স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কাজী শামছুল হুদা সোহেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা বেধরক মারপিট করেছে। তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটককৃত তিনজন মূল হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেছে। তাদেরকে হামলাকারী তরুণই নিয়ে এসেছিল বলে জানিয়েছে সন্দেহভাজন তিন তরুণ।
জানা গেছে, বুধবার সকাল পৌনে ১০ টায় শহরের ষোলঘর কাজির পয়েন্টের ভাড়া বাসা থেকে পাশের ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যাচ্ছিলেন কাজী শামসুল হুদা সোহেল। এসময় একটি বেসরকারি ক্লিনিকের সামনে থেকে একটি অটো রিক্সা থেকে নেমে একজন মুখোশধারী লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি ছিটকে পড়েন। পরে আরও কয়েকবার আঘাত করে তাকে।
এই ঘটনার সময়ই একটু দুরে তিন তরুণ দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখছিল। স্থানীয়রা ধর ধর বললে মুল হামলাকারী পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে উত্তর আরপিন নগরের মহিবুর রহমানের ছেলে রবিন মিয়া (২০), একই গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে মো. আকাশ (২২) ও একই এলাকার শহিদুল হকের ছেলে নিহারুল হক রবিন (২২) কে আটক করা হয়। আটককৃত তিনজনের মধ্যে মো. আকাশ ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছে মূল হামলাকারী ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের কাজীর হাটা গ্রামের ফারুক আহমদ মনোহর। তাকে ভুল বুঝিয়ে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।
ফারুক গত মঙ্গলবার রাতে সুনামগঞ্জ শহরে এসে পুরাতন বাসস্টেশনের হোটেল আল হেলালে দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ ভাড়া নেয়। রাতে এই কক্ষে আটককৃত তিনজনকে নিয়ে বৈঠক করে। সকালে তিনজন পুরাতন বাসস্টেশনে একসঙ্গে নাস্তাও করে। সেখান থেকে আলাদাভাবে কাজীর পয়েন্ট সংলগ্ন কাজী শামসুল হুদা সোহেলের বাসভবনের কাছে ওৎ পেতে থাকে। তিনি বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিলে মুখোশ পরিহিত ফারুক লোহার রড দিয়ে তাকে মাথায় আঘাত করে।
ঘটনার পর সন্দেহজনক তিনজনকে আটক করে পাশের সদর উপজেলা ভূমি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের তিনজনের মোবাইলেই হামলাকারী ফারুকের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সেভ করা রয়েছে।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি হামলাস্থলে এসে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় নানা সূত্রে আটককৃত তিন তরুণ সম্পর্কে অনেক তথ্যও জানতে পারেন তিনি।
এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আহত কাজী শামসুল হুদা সোহেল। তিনি জানান, জলমহাল, বালু মহাল ও বিভিন্ন স্থানে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার কারণেই হয়তো কোন ক্ষুব্ধ প্রভাবশালী মহল এই হামলা করিয়েছে। হামলার সহযোগীরা মূল হামলাকারীর পরিচয় আমার সহকর্মীদের কাছে স্বীকার করেছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন, সন্তেহভাজন তিন তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকেও আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুনেছি গ্রেফতারকৃতরা আমাদের সহকর্মীদের কাছে ঘটনায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আমরা এদেরকে পুলিশে দিয়েছি।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি। হামলার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। সরকারি কর্মচারীকে এভাবে মুখোশ পড়ে হামলার ঘটনাটি কঠোরভাবে দেখা হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, ঘটনাটি বেদনাদায়ক। আমি এসপি সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি। আইনগতভাবে এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।