- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

কৃষি ও কৃষককে রক্ষা করতে হবে

সুনামগঞ্জের বোরো ফসলহারা কৃষকদের আগামী মৌসুমের ফসল উৎপাদনে সহায়তা দানের জন্য সরকার সাড়ে আঠান্ন কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পুরো হাওরাঞ্চলে এই বরাদ্দের পরিমাণ ১১৭ কোটি টাকা। বরাদ্দের মধ্যে সবচাইতে বেশি অংশ সুনামগঞ্জের ভাগে এ কারণে যে এই জেলার ফসল হানির পরিমাণ অন্যান্য হাওর-জেলার চাইতে বেশি ছিল। সরকার এটিকে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচী নামে অভিহিত করেছেন। কর্মসূচীর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজ, সার ও নগদ টাকা দেয়া হবে। বলা বাহুল্য ক্ষতি ও ফসল ফলানোর জন্য অর্থচাহিদার তুলনায় এই প্রণোদনার পরিমাণ নিতান্তই কিঞ্চিৎকর। কিন্তু এই কিঞ্চিৎ বরাদ্দের গুরুত্ব কম নয়। কারণ এর মধ্য দিয়ে সরকার যে কৃষকদের পাশে রয়েছেন সেই বার্তা দিতে চেয়েছেন। এই কৃষক-বান্ধব মনোভাবের জন্য সরকারের প্রতি আমরা সবিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। এই প্রসঙ্গে আমরা কিছু বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সেটি হল কৃষকদের প্রণোদনা যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নিকট যথাযথভাবে পৌঁছায়। এখানে লাভের গুড় যাতে পিঁপড়ায় খেতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। ঘর পুড়া গরু আমরা। সবকিছুতেই সন্দেহবাতিকগ্রস্ততা আমাদের মাঝে স্বাভাবিকতা অর্জন করেছে। আমাদের মনে শুধু কুচিন্তা খেলে যায়। কৃষকদের কল্যাণে সরকার যে সাড়ে আঠান্ন কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এর অর্ধেকই আমলা-জনপ্রতিনিধিরা খেয়ে ফেলেন কিনা, এমন চিন্তা করার লোক কম নয় এই সমাজে। এই ধারণার পেছনে সমর্থনসূচক অতীত উদাহরণও আছে। আমাদের জেলায় এই ধরনের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচীর বরাদ্দ নিয়ে বিশাল হরির লুট দেখেছি আমরা দুই দশক আগে। তখন এ নিয়ে দুদকে মামলাসহ জড়িত কৃষি পুনর্বাসনের বড় কর্মকর্তারাও রেহাই পান নি। সুতরাং ভয় কিংবা সন্দেহ যাই বলুন, কোন কিছুই অমূলক নয়। এই সন্দেহ ও ভয় দূর করার দায়িত্ব বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহের। অদৃষ্টপূর্ব বোরো ফসল বিপর্যয়ের পর জেলার ভাগ্যবিড়ম্বিত কৃষককূলের দুর্দশা নিয়ে কেউ কোন ধরনের নেতিবাচক প্রবণতায় যাতে লিপ্ত না হন সেই কামনা আমাদের। দেশের ভিত্তি যাদের বিশাল কাঁধের উপর দাঁড়িয়ে আছে সেই কৃষককূলকে রক্ষা করতে না পারলে আমাদের সকল উন্নয়ন-পরিকল্পনা ফানুসের মতো উড়ে যাবে। কৃষি ও কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এ শুধু শ্লোগান নয়। বাংলাদেশের আর্থনৈতিক অবস্থায় এটি ধ্রুবসত্যস্বরূপ।
সরকার কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচীর পাশাপাশি ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজটিও একই সময়ে সংশোধিত নীতিমালার আওতায় বাস্তবায়ন করবেন। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বাঁধ নির্মাণের লক্ষে প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে জানা যায়। কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচীটিও তাঁর নেতৃত্বেই বাস্তবায়িত হবে। জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে জেলাব্যাপী একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণের কথার মধ্যেও আমরা একটি দৃঢ়চেতা মনোভাব লক্ষ করি, তাঁরা সকলেই এবার হাওরের ফসল রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এই সদিচ্চার জায়গাটিকে আমাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের কাজে লাগাতে হবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় যদি এবার আমরা হাওর ব্যবস্থাপনার একটি মডেল দাঁড় করাতে পারি তাহলে সেটি হবে বড় বিপর্যয় থেকে পাওয়া একটি বড় শিক্ষা।

  • [১]