আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
হাওরের বোর ফসল রক্ষায় কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে প্রাণপণ চেষ্টায় রক্ষা পেল টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের নজরখালি বাঁধ। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে প্রথম ধাক্কায় যেন না ডুবে সে লক্ষে দেশের অন্যতম রামসার সাইট অন্যতম জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি, নাওটানা ও গনিয়াকড়ি বাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়। বৃহৎ এ টাঙ্গুয়া হাওরটিতে ২৪ হাজার ৭০৩ একর জলাভূমি থাকলেও হাওরের কান্দাগুলোতে প্রায় ৩ হাজার একর জমিতে টাঙ্গুয়া পাড়ের জয়পুর, গোলাবাড়ি, মন্দিয়াতা, রংচি, রুপনগরসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা বোর জমিতে চাষাবাদ করেছেন। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হাওরে প্রথম ধাক্কায় যেন পানি না ঢুকে সেজন্য কৃষকদের দাবির মুখে টাঙ্গুয়া হাওরের ৩টি বাঁধ মেরামতের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়।
গত দু’দিনে নদীতে আগাম পানি আসায় টাঙ্গুয়া হাওরের নজরখালি বাঁধটি টিকিয়ে রাখতে জয়পুর গোলাবাড়ি গ্রামের লোকজন রবিবার রাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত তারা স্বেচ্ছাশ্রমে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের গোলাবাড়ি গ্রামের খসরুল আলম জানান, টাঙ্গুয়া হাওটিতে ২৪ হাজার ৭০৩ একর জলাভূমি থাকলেও চাষাবাদের জমির পরিমাণ রয়েছে মাত্র ৩ হাজার একর। এই ৩ হাজার একর জমির মালিক হচ্ছেন তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের কৃষক। তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন এবং ধর্মপাশা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন। রবিবার রাতভর তাহিরপুরের গোলাবাড়ি ও জয়পুর গ্রামের লোকজনে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরমতের কাজ করেছে। সোমবার সকাল থেকে ধর্মপাশার রংচি, রুপনগর ও অন্যন্য গ্রামের প্রায় শতাধিক লোকদেরকে নজরখালি, নাওটানা ও গনিয়াকুড়ি বাঁধে কাজ করতে দেখা গেছে। তিনি আরও জানান, টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের গ্রাম গুলাবাড়ি ও জয়পুর গ্রামের কৃষকরা খাউজ্যাউরি হাওরে বোর জমি চাষাবাদ করেন। খাউজ্যাউরি হাওরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেরীবাঁধের ভিতরে পড়েছে।
তাহিরপুরে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সেলিম বলেন, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড টাঙ্গুয়া হাওর জলাভূমিকে পানি সংরক্ষণের ব্যাংক বলা হয়। হাওর এলাকার নদীগুলোতে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি গড়ালে তখন টাঙ্গুয়া হাওর জলাভূমিতে পানি প্রবেশের রাস্তা করে দেয়া হয়। এ জন্যই নজরখালি, নাওটানা ও গনিয়াকুড়ি বাঁধটি স্থায়ীভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক করা হয় না। যেটুকু করা হয় তা পানির প্রথম ধাক্কা ফেরানোর জন্য করা হয়।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, হাওরের বাঁধগুলো সরজমিন ঘুরে দেখেছি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন বাঁধগুলোতে কোন সমস্যা নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজাইন প্রাক্কলন বহির্ভূত টাঙ্গুয়া হাওরের নজরখালি বাঁধে একটু সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাঁধটি এলাকার লোকজনের স্বেচ্ছাশ্রমে টিকিয়ে রাখছে। তবে বড় ধরনের কোন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে তিনি জানান।