বিশেষ প্রতিনিধি
করোনার সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নমুনা সংগ্রহের জন্য জেলায় কীটের চাহিদাও বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্তরা বলেছেন, কীটের অপর্যাপ্ততা রয়েছে জেলাজুড়েই। তবে উদ্যোমী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা নিজেদের উদ্যোগেই কীট সংগ্রহ করে নমুনা পরীক্ষার কাজ করছেন। জেলার বিশ^ম্ভরপুর, ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার এমন উদ্যোগের কথা জেলাজুড়েই সমাদৃত। এই তিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্বাস্থ্য বিভাগের পাওয়া কীটের চেয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই কীট সংগ্রহ করেছেন বেশি।
স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, মার্চ এর মাঝামাঝি সময় থেকে সুনামগঞ্জে করোনার নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। তবে কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে কোন কোন উপজেলায় দিনে ৩০-৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। ঈদের পর থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য কীটের চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদা অনুযায়ী কীট স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাচ্ছেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কীট সংগ্রহ করে কার্যক্রম চলমান রেখেছেন উদ্যোমী ডাক্তারগণ।
জেলার ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রাজিব চক্রবর্তী জানালেন, মার্চ এর মাঝামাঝি সময় থেকে সামান্য আকারে নমুনা পরীক্ষা শুরু করেন তারা। ঈদের আগে ৩০ থেকে ৪০ টা নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন প্রতিদিন হচ্ছে ৫০ টি’র উপরে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। রোববার পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তিনি ৩০০ এর মতো কীট পেয়েছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগ্রহ করেছেন আরও ৩০০ কীট। বর্তমানে তার উপজেলায় ৩০-৩৫ টি কীট রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে রোববার আরও ৫০০ কীট ঢাকা কিনে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। অর্ডারও করেছেন। মঙ্গলবারের মধ্যে পেয়ে যাবেন।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. জালাল উদ্দিন মুর্শেদ রুমি বললেন, ২০০ এর মতো কীট তিনি এই পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পেয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করেছেন আরও ২০০ কীট। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জরুরি তহবিল থেকে ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করা কীটের বিল দেবার চেষ্টা করবেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মধুসুদন ধর এই পর্যন্ত ৫০০ এর মতো কীট ব্যক্তিগত উদ্যোগে সরবরাহ করেছেন।
ডা. মধুসুদুন বললেন, কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে বেশি পরিমাণে নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন হলে কীটের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। তিনি জানান, তার উপজেলায় ৫০০ এর মতো কীট মওজুদ আছে।
সিভিল সার্জন ডা. শামছুদ্দিন বললেন, জেলায় কীটের প্রতিদিনের গড় চাহিদা কমপক্ষে ১০০ টি কীট। আমাদের কাছে স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া ৬০০’এর মতো কীট আছে। এই কীটে এক সপ্তাহ চলবে না। কোন কোন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কীট এনে রেখেছেন। আমাদের কাছে কীটের অপর্যাপ্ততা আছে। তবে সংকট নেই। আজ সোমবারই নতুন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কীটের চাহিদা পাঠাব। আশাকরি কীট চলে আসবে এবং সকল উপজেলায় সরবরাহ করা যাবে।