ধর্মপাশা প্রতিনিধি
মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের টাঙ্গুয়ার হাওরে রাঙামাটি অংশে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে আরও ১০০ হেক্টর বোরো জমির ফসল। গত মঙ্গলবার রাত থেকে ওই হাওরে বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করতে থাকে। বুধবার সকালে বাঁধের কয়েকটি অংশ ভেঙে পুরো হাওর পানিতে তলিয়ে যায়। আর এরই সাথে কৃষকদের স্বপ্ন নিমজ্জিত হয়েছে পানিতে।
গত ২ এপ্রিল তাহিরপুর উপজেলার নজরখালি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে মধ্যনগর উপজেলার মেঘনা, মুক্তারখলা, কুড়ির বিল, মরিচাকুড়ি, গইন্যাউড়ি ও ধর্মপাশা উজেলার চন্দ্রসোনার থাল হাওরের ডুবাইল বাঁধ ভেঙে ১ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এ তথ্য উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের। কিন্তু স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। গত রোববার তাহিরপুর উপজেলার গুরমার বর্ধিতাংশের ২৭ নম্বর প্রকল্পের বাঁধ ভেঙে গলগলিয়া, নয়হাল, কাওয়ারখাল, পানা, কাইজ্জাউড়িসহ কয়েকটি হাওরে ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। যার প্রভাবে মধ্যনগর উপজেলার হানিয়া কলমাসহ আরও কয়েকটি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যেতে পারে কৃষকের স্বপ্ন।
রাঙামাটি হাওরের কৃষক মার্টিন দাজেল বলেন, ‘নজরখালি বাঁধসহ টাঙ্গুয়ার হাওরের ছোট ছোট হাওরগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হলে আজ আমাদের এমন দুর্দিন দেখতে হতো না।’
একই হাওরের কৃষক চাঁন মিয়া বলেন, ‘ফসল হারানোর কষ্ট কাউকে বলে বুঝানো যাবে না। দুই সপ্তাহ ধরে চেষ্টা করেও বাঁধ রক্ষা করা যায়নি।’
আরেক কৃষক কামরুল হাসান বলেন, ‘ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলাম। কাঁচা ধান চোখের সামনে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে চলাই দায় হবে এখন।’
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরনবী তালুকদার বলেন, ‘অনেক চেষ্টার পরেও রাঙামাটি হাওরটি রক্ষা করা যায়নি। নজরখালি বাঁধ ভাঙার পরেই এই বাঁধটি ঝুঁকিতে পড়ে। আজ কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ১ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে হাওরের ৪৭.৫০% ধান কর্তন করা হয়েছে।’