- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

কামারখাল উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ সফল হোক

একসময়ে শহরের জল নিষ্কাশনের প্রধান পথ কামারখালে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ সফরে আসা পানিসম্পদমন্ত্রীর নিকট তহবিল চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সার্কিট হাউস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ইতোমধ্যে কামারখালের উপর অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তিনি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি খালের উপর অবৈধভাবে স্থাপিত স্থাপনা ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের জন্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। জেলা প্রশাসক শুধু কামারখালই নয় বরং দখল হয়ে যাওয়া জেলার অপরাপর খালগুলোও উদ্ধারের কথা বলেছেন মতবিনিময় সভায়। শহরের দীর্ঘতম খাল কামারখালটি উদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা শহরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। জেলা প্রশাসকের কণ্ঠে সেই দাবিই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসককে আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ।
পানি নিষ্কাশনের জন্য শহরব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল অনেক খাল ও নালা। প্রাকৃতিকভাবে এই খাল ও নালাগুলো শহরের পানি নিস্কাশনে রাখত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কালের পরিক্রমায় এইসব খাল ও নালার বৃহদাংশই দখল হয়ে গেছে। দখলিকৃত খালে গড়ে উঠেছে বাড়ি-ঘর-দোকানপাঠ, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। এরফলে শহরের পানি নিস্কাশনের প্রাকৃতিক উৎসটিও বন্ধ হয়ে যায়। পৌর এলাকার কিছু এলাকায় পাকা ড্রেন নির্মাণ করা হলেও এই ড্রেনগুলো পানি নিষ্কাশনে শতভাগ ভূমিকা রাখতে পারছে না। ড্রেনগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বহু এলাকায় নেই পাকা ড্রেনের ব্যবস্থা। ফলে বর্ষা মওসুমে নানা পাড়া মহল্লায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এদিকে পাকা ড্রেন নির্মাণ করতে অনেক অর্থ প্রয়োজন হয়। বিশেষ ধরনের প্রকল্প ছাড়া এ ধরনের ড্রেন নির্মাণ পৌরসভার পক্ষে সম্ভবপর নয়। এরকম অবস্থায় অতীতের খাল ও নালাগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার একটি বড় সমাধানের পথ উন্মুক্ত হত। জেলা প্রশাসক এই কঠিন কাজটি করে যেতে পারলে তিনি শহরবাসীর নিকট স্মরণীয় হয়ে থাকবেন নিঃসন্দেহে।
কামারখাল যে শুধু পানি নিষ্কাশনেই ভূমিকা রাখত তা নয়, বরং এই খালটি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারলে এটি হয়ে উঠত শহরের একটি দৃষ্টিনন্দন লেক যা শহরবাসীর বিনোদন সুবিধাসহ শহরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলত অনেক। আমরা জানি সরকারি সম্পদ যারা দখল করে তারা নানাভাবে প্রভাবশালী হয়ে থাকে। সুতরাং উচ্ছেদ কাজটি যে সহজ হবে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সরকার চাইলে যেকোন অবৈধ দখলই উচ্ছেদ করা সম্ভব। ঢাকার বিশাল হাতিরঝিল লেক এর বড় প্রমাণ। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা সমন্বিতভাবে শহরের নাগরিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা নিয়ে কাজ শুরু করলে দখলদারদের আইনের কাছে সহজেই নতি স্বীকার করানো যাবে। দরকার হলো কাজ ও উদ্যোগ শুরু করা। দখলদারদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসক একটি ধাপ শেষ করেছেন। এখন তিনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে জনসংযোগের কাজটি শুরু করতে পারেন। এ কাজে তাঁর প্রধান সহযোগী হতে পারে পৌরসভা। সম্প্রতি রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য দখল উচ্ছেদে আমরা পৌর কর্তৃপক্ষের বেশ কিছু ভাল পদক্ষেপ লক্ষ্য করেছি। কামারখাল বা অন্যান্য খাল পুনরুদ্ধারের বেলায় এই ধরনের অবস্থানই আমরা দেখতে চাই।
একটি খালকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে যে পরিমাণ আর্থিক বরাদ্দ দরকার তা মঞ্জুর করার জন্য আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।    

  • [১]