বিশেষ প্রতিনিধি
‘নদীর পানি যেলাখান আছে, অখন বৃষ্টি অইলে বাঁধ টিকা দায়, এর লাগি আধাপাকা ধানঔ কাটি লাইরাম, আজকে ছায়ার হাওরের ভেতরের সুলতানপুরের পাশের জোরগোলায় দুই কেয়ার ধান কাটছি, কালকে আরও কাটমু, আমার ১৫ কেয়ার ধান আমি কয়েকদিন সময় পাইলেঔ কাটিলিমু।’ শাল্লার ছায়ার হাওরপাড়ের ডুমরা গ্রামের কৃষক কনক কান্তি দাস অকাল বন্যায় ফসলডুবির আশংকা করে নিজের আধাপাকা ধান কাটার বর্ণনা এভাবেই দিচ্ছিলেন।
কেবল শাল্লার ছায়ার হাওরপাড়ের কনক কান্তি দাস নয়, জেলার অনেক হাওরেই কৃষকরা আধাপাকা ধান কাটছেন।
শাল্লার শুক্লাইন গ্রামের কৃষক টুনু চৌধুরী বললেন, এবার সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় খড়ায় নষ্ট হয়েছে ধান। এখন নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, যেটুকু ধান হয়েছে কেটে না আনলে এইটুকুও ডুবে নষ্ট হবে।
এই উপজেলার কান্দিগাঁওয়ের কৃষক হান্নান মিয়া বললেন, নদীর পানি বাড়ায় বাঁধের বাইরের আধাপাকা ধান কেটে নেবার চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জের দেখার হাওরপাড়ের গোবিন্দপুরের কৃষক সেলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন মিলে শনিবার সকাল থেকে হাওরে ধান কাটছিলেন। বললেন, ধানের শীষ ছোট হয়েছে। আবহাওয়া ভালো ছিলো না, বীজও মনে হচ্ছে ভালো ছিল না, যে ধান নয়—দশ ইঞ্চি হবার কথা, সেটি হয়েছে ৬ ইঞ্চি লম্বা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্পসারণ বিভাগের উপ—সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আলম বললেন, জেলার বিভিন্ন হাওরের কিছু ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। শুক্রবার পর্যন্ত ৫৬৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদরে ২০ হেক্টর, শান্তিগঞ্জে ৪৫ হেক্টর, দোয়ারাবাজারে এক হেক্টর, বিশ^ম্ভরপুরে দুই হেক্টর, জগন্নাথপুরে ১০২ হেক্টর, জামালগঞ্জে ১৪ হেক্টর, ধর্মপাশায় ৩০২ হেক্টর, ছাতকে তিন হেক্টর, দিরাইয়ে ৫০ হেক্টর এবং শাল্লায় ৩০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। উপ—সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আলম অবশ্য বলেছেন, ৮০ ভাগ পাকার পর ধান কাটতে বলা হয়েছে। তবে কোন কোন কৃষক ৬০—৭০ ভাগ পাকার পর ধান কেটে ফেলছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ—পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, উজানের পানিতে নদীগুলো টইটুম্বুর অবস্থায় থাকায় ৮০ ভাগ পাকার পর ধান কাটতে বলা হয়েছে কৃষদের। এরচেয়ে কমপাকা ধান কাটলে ক্ষতির মধ্যে পড়বেন কৃষকরা।