দেশে চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। বৃহস্পতিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় জেলা প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- সুনামগঞ্জের সর্বসাধারণের মাঝে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জেলাব্যাপী সমন্বিত প্রচারণা কার্যক্রম চালনা করেছে জেলা প্রশাসন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে জেলার সকল মসজিদে ৫ (পাঁচ) ওয়াক্ত নামাযের আগে ও পরে মাইকিং করা হচ্ছে, জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে প্রতি রাস্তায় এবং পাড়া মহল্লায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে । জেলা ব্যাপী ৪০০০০ হাজারের অধিক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে ১২ টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ১৩১ টি বেড করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই জেলায় এখন পর্যন্ত ১৭৩৮ টি পিপিই বিতরণ করা হয়েছে এবং ৫৬৫২ টি পিপিই বিতরণের জন্য মজুদ আছে। এ জেলায় ২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হবার পর জেলা বিগত ১২/৪/২০২০ ইং তারিখে সম্পূর্ণ লকডাউনে নেয়া হয়। এ জেলা বর্তমানে করোনা ভাইরাস সনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা ৬ জন। সকলেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসোলেশনে ভালো আছেন এবং তাদের সংস্পর্শে আসা সকলকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে এ জেলায় সরকারি, বেসরকারি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও পিপিই বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বর্তমানে নবনির্মিত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে বিদেশ হতে আগতদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০০ বেডের ধারণ ক্ষমতার কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত রাখার জন্য সেনাবাহিনী কাজ করছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেল ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে তাদের যাতায়াত এবং সাময়িক আবাসস্থলের ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন।
এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে ভীড় কমানোর জন্য বিভিন্ন জনবহুল কাঁচা-বাজার সমূহ সাময়িক স্থানান্তর করে বিভিন্ন খোলা মাঠে স্থাপন করা হয়েছে যেখানে ক্রেতা এবং বিক্রেতাগণ নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচা-কেনা করতে পারেন। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে বাজারে পণ্যের অবাধ সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজার সকল পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন অনৈতিক সুযোগ না নিতে পারে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সদা সতর্ক রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসনের পাঠানো পৃথক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় – করোনা ভাইরাস জনিত কারণে দেশব্যপী লকডাউন পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে। সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকল্পে সুনামগঞ্জের প্রান্তিক জনগণ দীর্ঘ সময় ধরে ঘরে অবস্থান করছে। অস্বচ্ছল জনগণ দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকায় যেন কোনো প্রকার কষ্ট ভোগ না করে সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকলের দোরগোড়ায় খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়ার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র্য যারা কর্মহীন, শ্রমহীন, অসহায় অবস্থায় রয়েছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ইতিমধ্যে যারা সুবিধাভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন তারা ব্যতীত যারা দৈনিক রোজগারের উপর নির্ভরশীল ছিলেন এমন দিন-মজুর, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ইটভাটা-বারকি-বালু ও পাথর মহাল শ্রমিক, অন্যান্য জেলায় চাকুরিরত নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীসহ করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় এবং আগত সকল মানুষকে এই তালিকায় প্রাধিকার দেয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী- “একটি মানুষও যেন না খেয়ে না থাকে এবং কেউ যেন একাধিক জায়গা থেকে সুবিধা প্রাপ্ত না হয়” –কে মূলমন্ত্র হিসেবে ধরে নিয়ে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয় – ইতিমধ্যে প্রস্তুতকৃত অগ্রাধিকার তালিকা অনুযায়ী জেলায় তিন পর্যায়ে মোট ১০৪৩৭৭ টি পরিবারকে মানবিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, ১০১১.৪৬ মেট্রিক টন চাল এবং ৯৭৫৫২ টি পরিবারের মধ্যে ৩৯১১১১৫ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল, ৩ কেজি করে আলু এবং ১ কেজি করে ডাল বিতরণ করা হচ্ছে, যা চলমান রয়েছে।
এছাড়া সরকারের নিয়মিত জনবান্ধব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১০ টাকা কেজি দরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৯১৫৯০ জন হত দরিদ্র্যের মধ্যে চাল বিক্রয় করা হচ্ছে। ৪ টি পৌরসভায় ওএমএস এবং মিল্কভিটা কর্তৃক প্রস্তুতকৃত শিশু খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি যথারীতি চলমান রয়েছে।
এছাড়া জেলায় টিসিবি নিযুক্ত ১৪ জন সক্রিয় ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদিত সবজি ও ফলমূলকে ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে যেন উৎপাদনকারী কৃষক ও উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে জড়িত সকলে ন্যায্যমূল্য পায় এবং বাজার স্থিতিশীল থাকে।
সকল প্রকার খাদ্য সহায়তা উদ্যোগ জেলার মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা/ কর্মীগণ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক গণের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে।
মধ্যবিত্ত যারা জনসম্মুখে ত্রাণ গ্রহণে অসংকোচ বোধ করেন তাদের জন্য “বাড়ি বাড়ি যেয়ে ত্রাণ, পৌছে দিবে প্রশাসন” –উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে। জেলা এবং উপজেলার খাদ্য সহায়তার হটলাইন নাম্বার সহ ৩৩৩ ও ৯৯৯ নাম্বার সমূহে নিজে সরাসরি বা পক্ষান্তরে যেকেউ ফোন করলে যাচাই পূর্বক তার বাড়ি যেয়ে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছে প্রশাসন।
সুনামগঞ্জ জেলায় মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি নিজ উদ্যোগে ১২০ টি পিপিই, ৪০০০ সার্জিকাল মাস্ক, ৪০ টি চশমা, ৭৫ টি টেস্ট কিট এবং ৮ টি ডিজিটাল থার্মোমিটার প্রদান করেছেন। মাননীয় সংসদ সদস্য সুনামগঞ্জ-১ জনাব মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ৬৮০০ টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন।
এছাড়া জেলা এনজিও ব্র্যাকের উদ্যোগে দিরাই উপজেলায় ৫৫৪৪ টি পরিবারের মাঝে ১৫০০টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যক্তির উদ্যোগে মোট ২১০৫০ টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি