স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদের ফল স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই ইউপির দুটি কেন্দ্রের চেয়ারম্যান পদের ভোট পুনর্গণনার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর এই ইউপিতে ভোট হয়।
কাঠইর ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্¦িতাকারী জাতীয় পাটির প্রার্থী মো. ফারুক মিয়ার একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই আদেশ দিয়েছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাঠইর ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নয়জন। এর মধ্যে ঘোষিত ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মো. শামসুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন এক হাজার ৭৯২ ভোট।
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ফারুক মিয়া লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন এক হাজার ৭৩৯ ভোট। মাত্র ৫৩ ভোটে পরাজিত হন ফারুক মিয়া।
ফারুক মিয়া জানান, ওই ইউপির শাখাইতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দিয়ে হঠাৎ করেই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা সেখান থেকে চলে যান। একই ঘটনা ঘটে ইউপির উলুতুলু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এব কেন্দ্রে তিনি যে পরিমাণ ভোট পেয়েছেন বলে দেখানো হয়েছে, তাতে তাঁর মনে হয়েছে ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে। তাৎক্ষণিক তার এজেন্টরা বিষয়টির প্রতিবাদ করেও কোনো ফল পাননি। শাখাইতি কেন্দ্রে চেয়ারম্যানদের ফলাফল এবং মেম্বারদের ফলাফল সিটে মোট ভোটের সংখ্যা দুটি উল্লেখ করা হয়েছে। গড়মিল রয়েছে ভোটের হিসাবে। এই দুই কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনার জন্য তিনি ওই দিনই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। পরবর্তীতে একইভাবে তিনি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। কিন্তু এতে কোনো সাড়া না পেয়ে সর্বশেষ তিনি ৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি রীট আবেদন করলে পরদিন শুনানি শেষে তাঁর আবেদন ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিস্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের আদেশ দেন হাইকোর্ট।
মো. ফারুক মিয়ার আইনজীবী মো. সুজাদ মিয়া জানান, হাইকোর্ট ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ওই দুটি কেন্দ্রে ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ সময়কালে ওই ইউপির চেয়ারম্যান পদের ফলাফল স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের আদেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বলেছেন, আমরা ফলাফল কমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছি। আদালতের কোনো আদেশ হলে সেটি কমিশনের আইন শাখা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।