আকরাম উদ্দিন
মাটিতে গর্ত কুড়ে অন্তত ১৫ হাত গভীর থেকে বাকেট টেনে পানি তোলে কূয়া’র (ইন্দারা) পানি ব্যবহার করে আসছেন হাসাউড়া গ্রামের বাসিন্দারা। সংসারে রান্নার কাজে এবং খাবারের পানি হিসাবে ব্যবহার করছেন এই পানি। যুগ যুগ ধরে কূয়ার পানি ব্যবহার করে জীবন ধারণ করে আসছেন তাঁরা। এলাকাবাসীর নিরাপদ পানি সংকট মেটাতে এগিয়ে আসেননি সংশ্লিষ্টরা।
জেলায় ফলজ বাগের ঐতিহ্যবাহী এলাকা সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত হাসাউড়া গ্রাম। এই গ্রামে রয়েছে ৬শত পরিবারের বসবাস। গ্রামে কৃষিজীবী, চাকুরিজীবী, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজে পড়–য়া অসংখ্য শিক্ষার্থী রয়েছেন। যুগ যুগ ধরে নিরাপদ পানির সংকটে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন তাঁরা।
নিজেদের পানির চাহিদা মেটাতে স্থাপন করেছেন কম পক্ষে ৪০টি কূয়াসহ প্রায় ৩টি নলকূপ। যাঁরা নলকূপ বা কূয়া স্থাপন করতে পারেননি, তাঁরা ডোবার পানি ব্যবহার করছেন। এলাকার মানুষ এই কূয়ার পানি দিয়ে সংসারের সকল কাজ সেরে নিচ্ছেন। এমনকি খাবার হিসাবেও ব্যবহার করছেন কূয়ার পানি।
পানি সংকট মেটাতে মাটি কুড়ে কূয়া খনন করেছেন এলাকার বাসিন্দা হান্নান মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল মনাফ, ইদ্রিছ মিয়া, দুদ মিয়া, খুর্শিদ মিয়া, বারিক মিয়া, উস্তার আলী, বিলাল মিয়া, বাছিত মিয়া, শওকত আলীসহ আরও অনেকে। এলাকাবাসী জানান, কোনো কোনো কূয়ার পানি দুর্গন্ধ করে। তবুও পান করতে হয়। কেউ কেউ অনেক দুরে গিয়ে নলকূপের পানি আনেন। নলকূপের পানিতেও
আয়রণ বেশি। গ্রামের বাসিন্দা ফজর আলী ১টি নলকূপ স্থাপন করেছেন নিজের টাকায়। এই নলকূপের পানিও আয়রণযুক্ত।
এলাকাবাসী পানি সংকট নিরসনে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্মরণাপন্ন হয়েছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমি কয়েকবার ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে চেষ্টা করেছি। গ্রাম জুড়ে পাথর থাকায় কেউ নলকূপ দিতে চায়নি। তাই আর চেষ্টা না করে নিজে মাটিতে গর্ত কুড়ে কূয়া তৈরি করে পানি ব্যবহার করছি সাংসারিক কাজে ও খাবারের কাজে।’ একই কথা জানালেন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মনাফ।
রঙ্গারচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরব আলী বলেন, ‘আমার এলাকায় অনেক পরিবার আর্থিক অভাবে নিজেদের উদ্যোগে নলকূপ স্থাপন করতে পারেন না। সরকারীভাবেও নলকূপ পান না। তাই আসাউড়া গ্রামের বাসিন্দারা কূয়া’র (ইন্দারা) পানি খেয়ে জীবন ধারণ করছেন। এই গ্রামে নলকূপ স্থাপন করা অতি জরুরি।’