বিন্দু তালুকদার
মঙ্গলবার ছিল সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বেশী তাপমাত্রার দিন। ওই দিন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ায় দিনের তাপমাত্রার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতেও ছিল অত্যন্ত গরম।
অত্যাধিক গরমের কারণে মানুষ যখন যন্ত্রণা ভোগ করছিল তখন মঙ্গলবার গভীর রাতে দুই বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ হা হুতাশ করে কাটান। কিন্তু ভোর ৬ টায় সময় আবারো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গ্রাহকদের ধারণা ছিল হয়তো কিছু সময় পর বিদ্যুৎ চলে আসতে পারে। কিন্তু বুধবার ভোর ৬ টা থেকে সোয়া ৯ টা পর্যন্ত টানা সোয়া ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না শহর ও আশপাশ এলাকায়। এতে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সুনামগঞ্জ আবাসিক বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ১৬ হাজার গ্রাহককে।
ভোরে বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের পানি সরবরাহ করতে পারে নি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার পানি গ্রাহকরা বুধবারের সকালের পানি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। এতে করে অনেকই বুধবার সকালের রান্না-বান্না ও গোসল করতে মহাবিপাকে পড়েন। কারণ বন্যার পর নদীর পানিতে পলি মাটি থাকায় রোগ বালাইয়ের ভয়ে নদীর পানি ব্যবহার করেন নি।
বুধবার সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছেন, ছাতক থেকে সুনামগঞ্জগামী ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের একটি অংশে ছাতকের বুরাইরগাঁও এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি (৩৩ কেভি লাইনের খুঁিট থেকে একটি জাম্পার পড়ে গিয়েছিল) দেখা দিয়েছিল। পরে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের অফিস থেকে লোকজন দিয়ে ত্রুটি খোঁেজ বের করে তা মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।
ছাতকের কাছে বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি দেখার পর জেলা শহর থেকে মেরামত করার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ছাতক বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকান্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক গ্রাহক। একাধিক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘ বুরাইরগাঁও এলাকা ছাতকের গোবিন্দগঞ্জের পাশে। সেই এলাকায় লাইনে কোন ত্রুটি ধরা পড়লে তা ছাতক বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন মেরামত করবেন। ছাতক অফিস সঠিক সময়ে দায়িত্বপালন করলে সোয়া ৩ ঘণ্টা সময় ১৬ হাজার গ্রাহকের ভোগান্তি পোহাতে হত না। প্রায়ই ছাতক অংশে ত্রুটি বিচ্যুতি দেখা দিলে তা সুনামগঞ্জ অফিসের লোকজন গিয়ে মেরামত করতে হয়। যার কারণে অনেক সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
শহরের হাছননগর এলাকায় বসবাসরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত বাবুল মিয়া বলেন, ‘বুধবার
ভোর থেকে সোয়া ৯ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়েই দিনের শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পৌরসভার পানি পাওয়া যায়নি। বাসার পানি মওজুদও ছিল না। কোন রকমে রান্না-বান্না করা সম্ভব হলেও গোসল না করেই বাসা থেকে বের হয়েছি। বাসার শিশুদের বার বার হাত পাখা দিয়ে বাতাস দিতে হয়েছে। ’
শহরের ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নজরুল ইসলাম শেফু বলেন,‘সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কিন্তু সুনামগঞ্জের লোডসেডিং কমছে না। আগে যেভাবে লোডসেডিং হত এখনও সেভাবে হচ্ছে। সুনামগঞ্জ ও ছাতক বিদ্যুৎ অফিসের অলস, অসৎ ও অদক্ষ লোকজনের কারণে আমাদের ভোগান্তি কমছে না। সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না, উল্টো ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। যুগ যুগ ধরে দুই বিদ্যুৎ অফিস আমাদের নানা অযুহাত দেখাচ্ছেন এবং দুর্ভোগ উপহার দিচ্ছেন। দিনের শুরুতে ভোর ও সকালে বিদ্যুৎ থাকে না এমনকি গভীর রাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।’
ছাতক আবাসিক বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার বলেন, ‘অতিরিক্তি গরমে পুরনো তার গলে যায় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। তবে যেহেতু ওই লাইনটি সুনামগঞ্জমুখি তাই সমস্যাটি প্রথমে ধরা পড়ে সুনামগঞ্জে। সেখান থেকে ত্রুটি খোঁজে বের করে সমাধান করতে হয়। সুনামগঞ্জের লোকজন আসে, খবর পেয়ে আমরা যাই। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করি গ্রাহকদের সেবা দিতে। আমরা সহযোগিতা করি না বলে অভিযোগ তোলে অযথাই লোকজন দোষারোপ করেন। কিছু দিন পরই সুনামগঞ্জ-ছাতক নতুন একটি লাইন চালু হবে। এই লাইন চালু হলে সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহে এধরনের কোন সমস্যা থাকবে না বলে জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন,‘ সেবা প্রদানে আমাদের কোন ধরনের গাফিলাতি নেই। ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ শহর পর্যন্ত ৩৩ কেভির ৬৮ কিলোমিটার মেইন লাইন রয়েছে। এই লাইনটি অনেক পুরনো। ঝড়-বৃষ্টি হলে বা একাধারে অনেক সময় বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তার ছিড়ে পড়ে যায়। বুধবার ছাতকের বুরাইরগাঁও এলাকার একটি খুঁিটর জাম্পার নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তা খোঁজে বের করে মেরামত করা হয়েছে। এজন্য কিছু সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।’ পুরাতন লাইন হওয়ায় এই সমস্যা দেখা দেয় বলে জানান তিনি।