দা প্রায় ৪শত শ্রমিক এবং বিভিন্ন উপজেলার আরো প্রায় ৬শত শ্রমিক শহরে এসে কাজ করতেন। করোনার ভয়াবহতায় এখন সবই বেকার জীবন যাপন করছেন। এই সংকটকালীন সময়ে ত্রাণের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট একবার আবেদন করা হয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের সুপারিশে সুনামগঞ্জ পৌরসভা থেকে শুধুমাত্র ৫ কেজি করে চাউল ৭০ জনকে দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া তারা আর কোনো ত্রাণসামগ্রী পাননি বলে জানান একাধিক শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার সকালে আলাপ হয় টানা ৪০ বছর যাবত হোটেল শ্রমিকের কাজ করছিলেন সতীশ চন্দ্র রায় নিখিল (৫২), ৩০ বছর যাবত কাজ করেছিলেন রঞ্জিত কুমার পাল (৫৫), ফারুক মিয়া (৩৮) ও ময়না রায় (৩৫) এর সাথে। তারা জানান, তাদের কেউ কেউ ৩০-৪০ বছর যাবত হোটেল শ্রমিকের কাজ করে আসছেন। এই পেশায় থেকে তাদের জীবনমান উন্নয়নের পথও খুঁজে পেয়েছিলেন। পরিবারের অনেকেই স্কুল-কলেজে অধ্যয়ন করছেন। কিন্তু হঠাৎ করে করোনার ভয়াবহতায় হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবই ল-ভ- হয়ে গেছে। সহায়-সম্পত্তি সবই শেষ হয়েছে। কোনো কোনো পরিবারে শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের চাহিদা মেটানোও সম্ভব হচ্ছে না। অভাব অনটনের পাশাপাশি সাধারণ রোগ-বালাই চিকিৎসা নেওয়ারও টাকা নেই। এরই মধ্যে চলে গেল রমজান ও ঈদ। জীবনে এই প্রথম ঈদে কোনো নতুন কাপড় কিনতে পারেনি কোনো শ্রমিকে। ঈদের দিন পরিবারের শিশুদের মুখে খাবার দিতে পারেনি অনেকে।
হোটেল শ্রমিক আবুল কালাম (৫৫) বলেন,‘আমি প্রায় ৪০ বছর যাবত হোটেলে শ্রমিকের কাজ করছি। আমার সংসারে রয়েছেন ৬জন। এরমধ্যে ২ ছেলে, ২ মেয়ে। সবাই স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করে। হঠাৎ করোনা ভাইরাস দেখা দেওয়ায় আমি এখন বেকার হয়ে পড়েছি।’
শাহরুখ মিয়া রন্ধন শিল্পী বলেন,‘আমার হোটেল বন্ধ থাকায় এখন মহাবিপদে আছি। আমার মতো অনেকেই সমস্যায় পড়েছি। আমাদেরকে কেউ সহায়তা দেন না।’

  • [১]