- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

কাজির গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই

জেলার ৯টি বেসরকারি কলেজ একযোগে সরকারিকরণের ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো ২০১৬ সনে। কলেজগুলো হলোÑজামালগঞ্জ কলেজ, তাহিরপুরের বাদাঘাট কলেজ, ছাতক ডিগ্রি কলেজ, বিশ্বম্ভরপুর দীগেন্দ্র বর্মন ডিগ্রি কলেজ, শান্তিগঞ্জের পাগলা হাইস্কুল এন্ড কলেজ, জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজ, শাল্লা কলেজ, ধর্মপাশা কলেজ ও দোয়ারাবাজার কলেজ। উচ্চশিক্ষার জন্য এই সরকারিকরণের ঘোষণাটি ছিলো অভূতপূর্ব, যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার উন্নয়নে যেসব বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার কাছাকাছি দৃষ্টান্ত অতীতের কোনো সরকারের আমলে দেখা যায়নি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা; সকল জায়গায়ই রয়েছে উন্নয়নের ছুঁয়া। এ কারণে দেশে সাক্ষরতার হার বাড়াসহ মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের জায়গায় চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এখন মফস্বলের কোনো শিক্ষার্থীকে কলেজ পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বড় শহরে আসতে হয় না। নিজের এলাকায়ই এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারছে। এতে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ সরকার এজন্য বিশেষ প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু এতদসত্বেও কিছু কিছু জায়গায় দীর্ঘসূত্রিতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এইসব ভালো পদক্ষেপগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। শুক্রবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, জেলার যে ৯টি কলেজ একযোগে সরকারি করা হয় তারমধ্যে মাত্র ২টি কলেজের জাতীয়করণের কাজ চূড়ান্ত করা গেছে। অবশিষ্ট ৭টি কলেজের শিক্ষক কর্মচারিদের চাকুরি আত্মীকরণসহ বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান ও অন্যান্য কাজ এখনও শেষ করা যায়নি। সরকারিকরণের ৬ বছর পরও যদি এসব কাজ শেষ করা না যায় তাহলে বিষয়টি হতাশার বৈকি।
প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, সরকারিকরণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হওয়ায় বিভিন্ন কলেজে ইচ্ছানুরূপ টিউশন ফি আদায় করা হচ্ছে। সরকারি কলেজে যে টিউশন ফিস ২৫ থেকে ৩০ টাকা সেখানে জাতীয়করণকৃত এসব কলেজে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হারে টিউশন ফি আদায় করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষকরা জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম সহ শিক্ষকদের বেতনের অর্থ ছাড় না করায় তারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টিউশন ফি নিচ্ছেন। এসব কলেজে যখন অতিরিক্ত হারে টিউশন ফি গ্রহণ করা হচ্ছে তখন নিশ্চয়ই ভর্তি ফিস, সেশন ফিস, পরীক্ষা ফিস; সব জায়গায়ই এমন বেশি বেশি টাকা নেয়ার ঘটনা ঘটছে। জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে শিক্ষক-কর্মচারিরা একসাথে বকেয়া অর্থ পাবেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এই যে অতিরিক্ত ফি দিয়ে যাচ্ছেন তা আর কখনও ফেরত পাওয়ার সুযোগ হবে না। এটি এক ধরনের বৈষম্য। সরকার ও কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিৎ, শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে সরকারি হারেই যাবতীয় ফিস আদায়ের ব্যবস্থা করা।
কলেজ জাতীয়করণ হলেও শিক্ষক কর্মচারিদের চাকুরি জাতীয়করণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা রয়েছে। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যারা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আসেন তাদের সাথে এইসব নতুন জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকদের রয়েছে কিছু মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব। সম্ভবত এই দ্বন্দ্ব শিক্ষক-কর্মচারিদের চাকুরি জাতীয়করণের জন্য একটি বড় বাধা। তবে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে বিধিসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিৎ বলে আমরা মনে করি। যে শিক্ষকরা এখন সরকারি কলেজে চাকুরি করছেন তারা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি সরকারি নিয়মে না পাওয়া এবং দীর্ঘ ৬ বছরেও এ সমস্যার সুরাহা না হওয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এই জটিলতার দ্রুত অবসান কাম্য। নতুবা কাজির গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই এর মতো অবস্থা হয়ে কাক্সিক্ষত উচ্চশিক্ষার সফলতা প্রাপ্তির জায়গায় কেবলই হতাশ হতে হবে।

  • [১]