সু.খবর ডেস্ক
অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ চলাকালেই ধারাভাষ্যকার, ক্রিকেট সমালোচকরা তাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অন্যকম সেরা আবিস্কার বলে আখ্যায়িত করেন। যুবাদের বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট সেরা হনে এই অলরাউন্ডার। তবুও প্রথম টেস্টে তার অন্তভূক্তি নিয়ে টিপ্পনী কাটেন অনেকে। আল আমিন, যুবায়েরদের মতো বোলারদের বসিয়ে মিরাজ, কামরুলের মতো অল্প বয়সী ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ায় সমালোচনায় পড়েন নির্বাচকরা। তবে সকল সমালোচনার জবাবটা মাঠেই দিলেন মিরাজ।
বুঝিয়ে দিলেন কেন সাকিব আল হাসানের পরেই তাকে দেশ সেরা অলরাউন্ডার বলা হচ্ছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ব্যাট হাতে অবশ্য ফ্লপই হয়েছেন মিরাজ। তবে বল হাতে তার ধারেকাছেও ভিড়তে দেননি কাউকে। নিজের প্রথম দুই টেস্টে উইকেট সংখ্যায় বাঘা বাঘা ক্রিকেটারদের ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
অভিষেক সিরিজে দুই ম্যাচে চার্লি টার্নারের উইকেট ছিল ১৮টি। আজ সেটাকে টপকে গেছেন মিরাজ। দুই ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ১৯টি। আজ স্বদেশী এনামুল হক জুনিয়র ও সাকিব আল হাসানকেও টপকে গেছেন মিরাজ।
দেশ সেরা বোলিং ফিগারটি এখন তরুণ এই অফস্পিনারের। ১৫৯ রানে ১২ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে একাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন এই অফ স্পিনার। টাইগারদের হয়ে এতোদিন সেরা বোলিং ফিগারটি ছিল এনামুল হক জুনিয়রের।
২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০ রানে ১২ উইকেট নেন এনামুল। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নেবার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেন বামহাতি এই অফ স্পিনার। ১০ উইকেট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ১০ উইকেট নেন সাকিব।
অসাধারণ এই কীর্তির কারণে ম্যাচ ও সিরিজ সেরার পুরস্কারটা গেছে মিরাজের পকেটে। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীও এখন মিরাজ। এর আগে ১৮ উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিলেন এনামুল হক জুনিয়র। ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজে ১৫ উইকেট নেন পেসার রবিউল ইসলাম।
তবে একটুর জন্য ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর রেকর্ডটা ছুঁতে পারলেন না তিনি। ২৪ উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের কিংবদন্তী স্পিনার নরেন্দ্র হিরওয়ানি। জীবনের প্রথম দুই টেস্টে ২৪ উইকেট নেন এই বোলার।
ইংল্যান্ডের আলেক বেডসার জীবনের প্রথম দুই টেস্টে নেন ২২ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বব মেসি নেন ২১ উইকেট। তালিকার চতুর্থ নামটি মিরাজের। মিরাজের সাথে রয়েছেন ইংলিশ কিংবদন্তী সিডনি বার্নস। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে বার্নসও নেন ১৯ উইকেট।