- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঈনুল হক অনার্স কলেজের দুই ছাত্রীকে অধ্যক্ষ মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই দুই ছাত্রীকে সুনামগঞ্জ সদর হসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কলেজের শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
সদর হাসতপালে দুই শিক্ষার্থী জানায়, তাঁরা দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়েন। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার নির্বাচনী পরীক্ষায় তাঁরা অকৃতকার্য হন। শনিবার দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলতে অন্য আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁরাও কলেজে যান। এসময় অধ্যক্ষ মতিউর রহমান কলেজ প্রাঙ্গণে থাকা বাগান পরিচর্যার কাজ করছিলেন। নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীরা তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি
জানালে অধ্যক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তাঁর হাতে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে তাদের আঘাত করেন। এতে তারা দুইজন আহত হন। আঘাতের কারণে তাঁদের একজনের পায়ে এবং অন্যজনের পিঠ ফুলে গেছে।
কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান জানান, তাঁরা ২৫ থেকে ৩০ শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছিলেন। পরীক্ষার কথা বলতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর বাগবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে দুই ছাত্রীকে কোদালের হাতল দিয়ে আঘাত করেন। এসময় কলেজের নৈশপ্রহরীসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।
অধ্যক্ষ মতিউর রহমান অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই শিক্ষার্থীরা নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যানের অনুরোধে আবার ইংরেজি দুই বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা কেউই দ্বিতীয়বারের পরীক্ষাতেও উর্ত্তীণ হতে পারেনি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা শনিবার এসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে তাঁকে এক শিক্ষার্থী ধাক্কা দেয়। বিষয়টি দেখে কলেজের নৈশপ্রহরীসহ আরও কয়েকজন এগিয়ে এলে তাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এতে পড়ে কোনো শিক্ষার্থী আঘাত পেতে পারে। আমি কাউকে মারধর করি নি। এই অভিযোগ সত্য নয়।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সহিদুর রহমান বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে সদর হাসপাতালে গিয়ে ওই দুই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • [১]