পি সি দাশ, শাল্লা
হাওরের একেবারে তলানির উপজেলা শাল্লার পাঁচ কর্মকর্তা দুই বছর হয় কর্মস্থলে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকছেন। অথচ বেতন ভাতাসহ সরকারি সকল সুবিধা গ্রহণ করছেন এই কর্মকর্তাগণ। গুরুত্বপূর্ণ ৫ জন কর্মকর্তার অনুপস্থিত থাকার কারণে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। স্ব স্ব দপ্তরের উপকারভোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শাল্লার আলোচিত এই পাঁচ কর্মকর্তা হলেন- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পেয়ার আহমদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপন কান্তি পাল ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা কাজী আনোয়ার উল্লাহ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমানকে শাল্লায় কেউ দেখেছেন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিনি ২০১৮ সালে শাল্লায় যোগদানের পর থেকেই নিরুদ্দেশ। বহুবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (সদ্য বিদায়ী) আল মুক্তাদির হোসেন যোগাযোগ করেও কাজের কাজ কিছু হয় নি। উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের কর্মকর্তা আব্দুর রহমানেরও একই অবস্থা। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শাল্লায় যোগদান করার পর থেকেই কর্মস্থলে অনিয়মিত তিনি। বেতন নেবার তারিখে কেবল শাল্লায় আসেন এই কর্মকর্তা।
যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পেয়ার আহমেদ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শাল্লায় যোগদান করেন। তিনিও বাড়িতে বসেই বেতন গুণেন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপন কান্তি পাল ২০১৯ সালের অক্টোবরে যোগদান করার পর থেকেই অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনিও বেতন নিতে কেবল শাল্লায় আসেন। হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা কাজী আনোয়ার উল্লাহকে গত মে মাসে যোগদানের পর থেকে আর শাল্লায় দেখা যায় নি।
কাজী আনোয়ার উল্লাহ বললেন, ‘আমি বাসায় বসেই সকল কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমার কোনো কাজ আটকে থাকে নি।’
সোমবার বেলা ১১ টায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অফিসে গেলে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পেয়ার আহমদকে পাওয়া যায় নি।
অফিসের কর্মচারীরা বললেন, ‘স্যার বাহিরে আছেন।’ মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তা পেয়ার আহমদ বললেন, ‘মাঝে মধ্যে আমি কর্মস্থলে থাকি, শাল্লায় আসলে আপনাদের সঙ্গে দেখা করব। এই কথা বলে ফোন কেটে দেন।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপন কান্তি দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। তার অফিসের অন্য স্টাফরা বললেন, তিনি অসুস্থ।
উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের কর্মকর্তা (ইউআরসি) আব্দুর রহমান বললেন, ‘কর্মস্থলে থাকা হয়, তবে কোনো প্রশিক্ষণ না থাকায় এবং জাতীয় বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য কর্মস্থলে থাকতে পারছি না।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বললেন, ‘আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।’
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘শাল্লার ইউআরসিকে মাসে ১০টি উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করে রিপোর্ট পাঠানোর কাজ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি যদি কর্মস্থলে না থাকেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অসিম চন্দ্র বণিক বললেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অফিস করেন না, এটি সবাই জানেন, উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েও কিছু হয় নি। অন্যান্য কর্মকর্তার বিষয়ে জানা নেই। যদি এ ধরণের অভিযোগ সত্য হয়, খোঁজ খবর নিয়ে কেন তারা আসছেন না জানতে চাওয়া হবে।