বিশেষ প্রতিনিধি
‘বান্দে বান্দে ডুবো ডুবো লাগি গেছে, ঔ যাইবোগি ঔ যাইবোগি, এমন হা-হুতাশ ভাব, পাগলা সময় যার, তিন দিনে ৭ দিনের ধান কাটছে হকলে, হকলের মাঝেই চিন্তা কাটলে আধা না কাটলে হুদা।’ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এলাকার বড় কৃষক ছত্তার মিয়ার মন্তব্য এটি।
ছত্তার মিয়া জানালেন, একেক কৃষক দিনে ২০-৩০ কেয়ার জমির ধান কাটছেন। কেউ কেউ মেশিন দিয়ে ধান কেটে মাড়াই শেষে জমিতেই প্রতিমণ ৬৩০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।
এই উপজেলার আরেক বড় কৃষক রাজনীতিবিদ অবনী মোহন দাস বললেন, ধান কাটার মেশিন ও ধান কাটা শ্রমিকের খরচ বেড়ে গেছে, কম খরচে বেশি ধান কাটতে গিয়ে এই অবস্থা হয়েছে।
দিরাইয়ের রাজাপুরের বড় কৃষক আব্দুস ছাত্তার বললেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ভয় লেগেছে, একদিনে চার দিনের ধান কেটে আনছে সকলেই। তাতে খরচ বেড়েছে কৃষকের। তিনি জানালেন, স্বাভাবিক অবস্থায় ধান কাটাতে একরে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা লাগলেও এখন লাগছে সাত হাজার টাকা।
শাল্লার কান্দিগাঁওয়ের কৃষক রফিক মিয়া বললেন, বেশি ধান একসঙ্গে কাটলেই সমস্যার সমাধান হয় না। কৃষকের ২০০ মণ ধান শুকানোর ব্যবস্থা আছে, কিন্তু ৬০০ মণ ধান শুকানোর দায়িত্ব পড়লে সেটি কিভাবে করবেন। এবার সেই অবস্থাই হয়েছে। নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক।
জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন বললেন, বুধবার শান্তিগঞ্জের খাই হাওর, জামখোলা, কাউয়াজুরি ও দেখার হাওর ঘুরে দেখেছি, সবগুলো বাঁধের উপরে সমানে সমানে পানি। বৃষ্টি হলেই সর্বনাশ হতে পারে। আমরা এখন ধান কাটতে তাগাদা দেবার কাজই করছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, জেলার ১২ উপজেলা মিলে বুধবার পর্যন্ত ৪৯ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। তার হিসাবে জেলার বৃহৎ হাওরগুলোর মধ্যে মইয়ার হাওরে ৯৫ শতাংশ, নলুয়ায় ৭০ শতাংশ, শনি ৪০ শতাংশ, মাটিয়ানে ৬০, করচায় ৯০ এবং হালির হাওরে ৫৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৫৭০ টি কম্বাইন হারভেস্টার তিনদিন ধরে হাওরে ধান কাটছে। এরমধ্যে এবার সরকারিভাবে পাওয়া গেছে ১৫০ টি, পুরোনো ছিল ২৯৪ টি, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছে ১২৫ টি। বুধবার ধান কাটার কাজে শ্রমিক ছিলেন প্রয় এক লাখ ৬৫ হাজার। শ্রমিক এবং মেশিন সকলেই কাজ করছে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিধ সাঈদ আহমদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও সুনামগঞ্জে বৃষ্টি আছে। শুক্রবার বৃষ্টি হবে। তবে উজানে মেঘালয়-চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কমবে।